বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু প্রাক্তন মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেমে এলো শোকের ছায়া। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ঠিক প্রাক মুহূর্তে কারাগারে অসুস্থ হয়ে প্রয়াত হলেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন।
জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে দিনাজপুর জেলা কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ৮৬ বছর বয়সি রমেশ চন্দ্র সেন। দ্রুত তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন রমেশ চন্দ্র সেন। শনিবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ আচমকাই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দিনাজপুর জেলা জেলের সুপার ফারহাদ সরকার জানান, "১৭ অগাস্ট তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে আনা হয়েছিল। এর আগেও তিনি অসুস্থ ছিলেন। শনিবার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে পাঠানো হয়, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।"
১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে জন্ম রমেশ চন্দ্র সেনের। বাবা ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন ও মা বালাশ্বরী সেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রবীণ নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন তিনি। হাসিনা সরকারের আমলে জলসম্পদ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি দলের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।
সংসদীয় রাজনীতিতেও তাঁর প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রমেশ চন্দ্র সেন। ১৯৯৭ সালে ঠাকুরগাঁও ১ আসনে উপনির্বাচনে প্রথম জয়, এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ একটানা একাধিকবার ওই কেন্দ্র থেকেই সংসদে পৌঁছন তিনি। তবে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ২০২৪ সালের অগাস্টে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, তাঁর মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, ভোটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তারা পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক জীবনের অবসান নয়, বরং নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।












Click it and Unblock the Notifications