কাবুল থেকে পালিয়েছিলেন, আবুধাবিতে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি
কাবুল থেকে পালিয়েছিলেন, আবুধাবিতে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি
রবিবার তালিবানরা বিনা রক্তপাতে কাবুল দখল করে। নিজের প্রাসাদে বসেই সই সাবুদ করে তালিবানের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি। তারপর তিনিই হঠাৎ-ই গায়েব হয়ে যান৷ একদিন পর একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন দেশের মানুষের রক্তপাত এড়াতে তিনি দেশত্যাগ করছেন৷ এরপর থেকেই অনেকে ধন্দে ছিলেন কোথায় গিয়েছেন গনি? প্রথমে ভাবা হচ্ছিল তিনি উজবেকিস্তান কিংবা তাজিকিস্তানে যেতে পারেন! যদিও ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত ঘনির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি কাবুল নিউজ একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে আরব আমিরশাহীর রাজধানী শহর আবুধাবিতেই রয়েছেন প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি। আফগান সংবাদমাধ্যমের খবর প্রচুর অর্থ হেলিকপ্টারে চাপিয়ে নিয়ে গিয়েছেন গনি। কাবুলে রুশ দূতাবাসের মুখপাত্র নিকিতা ইশচেনকোকে উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে দেশ ছাড়ার সময় মোট চারটি গাড়িতে টাকা ছিল গনির। তারা অর্থের আরও একটি বড় অংশ হেলিকপ্টারে তোলার চেষ্টা করেছিলেন প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট কিন্তু এই পরিমান বিপুল টাকাপয়সার জায়গা হয়নি হেলিকপ্টারে। বাধ্য হয়ে কিছু টাকা নিজের প্রাসাদে ফেলে গিয়েছেন গনি।
ফেসবুক পোস্টে নিজের দেশে ছেড়ে পালানোকে সঠিক প্রমাণ করতে চেয়ে করে গনি লিখেছেন, তালেবানরা আমাকে একদম সরিয়ে দিয়েছিল। তারা এখানে সমস্ত কাবুল এবং কাবুলের জনগণকে আক্রমণ করতে এসেছে। রক্তপাতের বন্যা এড়ানোর জন্য, আমি ভেবেছি আমার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার ভালো।
আশরফ দেশ ছাড়ার পরই আমরুল্লাহ সালেহ নিজেকে আফগানিস্তানের 'কেয়ার টেকার' প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন। আফগানিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি, পালানো, পদত্যাগ বা মৃত্যু হলে এফভিপি তত্ত্বাবধায়ক রাষ্ট্রপতি হন। সম্প্রতি টুইটে সালাহ লেখেন, আমি বর্তমানে আমার দেশের ভিতরে আছি এবং বৈধ কেয়ার টেকার প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি অন্য নেতাদের সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য সকল নেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন আমরুল্লাহ সালেহ।
গনির দেশ ছাড়ার মাঝেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে আফগানিস্তানে৷ জালালাবাদে সরকারি ভবনে আফগান পতাকা সরিয়ে তালিবান পতাকা লাগানোর বিরোধিতা করে প্রায় ১০০ মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন৷ তাদের উপর নির্বিচারে গুলিয়েছে তালিবানরা। এই গুলি চালানোর ঘটনায় ৪০জন আফগান মানুষ গুলি লেগে নয়ত পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছে। এমনকী অধিকার হরণ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে মেয়েরাও৷












Click it and Unblock the Notifications