আমরুল্লাহ সালেহ নিজেকে তালিবান-রাজ আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন
আমরুল্লাহ সালেহ নিজেকে তালিবান-রাজ আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন
আমরুল্লাহ সালেহ নিজেকে আফগানিস্তানের 'কেয়ার টেকার' প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করলেন নিজেকে। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে আফগানিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের 'কেয়ার টেকার' প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি লিখেছেন, "প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি, পালানো, পদত্যাগ বা মৃত্যুতে আফগানিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের তত্ত্বাবধায়কই রাষ্ট্রপতি হয়।

নিজেকে আফগানিস্তানের 'কেয়ার টেকার' প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে আমরুল্লাহ সালেহ বলেন, আমি বর্তমানে আমার দেশের ভিতরে আছি এবং সেই হিসেবে বৈধ কেয়ার টেকার প্রেসিডেন্ট। আমি সব নেতাদের কাছে পৌঁছাচ্ছি। এবং তাঁদের সমর্থন ও ঐকমত্য নিশ্চিত করছি। আমরুল্লাহ সালেহ নিজেকে এভাবে প্রেসিডেন্ট জাহির করায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হল।
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ক্ষমতা হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গে দেশত্যাগ করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হামদুল্লাহ মুহিব এবং প্রশাসনিক কার্যালয়ের প্রধান ফজেল মাহমুদ ফাজলিরকে নিয়ে তাজাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তালেবানরা কাবুলে পৌঁছে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ দখল করে নেওয়ার পর আফগানিস্তানের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও ইসলামাবাদে পালিয়ে যান।
আফগান পার্লামেন্টের স্পিকার মীর রহমান রাহমানী, ইউনুস কানুনি, মুহাম্মদ মুহাক্ক, করিম খলিলি, আহমদ ওয়ালী মাসউদ এবং আহমদ জিয়া মাসউদ ইসলামাবাদে পালিয়ে গেলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ আফগানিস্তানে রয়ে যান। সেই হিসেবে নিজেকে আফগানিস্তানের কেয়ারটেকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন।
দুই দশকের ব্যয়বহুল যুদ্ধের পর মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করার দুই সপ্তাহ আগে তালিবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। আফগান নিরাপত্তা বাহিনী আমেরিকা এবং তার মিত্রদের দ্বারা প্রশিক্ষিত। তা সত্ত্বেও বিদ্রোহীরা সারা দেশে একের পর এক আক্রমণ করে, সমস্ত বড় শহর দখল করে নেয়। শেষে কাবুল দখলের পর পতন হল আফগান সরকারের।
এই অবস্থায় নিজেকে কেয়ারটেকার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করার সাহত দেখিয়েছেন আমরুল্লাহ সালেহ। তিনি ঘোর তালিবান-বিরোধী বলে পরিচিত। তাই তিনি আফগানিস্তানে তালিবান-রাজ শুরুর পরও নিজেকে কেটয়ারটেকার প্রেসিডেন্ট পরিচয় দিয়ে অসম সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। ঘোষণা করেছেন, প্রেসেডিন্ট যখন পলাতক, তিনিই আফগানিস্তানের কেয়ারটেকার প্রেসিডেন্ট।
এরই মধ্যে তালিবান প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বরদার একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে এসেছেন। তিনি দোহায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠকে ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি ফিরে আসেন আফগানিস্তানে। মোল্লা ওমরের সবথেকে বিশ্বস্ত কমান্ডারদের একজন তিনি। ২০১০ সালে দক্ষিণ পাকিস্তানের করাচি শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। ২০১৮ সালে মুক্তি পান তিনি। এখন তাঁর কাবুলে ফেরা আর আমরুল্লাহ সালেহর প্রেসিডেন্ট ঘোষণা সংঘাতের কারণ হয়ে উঠতে পারে আফগানিস্তানে।












Click it and Unblock the Notifications