পাকিস্তানকে নিয়ে আমেরিকার হিসাবের গলতিই কি কাবুলে তালিবান প্রবেশ ঘটাল! কিছু তথ্য একনজরে
পাকিস্তানকে নিয়ে আমেরিকার হিসাবের গলতিই কি কাবুলে তালিবান প্রবেশ ঘটাল! কিছু তথ্য একনজরে
বারুদের গন্ধে আর রক্ত বর্ষণে কার্যত তোলপাড় গোটা আফগানিস্তান। এই পরিস্থিতি মার্কিন সেনা আফগানিস্তানের বুক ছেড়ে চলে যাওয়ারক কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটে গিয়েছে। ধুলো উড়িয়ে আফগানিস্তানের বুরে এখন কেবল আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে সাম্রাজ্য দখলের নেশায় বুঁদ নারকীয় তালিবান বাহিনী। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে বিভিন্ন কারণের মধ্যে আমেরিকার এক কূটনৈতিক চালকেও অনেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। বিশেষজ্ঞ অরুণ কে সিংয়ের মতে পাকিস্তানকে নিয়ে আমেরিকার ঐতিহাসিক ভুলই এই সমস্যাক জটের মূল কারণ।

আমেরিকার কোন ভুলের মাশুল গুনছে আফগানিস্তান?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানে যাতে তালিবানরা মাথাচাড়া দিতে না পারে, তার জন্য আফগানিস্তানের প্রতিবেশী পাকিস্তানকে যতটা চাপ দেওয়া দরকার ছিল আমেরিকার তা দেয়নি বিগত ট্রাম্প সহ একাধিক প্রেসিডেন্টের প্রশাসন।
এদিকে, তালিবানের সমর্থন যে বহুদিন ধরেই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে ছিল , তা মার্কিন গোয়েন্দাদের অজানা নয়। ফলে আফগানিস্তানে পাকিস্তাবি সেনা আমেরিকার সঙঅগ হাত মিলিয়ে শান্তি রক্ষার চেষ্টা করলেও, তা আদতে হতে দেয়নি পাকিস্তানী প্রশাসন। এমন মত বহু বিশেষজ্ঞের। পাকিস্তানকে আফগানিস্তানের শান্তি ফেরানোর জন্য আমেরিকার তরফে যতটা চাপ দেওয়া দরকার ছিল , তা মার্কিন প্রশাসন না দেওয়াতেই ২০ বছর পর ফের কাবুলের বুকে তালিবানরা এসেছে।

জিনপিং, ইমরানের বর্তমান স্টান্স
তালিবানের ত্রাসে যখন আফগানিস্তানের তরুণীরা যৌন দাসত্বের আতঙ্কে কাঁপছেন, যখন সেদেশের নাগরিকরা হুড়মুড়িয়ে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে উড়ন্ত প্লেনের চাকা থেকে ঝুলে নিচে পড়ে মারা যাচ্ছেন , তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে তালিবানই আফগানিস্তানকে দীর্ঘ দাসত্বের বন্ধন থেকে মুক্ত করেছে। ইমরান খান বলেছেন, ' অনেকেই ভিন সংস্কৃতিক আদব কায়দায় মজা পান। মনে রাখতে হবে যে, অন্য কোন সংস্কৃতির আদব কায়দা কারোর ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা দাসত্বের সমান। ' এর সঙ্গেই ইমরানের বার্তা, আসল দাসত্বের তেকেও এই পরিস্থিতি কষ্টের ছিল। শিকল ভাঙা প্রয়োজনীয় ছিল। আর আফগানিস্তানে তাই হয়েছে। ফলে আমেরকার দিকে ইমরানের কোন ইঙ্গিত গিয়েছে , তা সম্ভবত বাইডেন প্রশাসন বুঝেছে, বলেই মত অনেকের। অন্যদিকে, ইমরানের দেশ পাকিস্তানের সঙ্গী চিনও তালিবানের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি! চিনের জিনপিং সরকার জানিয়েছে , তারা তালিবানের সঙ্গে বন্ধু্ত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী।

ফ্ল্যাশব্যাক আফগানিস্তান
২০০১ সালের নভেম্বরের ঘটনা। সেই সময় তালিবানের বিরুদ্ধে প্রবল সংহার রূপ নিয়ে আমেরিকার সেনা আকাশপথে একের পর এক তালিবান ঘাঁটি ধ্বংস করে। ১৩ নভেম্বর ২০০১ সালে কাবুল ছড়তে বাধ্য হয় তালিবান। সেই সময় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেছিল আমেরিকা। সেই সময় আফগানিস্তানের যা পরিস্থিতি ছিল, তাতে একজন পাশতুল নেতাকে সেখানে প্রশাসনিক মাথা হিসাবে প্রয়োজন ছিল। আর তার জন্যই হামিদ কারজাই মসনদে বসেন।

মেলেনি সুরাহা
কারজাই পশতুন নেতা হিসাবে আফগান মসনদে বসলেও, তাতে সুরাহা হয়নি। সরকার নতুনভাবে আফগানিস্তানে গঠিত হলেও, তাদের নির্ভরতা পাকিস্তানের ওপর ছিল। আর সেই জায়গা থেকেই অফগানিস্তানের উন্নয়নে পাকিস্তানের ওপর বহু ক্ষেত্রে খুবই নিভর করতে শুরু করে দেয় আমেরিকা। আর এখানেই আফগানিস্তানের বুকে সুপ্ত হয়ে থাকা তালিবান দমনে পাকিস্তানকে সঠিকভাবে চাপ দিতে আমেরিকা ব্যর্থ হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

সতর্ক করেছিল ভারত
তবে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছিল ভারত। বিশেষজ্ঞ অরুণ কে সিংয়ের মতে, ২০০১ সালে ভারতের বিদেশমন্ত্রী ছিলেন যশওয়ান্ত সিং। সেই সময় তিনি আফগানিস্তান ইস্যুতে আমেরিকার নির্ভরতা পাকিস্তানের দিকে যেতে দেখেই বলেছিলেন, 'সমস্যা কোনও দিনও কোনও কিছুর সমাধান হতে পারে না।' আফগানিস্তান পাকিস্তান সীমান্তে বাড়তে থাকা সন্ত্রাসবাদকে নজরে রেখেও আমেরিকা চুপ করেছিল। যে সন্ত্রাসবাদের বড় কারণ পাকিস্তান। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ অরুণ কে সিংয়ের মতে পাকিস্তানকে বন্দুদের তালিকাক আমেরিকা সবচেয়ে উপরে রাখবে , নাকি তাকে ফেলে দেবে শত্রুদের তালিকায় , তা নির্ধারণ করার সময় এসে গিয়েছে। তা না হলে , কাবুলের মতো শত শত করুণ পরিস্থিতি বিশ্বে বহু ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। এরপর তালিবানের সমর্থনে ইমরানের আজকের বার্তা নিয়ে বাইডেন প্রশাসন কোন স্টান্স নেয়, সেদিকে নজর সকলের।












Click it and Unblock the Notifications