বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মেয়াদ শেষের পথে, এরপর ইউনূসের সামনে কী অপেক্ষা করছে?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষের পথে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূসের। আর এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন এরপর তাঁর গন্তব্য কোথায়?
রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরবেন, না কি একাডেমিক জগতে?
মেয়াদ শেষের প্রাক্কালে জল্পনা তুঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল সবখানেই গুঞ্জন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে কি কোনও সাংবিধানিক পদে দেখা যেতে পারে? বিশেষ করে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)এর নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নিতে চলেছে মঙ্গলবার, আর দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান কি ইউনূসকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে রাখার কথা ভাবছেন?

তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোনও পদ নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে তারেক রহমানের ভাবনায় রয়েছে "অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা" যেখানে দেশের সেরা মেধাবীদের কাজে লাগানোর ইচ্ছা স্পষ্ট। তাঁর কথায়, নির্বাচনের পর উপযুক্ত সময়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, আর সেই প্রেক্ষিতেই প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গেও কথা হতে পারে।
কবিরের ভাষ্য, "রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়। দেশের স্বার্থে যিনি যোগ্য, তাঁকেই সঙ্গে নেওয়া হবে।" যদিও তিনি বারবারই স্পষ্ট করেছেন এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট দায়িত্ব চূড়ান্ত হয়নি।
বাংলাদেশ বিষয়ক বিশ্লেষক ডেভিড বেরগম্যান সামাজিক মাধ্যমে মত দিয়েছেন, ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় সুবিধা পেতে পারে। তাঁর যুক্তি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইউনূসের মর্যাদা অনন্য, এমন বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা অন্য কোনও বাংলাদেশি নেতার নেই। দেশমুখী এক প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন এক রাষ্ট্রপতি এই সমন্বয় দেশের জন্য কার্যকর হতে পারে বলেও মত তাঁর।
যদিও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ মহল ও ইউনূসের দপ্তর দু'পক্ষই রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনার দাবি নাকচ করেছে।
ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে ইউনূস রাজনীতিতে থাকতে আগ্রহী নন। তাঁর লক্ষ্য, আগের কর্মপরিসরে ফিরে যাওয়া ও "তিন শূন্য" (দারিদ্র্য শূন্য, বেকারত্ব শূন্য, নেট কার্বন নির্গমন শূন্য) দর্শন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া। নতুন সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগ গড়ে তোলা ও তরুণদের সঙ্গে কাজ করাই তাঁর অগ্রাধিকার।
আলমের বক্তব্য, "তিনি দেশের এক সংকটময় সময়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ও স্থিতিশীলতার পথে দেশকে এগিয়ে দিয়েছেন। এখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে।"
এখনও পর্যন্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজে মুখ খোলেননি ইউনূস। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দেশের স্বার্থ ও তাঁর আন্তর্জাতিক মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনও প্রস্তাব এলে তিনি বিবেচনা করতে পারেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরই হয়তো স্পষ্ট হবে ইউনূসের পরবর্তী অধ্যায় তিনি কি আবার বিশ্বমঞ্চের অর্থনীতিবিদ, না কি বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় নতুন ভূমিকায় আবির্ভূত হবেন?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আপাতত জল্পনাই একমাত্র নিশ্চিত সত্য।












Click it and Unblock the Notifications