আফগানিস্তানে তালিবান উত্থানে উদ্বেগ কাশ্মীরেও, কতটা লাভবান হতে পারে চিন-পাকিস্তান?
আফগানিস্তানে তালিবান উত্থানে উদ্বেগ কাশ্মীরেও, কতটা লাভবান হতে পারে চিন-পাকিস্তান?
আফগানিস্তানে তালিবান রাজ শুরুর পর থেকেই উদ্বেগ বেড়েছে ভারতেও। এদিকে গত দু-দশকেরও বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই রয়েছে ভারতের। সামরিক প্রকল্প থেকে শুরু করে পরিকাঠামো খাতেও আমেরিকার মতো ভারতও একাধিকবার আফগিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় এবার সেই আফগানিস্তানে তালিবান রাজ শুরু হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে কাশ্মীর নিয়ে।

উদ্বেগ বাড়ছে উপত্যকায়
এই ক্ষেত্রে মনে রাখা ভালো, গত কয়েক বছরে কাশ্মীরে পাক জঙ্গিদের দাপাদাপি অনেকটাই বেড়েছে। পরোক্ষ ভাবে পাকিস্তানকে সাহায্য করে চলেছে চিনও। এদিকে আফগানিস্তানে তালিবান উত্থানে সরাসরি সাহায্য করেছে পাকিস্তান-চিন দুই দেশই। যার সূদূর প্রসারী ছাপ পড়তে চলেছে আন্তর্জাতিক আঙিনায়। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানে ফের তালিবানের ক্ষমতা দখলে জম্মু-কাশ্মীর নতুন করে অশান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উদ্বিগ্ন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিজি
ওয়াকিবহাল মহলের মতে তালিবানের আফগানিস্তান দখল আদপে নিরাপত্তাজনিত বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে নয়া দিল্লির কূটনীতিকদের। তাদের আশঙ্কা তালিবানি ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আগামীতে জম্মু-কাশ্মীরে নতুন করে জঙ্গি গতিবিধিতে ইন্ধন জোগাবে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এমনকী তালিবানের ক্ষমতা দখলে উপত্যকার পরিস্থিতিও অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিজি এসপি বৈদ্য।

বাফার জোনেই বাড়ছে উদ্বেগ
এদিকে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে 'বাফার জোন' হিসেবে আজও রয়েছে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর। মূলত আইএসআই পরিচালিত জইশ ই মহম্মদ ও লস্কর ই তইবার জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির সিংহভাগই রয়েছে এই সমস্ত এলাকায়। কাশ্মীর সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে নাশকতামূলক কাজকর্ম পরিচালনা হয় এই অঞ্চলগুলি থেকেই। আফগানিস্তানে তালিবানে উত্থানে পাকিস্তানের শক্তি যে আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।

রাশিয়ার পাশাপাশি ইরান, তুরস্কও এখন তালিবানদের প্রতি নরম
এদিকে ১৯৯৬ সালে যখন তালিবানেরা আফগানিস্তানের মসনদে বসেছিল, তখন তাদের পাশে ছিল শুধু পাকিস্তান। এবারও রয়েছে পাকিস্তান, কিন্তু তাদের আরও শক্তি জোগাচ্ছে চিন। সহজ কথায় ভারতকে নিশানা করে শত্রুর শত্রু, আমার বন্ধু নীতিতে ধার দিয়ে তালিবানদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লিকে ঘায়েল করতে চাইছে বেজিং। এমতাবস্থায় পাকিস্তান মদতপুষ্ট সমস্ত জঙ্গি সংগঠনগুলিই আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে তা মানছেন সকলেই। এদিকে রাশিয়ার মতো মহাশক্তিধর দেশ এবং ইরান, তুরস্কও এখন তালিবানদের প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করছে।

তালিবানদের লক্ষ্যে নেই কাশ্মীর ?
যদিও সবেমাত্র পাওয়া খবর অনুযায়ী কাশ্মীর ইস্যুতে বর্তমানে খানিকটা হলেও অবস্থান পরিস্কার করেছে তালিবানেরা। এই মুহূর্তে তালিবানদের লক্ষ্যে নেই কাশ্মীর, এমনটাই খবর আন্তর্জাতিক সংবাবাদমাধ্যম সূত্রে। যদিও তালিবানের সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো জঙ্গি সংগঠনের যোগ অত্যন্ত পরিষ্কার। তাই পরিস্থিতি কোনদিকে যায় তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আর সমস্ত সঙ্কটের কথা মাথায় রেখেই গোটা উপত্যকা জুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা।












Click it and Unblock the Notifications