• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

করোনাভাইরাস: আতঙ্কের মধ্যেও অনেকে খুঁজছেন নতুন আশা

  • By BBC News বাংলা

ভারতের বিভিন্ন শহরে রোববার মানুষ তাদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিকিৎসাকর্মীদের সম্মানে হাততালি দিয়েছে।
EPA
ভারতের বিভিন্ন শহরে রোববার মানুষ তাদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিকিৎসাকর্মীদের সম্মানে হাততালি দিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির ভয়াবহতা নিয়ে মানুষ এখন দিন কাটাচ্ছে আতঙ্কে। সংক্রমণ বাড়ছে, মৃত্যুর হারও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বিভিন্ন দেশে ছোটবড় অনেক শহর অবরুদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে। বহু মানুষকে জনবিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

কিন্তু এই উদ্বেগপূর্ণ সময়ের মধ্যে মানুষ আশার আলোও দেখার চেষ্টা করছেন নানা খবরের মধ্যে।

১. দূষণ কমছে

করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশে লকডাউন অবস্থা জারি করার ফলে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

চীন এবং উত্তর ইতালিতে গাড়ি চলাচল ও কলকারখানার কাজ কমে যাওয়ায় বাতাসে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং শক্তিশালী রাসায়নিক উপাদান যা উষ্ণায়ন ঘটায় তার মাত্রা ব্যাপক হারে কমে গেছে।

নিউ ইয়র্কেও গবেষকরা বিবিসিকে বলেছেন প্রাথমিক গবেষণার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে মূলত গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন দেশে বিমান সংস্থাগুলো গণহারে বিমান চলাচল বাতিল করে দেয়ায় এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘর থেকে কাজ করার কারণে বিশ্বজুড়ে দূষণের মাত্রা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২. খাল পরিষ্কার হচ্ছে

একইভাবে, ইতালিতে ভেনিস শহরের বাসিন্দারা বলছেন ওই শহরের মধ্যে দিয়ে যে বিখ্যাত খাল বয়ে গেছে, যে খালের শাখাপ্রশাখার ওপর গোটা ভেনিস শহর দাঁড়িয়ে, সেই খালের পানির মানে ব্যাপক উন্নতি দেখছেন তারা। খালের পানি এখন অনেক পরিষ্কার।

উত্তর ইতালির যেসব রাস্তার উপরে জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণগুলো অবস্থিত, সেগুলো এখন করোনা উৎকণ্ঠার কারণে জনশূণ্য। ভেনিসে যেহেতু খালই যাতায়াতের পথ তাই খালের ব্যবহার উল্লেখেযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে পানির ভাসমান কণাগুলো নিচে থিতিয়ে পড়ে পানি পরিষ্কার হয়ে গেছে।

সাধারণত খালের পানি সেখানে খুবই ঘোলা থাকে। এখন পানি এতই পরিষ্কার ও স্বচ্ছ হয়েছে যে এমনকী সেখানে মাছের আনাগোনা চোখে দেখা যাচ্ছে।

ভেনিসে খালের পানি লকডাউনের পর আশ্চর্যরকম পরিস্কার হয়ে গেছে।
BBC
ভেনিসে খালের পানি লকডাউনের পর আশ্চর্যরকম পরিস্কার হয়ে গেছে।

৩. মানুষ সহাযোগিতার হাত বাড়াচ্ছে

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পাগলের মত বাজার করে মানুষের জিনিস মজুত করার, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য মারামারি করার নানা ঘটনা খবর হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এর উল্টো দিকে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর পৃথিবীর অনেক দেশে অনেক মানুষের মধ্যে পরোপকারের যে মানসিকতা তৈরি হয়েছে, তারা দয়ার হাত বাড়িয়ে দিতেও যে শিখেছে সেসব ঘটনাও খবরে এসেছে।

নিউ ইয়র্কে দুই ব্যক্তি ৭২ ঘন্টার মধ্যে ১৩০০ স্বেচ্ছাসেবক জোগাড় করেছেন যারা বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষদের বাড়ি বাড়ি খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিয়েছে।

ব্রিটেনেও বৃদ্ধ ও অসুস্থদের খাবার ও ওষুধ পৌঁছতে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছে কয়েক হাজার মানুষ। একইধরনের দলবদ্ধ গোষ্ঠিকে দেখা গেছে কানাডায় মানুষের সাহায্যে পথে নামতে।

অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটেনসহ পশ্চিমের বেশ কয়েকটি দেশে বড় বড় বিপনিবিতানে বৃদ্ধ মানুষদের বাজার করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে দেওয়া হয়েছে, যখন তারা ছাড়া আর কেউ বাজার করতে পারবেন না। যাতে তারা ধাক্কাধাক্কি এড়িয়ে শান্তিতে বাজার করতে পারেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপনি বিতানগুলো এখন শুধু প্রবীণদের কেনাকেটার জন্য বাজারে আলাদা এক ঘন্টা সময় আলাদা করে দিয়েছে।
BBC
অস্ট্রেলিয়ার বিপনি বিতানগুলো এখন শুধু প্রবীণদের কেনাকেটার জন্য বাজারে আলাদা এক ঘন্টা সময় আলাদা করে দিয়েছে।

প্রবীণ জনগোষ্ঠির জন্য অর্থ সাহায্য করা, তাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য ব্যায়ামের ব্যাপারে নানা উপদেশ পরামর্শ ও সাহায্য দেয়া এবং যারা পরিবারের সবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অর্থাৎ আইসোলেশনে দিন কাটাচ্ছেন তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য পৃথিবীর নানা দেশে নানাধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

অনেক দোকানপাটে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবার পর সেগুলো খাদ্য বন্টনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

৪. সবাই একই নৌকায়

সচরাচর কর্মস্থল আর দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক করে তুলেছিল। নিজের পরিবারের ভালমন্দের বাইরে ভাবার কারও সময় ছিল না।

এখন এই করোনাভাইরাসের ছোবল সবার ওপর এসে পড়ায় সবার মনেই কাজ করছে একইধরনের উদ্বেগ, একইধরনের ভয়। সারা বিশ্বের সব মানুষের সামনে এখন একটাই সমস্যা- একটাই উদ্বেগ- আমার সামনে কী? আর এই একই শত্রু সবাইকে সমান তারে বেঁধে দিয়েছে।

ইতালিতে গোটা দেশজুড়ে যখন লকডাউন চলছে, যখন শ'য়ে শ'য়ে মানুষ প্রতিদিন ভাইরাসে প্রাণ হারাচ্ছেন, যখন মানুষের আর কোথাও যাবার নেই, তখন সেখানে বাড়ির বারান্দায় বারান্দায় শোনা যাচ্ছে নিজেদের উদ্দীপ্ত করার জন্য মানুষ গান গাইছেন।

করোনাভাইরাস: মানুষের মনোবল চাঙ্গা করতে, মন খুশি রাখতে ইতালিয়রা গানবাজনার পথ নিয়েছেন।
BBC
করোনাভাইরাস: মানুষের মনোবল চাঙ্গা করতে, মন খুশি রাখতে ইতালিয়রা গানবাজনার পথ নিয়েছেন।

দক্ষিণ স্পেনে একজন শরীরচর্চ্চাা বিষয়ক শিক্ষক একটি অ্যাপার্টমেন্ট বাড়ির মাঝামাঝি নিচু একটি ছাদ থেকে ব্যায়াম শেখানোর ক্লাস শুরু করেছেন, যাতে ওই বহুতল ভবন কমপ্লেক্সে যারা নিজেদের আইসোলেট করে রেখেছেন, তারা তাদের ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে ওই ক্লাসে যোগ দিতে পারেন।

বহু মানুষ তাদের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে বেশি বেশি কথা বলছেন- ফোন করে, বা ভিডিওর মাধ্যমে তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন আগের তুলনায় অনেক বেশি, কারণ অনেকের হাতে এখন অফুরন্ত সময়।

অনেকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে গড়ে তুলেছেন ক্লাবঘর, সেখানে ফোনের মাধ্যমে চলছে তাদের ভার্চুয়াল আড্ডা।

Banner image reading more about coronavirus
BBC
Banner image reading more about coronavirus

শিবচরের এক প্রবাসী যেভাবে ছয়জনকে সংক্রমিত করেন

করোনাভাইরাস চিকিৎসার জন্য কি যথেষ্ট ভেন্টিলেটর আছে

করোনাভাইরাস: শঙ্কায় আর হয়রানির মুখে দেশে ফেরা প্রবাসীরা

সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে কেন অন্যের থেকে দু'মিটার দূরে থাকবেন

করোনাভাইরাস নিয়ে যেসব ভিত্তিহীন পরামর্শে আদৌ কান দেবেন না

দ্রুত ফুরিয়ে আসছে চিকিৎসা সামগ্রী, নিউ ইয়র্কে মারাত্মক পরিস্থিতির আশঙ্কা

Banner
BBC
Banner

করোনাভাইরাস মানুষের সঙ্গে মানুষের নতুন যোগাযোগের সূত্রই শুধু গড়ে তোলেনি, যেসব ডাক্তার, নার্স, ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ভাইরাসের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে মানুষের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন যারা তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করছেন, মানুষ তাদের কাজকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে।

ইউরোপের নানা দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই বাড়ির বারান্দায়, ঘরের জানালায় সমবেত হয়ে তাদের করতালি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

৫. সৃজনশীলতার নতুন জোয়ার

লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহবন্দী হয়ে পড়ার পর অনেকেই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সৃজনশীল হবার চেষ্টা করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ তাদের শখের খবর শেয়ার করছে। যেমন বই পড়া, কেক পাউরুটি বেক করা, উল বোনা, ছবি আঁকা। একইধরনের শখ যাদের আছে তারা সেসব নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

অনলাইনে বই পড়ার ক্লাব খুলেছে কেউ, ইনস্টাগ্রামে রান্না শেখানোর নানা আয়োজন চোখে পড়ছে। ঘরে আটকে আছে যারা, তারা নতুন নতুন রেসিপি শেয়ার করে নিজেদের সময় কাটাচ্ছে।

করোনাভাইরাস লকডাউনে শিশুদের ব্যস্ত রাখার জন্য বাবামায়েদের সাহায্য করতে তৈরি হয়েছে ফেসবুক গ্রুপ।
BBC
করোনাভাইরাস লকডাউনে শিশুদের ব্যস্ত রাখার জন্য বাবামায়েদের সাহায্য করতে তৈরি হয়েছে ফেসবুক গ্রুপ।

আমেরিকার টেনেসিতে একজন চারুকলার শিক্ষক স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া শিশুদের জন্য ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং-এর মাধ্যমে সৃজনশীল নানা কাজ শেখানোর ক্লাস করছেন।

ইউরোপের বেশ কিছু বিখ্যাত আর্ট গ্যালারি চিত্রকলা অনুরাগীদের জন্য বড় বড় চিত্রকলা যাদুঘরের ছবি দেখার জন্য অনলাইনে ভার্চুয়াল ট্যুর-এর ব্যবস্থা করেছে। কাজেই আপনি যদি চিত্রকলার সমঝদার হন, ঘরে বসেই অনলাইনে ঘুরে দেখতে পারবেন প্যারিসের লুভ যাদুঘর বা ভাটিকানের স্থাপত্যকর্ম।

সিডনির তারাঘর বা অবজারভেটরিও, যারা ঘরে আইসোলেশনে আটকে আছেন, তাদের জন্য ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে অনলাইনে রাতের তারাভরা আকাশ দেখার ব্যবস্থা।

BBC

English summary
Coronavirus: Many are looking for new hope even in scare
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X