• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

করোনাভাইরাস: চীনের সরকারি গণমাধ্যমে এই সংকটের কী খবর বেরুচ্ছে?

  • By BBC News বাংলা

করোনাভাইরাস আতংক যখন সারা দুনিয়ার গণমাধ্যমে শিরোনাম দখল করে রেখেছে, তখন চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে এর খবর কীভাবে প্রকাশিত হচ্ছে?

চীনে ইংরেজী ভাষায় যেসব সরকারি সংবাদপত্র বা নিউজ পোর্টাল রয়েছে, সেগুলো দেখলে মনে হবে, পুরো চীন আসলে কার্যত করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে লিপ্ত।

করোনাভাইরাস: চীনের সরকারি গণমাধ্যমে এই সংকটের কী খবর বেরুচ্ছে?

তবে এই যুদ্ধের ইতিবাচক এবং উদ্দীপনামূলক খবরই কেবল আছে সেখানে।

জনযুদ্ধ

গ্লোবাল টাইমস, যেটিকে চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির অন্যতম মুখপাত্র বলে মনে করা হয়, তাতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চীনের এই যুদ্ধকে 'জনযুদ্ধের' সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

'ফাইটিং করোনাভাইরাস ইজ পিপলস ওয়ার' নামে এক নিবন্ধে পত্রিকাটি লিখেছে, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনগণ যেভাবে সামিল হয়েছে, সেটি সার্সের সময়েও দেখা যায়নি।

সরকারি বার্তা সংস্থা শিনহুয়ার ইংরেজি ওয়েবপোর্টাল শিনহুয়ানেট করোনাভাইরাস নিয়ে প্রচুর খবর এবং নিবন্ধ ছেপেছে। এর প্রায় সবই চীনের মানুষের 'বীরোচিত' লড়াইয়ের প্রশংসা করে।

নারীরাই সামনের কাতারে

একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম "উইমেন শাইন ইন চায়না'স এন্টি-এপিডেমিক ক্যাম্পেইন', অর্থাৎ চীনে মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নারীরাই সবচেয়ে উজ্জ্বল ভূমিকায়।

এতে বলা হচ্ছে, নারীরা যেরকম দৃঢ় প্রত্যয়, পেশাদারিত্ব এবং নিঃস্বার্থভাবে এই লড়াইয়ে সামিল হয়েছে, তার তুলনা নেই। চীনের নানা প্রান্ত থেকে ৩ হাজার ৪৭৬ জন নারী স্বাস্থ্য কর্মীকে উহানে পাঠানো হয়েছে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে।

প্রতিবেদনে লিউ লু নামের এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি তার কোমর ছাপানো চুল কেটে ফেলেছেন উহানে যাওয়ার আগে। "এরকম মূহুর্তে নিজেকে সুন্দর দেখানো আর গুরুত্বপূর্ণ নয়, রোগীদের এবং আমার নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ," বলেছেন লিউ লু।

শিনহুয়ানেটে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মুখে মাস্ক পরা এক নারী স্বাস্থ্যকর্মী তার স্বামীকে বিদায়চুম্বন দিচ্ছেন, স্বামীর মুখেও মাস্ক। চাও লিয়াও নামের এই নারী স্বাস্থ্যকর্মী যাচ্ছেন উহানে।

ভাইরাস ঠেকাতে ড্রোন

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কীভাবে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন আছে চায়না ডেইলিতে।

হেবেই প্রদেশের হানডানের একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে ড্রোনের মধ্যে জীবাণুনাশক ঢালছেন দুজন স্বাস্থ্যকর্মী। এই ড্রোন উড়ে যাবে শহরের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে, এরপর জীবাণুনাশক ছিটিয়ে সেসব এলাকাকে জীবাণুমুক্ত করবে।

জিয়াংশি প্রদেশের ইচুয়ান শহরে আরেক ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে শহরের বাসিন্দাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য। এই ড্রোনে আছে ইনফ্রারেড থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা। অনেক দূর থেকেই এটি লোকজনের শরীরের জ্বর আছে কিনা তা মাপতে পারে।

সম্প্রতি নাকি চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যাতে এক বৃদ্ধাকে মাস্ক না পরে বাইরে যাওয়ার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ার করে দেয়া হচ্ছে মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ড্রোন থেকে লাউডস্পীকারের মাধ্যমে।

পশ্চিমা গণমাধ্যমের সমালোচনা

যেভাবে পশ্চিমা গণমাধ্যমে করোনাভাইরাসের খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনাও চলছে চীনা গণমাধ্যমে।

গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত একটি কলামের শিরোনাম: 'ইজ সিম্প্যাথি টু মাচ টু আস্ক ফর ফ্রম দ্য ওয়েস্টার্ন মিডিয়া?" অর্থাৎ পশ্চিমা গণমাধ্যমের কাছ থেকে সহানুভূতি আশা করা কী খুব বেশি কিছু?

আরও পড়ুন:

চীনফেরত শিক্ষার্থী নিয়ে রংপুর মেডিকেলে তোলপাড়

থাইল্যান্ডে এক সেনা সদস্যের গুলিতে নিহত অন্তত ১২ জন

করোনাভাইরাস ঠেকাতে নতুন নিয়ম চালু করেছে হংকং

কলাম লেখক এতে পশ্চিমা গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যখন চীনের জনগণ তাদের দেশ এবং গোটা বিশ্বের জন্য এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তখন সহানুভূতি আর প্রশংসার পরিবর্তে পশ্চিমা গণমাধ্যমে চীনের এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে।

চীনারা এখন বাইরের দুনিয়ার কীরকম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, সেটি নিয়েও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হচ্ছে পত্রিকায়।

তবে চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে বলে পশ্চিমা গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, তার কোন প্রতিফলন নেই চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে।

BBC

English summary
Coronavirus: What news is coming out of this crisis in the Chinese public media?
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X