তালিবান সঙ্কটে বেকায়দায় আমেরিকা, লাভের গুড় ঘরে তুলছে রাশিয়া! শক্তি বাড়ছে মধ্য এশিয়ায়
তালিবান সঙ্কটে চাপে আমেরিকা, মধ্য এশিয়ায় শক্তি বাড়ছে রাশিয়ার
গোটা আফগানিস্তানকেই ইতিমধ্যে নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে তালিবানিরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি। এদিকে সমগ্র আফগানিস্তান দখলের পর এখন সরকার গঠনে পুরোদমে তৎপরতা চালাচ্ছে তালিবান। এই অবস্থায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তকমা লেগে থাকা তালিবানিদের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে একাধিক দেশ। তালিবান সরকারকে ইতিমধ্যেই সমর্থন জানিয়েছে চিন, পাকিস্তান, রাশিয়ার মতো দেশগুলি। গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারতও।

বেকায়দায় আমেরিকায়
এদিকে তালিবান নিয়ে ইতিমধ্যেই বেকায়দায় পড়েছে আমেরিকা। আর তাতেই সুবিধা হয়েছে রাশিয়ার। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরে গেলে মধ্য এশিয়ায় অচিরেই ফের ক্ষমতা বাড়তে চলেছে পুতিনের। এদিকে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার রাশিয়ার জন্য যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তা ইতিমধ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কথায় চাপানৌতর
অন্যদিকে কার্যত তালিবানদের সমর্থনে গলা তুলতে দেখা গিয়েছে আফগানিস্তানে থাকা রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি জিরনভ। তাঁর মতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনির থেকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি অনেক ভালো রাখবে তালিবানরা। তাঁর এই মন্তব্যকে নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার চাপানৌতর শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রবিবার তালিবানিরা কাবুল দখলের পরেই মস্কভি রেডিও স্টেশনে দিমিত্রি জিরনভ কার্যত স্পষ্ট ভাষাতেই জানান, 'পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক শান্তিপূর্ণ রয়েছে। শহরের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হচ্ছে।প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের থেকে অনেক ভালো ভাবেই শাসন ক্ষমতা চালাবে তালিবানিরা'।

নজরে তাজাকিস্তান সীমান্ত
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাজাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্ত রয়েছে। এদিকে এই তাজাকিস্তানেই আবার রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি আছে। এমনকী এই দেশটিই আবার রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশান (সিএসটিও)-এর সদস্যও বটে। তাই রাশিয়ার সীমান্তাবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা অনেকাংশেই এখন তালিবানদের হাতে নির্ভরশীল।

পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে নব্বইয়ের দশক থেকে
যদিও ২০০৩ সাল থেকে রাশিয়ার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকায় রয়েছে তালিবানেরা। এখনও সেই তালিকায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। এমনকী বিগত শতাব্দীর শেষেও আফগানিস্তানে ১০ বছর যুদ্ধ চালিয়েছে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। পরে ১৯৮৯ সালে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ওই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে তারা। যদিও গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে সেই সময় রাশিয়ার প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এমনকী পরবর্তীতে ন্তর্জাতিক পর্যায়ে আফগানিস্তানকে তুলে ধরার ব্যাপারে মধ্যস্থতাকারীর কাজ করেছে মস্কো। একাধিকবার আলেচনাতেও বসেছে তালিবানিদের সঙ্গে।

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে তুরষ্ক
এদিকে চিন-রাশিয়ার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে তুরষ্কও। এদিকে এই তুরষ্ক আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের সদস্য। বর্তমানে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিচ্ছে তুরস্ক। সেই তুরষ্কই রাশিয়ার হাত ধরে তালিবানকে প্রাধান্য দেওয়ায় তা যে কূটনৈতিক ভাবে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য তা মানছেন সকলেই। এদিকে আমেরিকার সঙ্গে জোটে থাকলেও রাশিয়ার সঙ্গে কোনোকালেই সম্পর্ক খারপ ছিল না এই দেশটির।












Click it and Unblock the Notifications