নিজের বাড়িতেই খুন হতে হল হাইতির প্রেসিডেন্টকে, হাসপাতালে ভর্তি স্ত্রী
হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইসকে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে হত্যা করা হয়েছে। দেশের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, হাইতিয়ান প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইসের ব্যক্তিগত বাসভবনে আততায়ীরা ঢুকে প্রথমে হামলা করার পর হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে হামলার পরে মোইসের স্ত্রী তথা ফার্স্ট লেডি মার্টিন মোইস হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানান দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রিমিয়ার ক্লড জোসেফ। জোসেফ এই ঘটনাকে 'ঘৃণ্য, অমানবিক ও বর্বর আচরণ’ বলে মন্তব্য করেন এবং হাইতির জাতীয় পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ ক্যারিবিয়ান দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার গভার রাতে সময় দেশটির রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্সে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বাসভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে হাইতির প্রেসিডেন্ট ছিলেন ৫৩ বছর বয়সী জোভেনেল মইসি। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ওঠার পর দেশটিতে সরকার বিরোধী সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিল। তবে এই ঘটনার সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা যুক্ত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হাইতি পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র। এর সরকারি নাম হাইতি প্রজাতন্ত্র। ক্যারিবিয় সাগরের হিস্পানিওলা দ্বীপের পশ্চিম এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ে রাষ্ট্রটি গঠিত। দ্বীপের বাকি অংশে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র অবস্থিত। ১৮০৪ সালে হাইতি লাতিন আমেরিকার প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এটিই দাসদের সফল বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট একমাত্র রাষ্ট্র। হাইতি প্রথমে স্পেনীয় ও পরে ফরাসি উপনিবেশ ছিল। হাইতির সংখ্যাগরিষ্ঠ আফ্রিকান দাসেরা ফরাসি ঔপনিবেশিকদের উৎখাত করলে হাইতি স্বাধীনতা লাভ করে। পর্তোপ্রাস দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।
হাইতির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ইতিহাস দীর্ঘ। দেশটিতে অনেকগুলো স্বৈরশাসক শাসন করেছেন। এদের মধ্যে ফ্রঁসোয়া দুভালিয়ের নাম উল্লেখযোগ্য। ২১০০ শতকের প্রারম্ভে এসে হাইতি একটি গ্রহণযোগ্য সরকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করছে।












Click it and Unblock the Notifications