আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির পদত্যাগ, কাবুল পতনে তালিবানদের হাতে ক্ষমতা
আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির পদত্যাগ, কাবুল পতনে তালিবানদের হাতে ক্ষমতা
আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি অবশেষে পদত্যাগ করলেন। এবং সেইসঙ্গে শুরু হয়ে গেল আফগানিস্তানে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া। তালিবানরা বিনা যুদ্ধে কাবুল দখলের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করল। সমঝোতার মাধ্যমেই হস্তান্তর হল ক্ষমতা। কাবুলে হামলা না হওয়ার শর্তে আফগান প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা হ্স্তান্তরে সহমত হন।

আফগান প্রেসিডেন্টের বাসভবনে তালিবান নেতা আবদুল গনি বরাদরের সঙ্গে আলোচনা হয়। আলোচনায় ছিলেন কাতার এবং আমেরিকার কূটনীতিবিদরা। প্রেসিডেন্টের বাসভবনে চুক্তি হয়েছে- কোনও হামলা নয়, দেশে শান্তি স্থাপন করতে হবে। তাহলে তালিবানদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।
তালিবানরা কাবুল দখল নেওয়া পর, অধিকাংশ দূতাবাস তাদের কূটনীতিকদের সরিয়ে নিতে শুরু করে দেয়। রাশিয়া অবশ্য দূতাবাস সরায়নি। এদিকে, পাকিস্তান তার সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে পাকিস্তানে।
তালিবানরা মাজার-ই-শরিফ ও জালালাবাদ দখল করে নেওয়ার পর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল আফরাফ গনির পতন। পতনের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। রবিবার তালিবান সেনারা চারদিক থেকে ঢুকে পড়ে কাবুলে। জালালাবাদের মতো কাবুলও বিনাযুদ্ধে তালিবানরা দখল করে নেয়।
আফগানিস্তানের আশরাফ গনি সরকার আগে থেকেই সমস্ত দফতর খালি করে দিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্যান্য দেশ নিজেদের দূতাবাস খালি করে দেয়। তারপর পরিস্থিতিও বলছিল আফগানিস্তানে পতন হতে চলেছেন গনি সরকারের। কেননা আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণের পর থেকেই জনসমক্ষে আসেননি।
জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে গনি বলেছিলেন, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য। ক্ষমতা ধরে রাখা তাঁরা কাছে গৌণ। এরপরই মাজার-ই-শরিফ দখল হয়ে যায়। আর তারপর থেকে আশরাফ গনিকে জনসমক্ষে আর দেখা যায়নি। তাঁর দেশত্যাগের জল্পনাও তুঙ্গে ওঠে। এদিকে তালিবানরা চায়নি ক্ষমতা হস্তান্তর গায়ের জোরে হোক। তারা চেয়েছিল সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হোক।
উভয় পক্ষই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সাদারণ মানুষ যাতে হিংসার বলি না হন, তার জন্য যুদ্ধ এড়িয়ে সমঝোতার রাস্তায় হেঁটেছেন। কাবুলের মানুষের জীবন বিপন্ন করে ক্ষমতা চান না তালিবানরা। তাই শহরের বাইরে যোদ্ধদের অপেক্ষা করতে নির্দেশ দিয়েছিল তালিবানরা। আফগানরা সমঝোতার শর্তে রাজি হতেই তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করে নেয়। শুরু হয় হস্তান্তর প্রক্রিয়া।












Click it and Unblock the Notifications