থেমে গেছে সরবরাহ! ভারত টিকার যোগান বন্ধ করতেই মৃত্যুমুখে গরিব দেশগুলি
থেমে গেছে সরবরাহ! ভারত টিকার যোগান বন্ধ করতেই মৃত্যুমুখে গরিব দেশগুলি
নতুন স্ট্রেন ও মারণব্যাধির কারণে উদ্ভূত অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাবে ইতিমধ্যে জেরবার সারা বিশ্ব। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বানভাসি ভারত। স্বভাবতই দেশের সকল নাগরিকদের টিকাদান সুনিশ্চিত করতে ডোজ রপ্তানি বন্ধ করেছে কেন্দ্র। এমতাবস্থায় প্রশ্নের মুখে বিশ্বের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলির ভবিষ্যৎ। বৃহত্তম ভ্যাকসিন উৎপাদকের এহেন সিদ্ধান্তে কোভিড যুদ্ধে আক্ষরিক অর্থেই 'তালপাতার সেপাই'-এ পরিণত হয়েছে হু!

"শুধুই মরার অপেক্ষায় বসে রয়েছি আমরা"
প্রথম ডোজ পেলেও ভারতের সরবরাহের অভাবে দ্বিতীয় ডোজ পাননি বহু নাগরিক। কেনিয়ার ট্যাক্সিচালক ওমন্দির বক্তব্য, "আমরা এখন শুধু মৃত্যুর অপেক্ষার করছি। আর কোনও পথই খোলা নেই আমাদের কাছে"। কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধিকর্তা প্যাট্রিক এমথের মতে, "ভারত দ্বিতীয় ডোজ পাঠালে এতদিনে আমরা টিকাকরণ শুরু করে দিতে পারতাম। আমরা ভারতের শুভ কামনা করছি। আপাতত ফাইজার ও জনসনের ভ্যাকসিন আমাদের নজরে রয়েছে।" জুন মাসের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৯ কোটি ডোজের ঘাটতি দেখা দেবে কোভ্যাক্স ফেসিলিটির আওতায়, মত ইউনিসেফের।

কোভিড বিস্ফোরণণে ধুঁকছে এশিয়া
নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমারের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার মত দেশে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারীবিদ পাণ্ডু রিয়নোর মতে, "এ বছরের মধ্যে প্রায় ১৮.১৫ লক্ষ নাগরিকের টিকাকরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার পেয়েছে মাত্র ৬৪ লক্ষ ডোজ।" স্বভাবতই ভারতকে ছেড়ে চিনের দিকে ঝুঁকছে অধিকাংশ দেশ। ইন্দোনেশিয়ার মত বাংলাদেশও চিন থেকে আমদানি করছে টিকা। সিরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ডের বদলে বহু দেশই রাশিয়ার স্পুটনিক টিকাকে বেছে নিচ্ছে বলে খবর আন্তর্জাতিক সূত্রে।

বিশ্বের ১৪% মানুষের ভাগ্যে ১% টিকা!
বিশ্বের সর্বনিম্ন টিকা গ্রহীতা দেশগুলির অধিকাংশই আফ্রিকায়। সারা দুনিয়ার প্রায় ১৪% মানুষের বাস আফ্রিকায় হলেও উৎপাদিত ভ্যাকসিনের মাত্র ১% জোটে গরীবতম মহাদেশের কপালে। ইথিওপিয়ার কোভিড মোকাবিলা পর্ষদের অধিকর্তা মেসেরেট জেলালেমের বক্তব্য, "ভারতের সিদ্ধান্তের কারণে ৯০ লক্ষ চাহিদার মধ্যে মাত্র ২২ লক্ষ টিকা দিয়েছে কোভ্যাক্স। এখন টিকার জন্য প্রত্যেক দেশের দোরে দোরে ঘুরতে হচ্ছে আমাদের!" এরই মধ্যে চিনের সিনোফার্ম প্রায় ৩ লক্ষ টিকা প্রদান করায় যে কিছুটা আশার আলো দেখেছে আফ্রিকা, তা বলাই বাহুল্য।

জি৭ বৈঠকের দিকে চেয়ে গোটা আফ্রিকা
সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেভাবে টিকাকরণ। ফলে বণ্টনব্যবস্থার জন্য যে নতুন কৌশলের প্রয়োজন, তা স্পষ্ট করেছেন আফ্রিকার স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এমফার্মা-র প্রধান গ্রেগোরি রকসন। ইতিমধ্যেই ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের আশা ছেড়ে চিন-রাশিয়ার ভ্যাকসিনের উপর ভরসা বাড়াচ্ছে পিছিয়ে পড়া দেশগুলি। অন্যদিকে ভ্যাকসিন দানের বিষয়ে জি৭ দেশগুলির দিকে তাকিয়ে রয়েছে আফ্রিকা। ইতিমধ্যেই হু-র তরফে কোভ্যাক্সে টিকা দানের আর্জি জানান হয়েছে মডার্না ও ফাইজারকে। বিশ্বে সমবণ্টনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের যে সর্বাগ্রে টিকাকরণ প্রয়োজন, সে কথাও সাফ জানান হু-র পরিচালন অধিকর্তা টেডরস আধানম ঘেব্রেসিস।












Click it and Unblock the Notifications