• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

ফিরে দেখা ২০২০:‌ ১২ মাসে ১২টি খবর, যা বদলে দিয়েছে দেশের ভাগ্য

২০২০ সালকে যদি অন্য বছরের সঙ্গে যদি তুলনা করি তবে অন্যায় হবে। স্প্যানিশ ফ্লুয়ের প্রায় একশো বছর পর ফের বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে, জাতি বা গায়ের রঙের প্রতি অশ্রদ্ধা, মৃত্যু মিছিল, অর্থনৈতিক মন্দা সবকিছু মিলিয়ে ২০২০ সাল মানব জাতিকে বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে দিয়েছে। আর এই কারণের জন্য মানুষের মনে দগদগে আঘাতের মতো স্মৃতি হয়ে থাকবে এই সালটি। বিশেষ করে নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে যেভাবে আর্থিক পরিস্থিতি নিম্নগামী হয়েছে, তা ঘুরে দাঁড়াতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে। চার্লস ডিকেন্সের ভাষায় ২০২০ সালের অনুভূতি বর্ণনা করার জন্য তিনি বলেন, '‌আমরা সর্বদা কম-বেশি কৃপণ হয়ে পড়েছিলাম এবং আমাদের বেশিরভাগ পরিচয় একই অবস্থায় ছিল।’‌ ২০২০ সালকে একবারে বর্ণনা করা সত্যিই কঠিন, তাই ভারতে ১২ মাসের ১২টি খবর নিয়ে এই সালকে বিদায় জানাই।

জানুয়ারি–জেএনইউ অবরোধ

জানুয়ারি–জেএনইউ অবরোধ

২০২০ সালে প্রবেশের পাঁচদিনের মাথায় দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (‌জেএনইউ)‌ রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং ক্যাম্পাসের মধ্যে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করা এক সন্ত্রাসের চেহারা নেয় জেএনইউ, যা ভারতের সমাজতন্ত্রের ব্র‌্যান্ডকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেয়। যে কেউ জেএনইউয়ের গুরুত্বকে উপেক্ষা করার আগে এটি জেনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র‌্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্কে গত চার বছর ধরে তিন নম্বর স্থানটি ধরে রয়েছে। এছাড়াও এই জেএনইউয়ের প্রাক্তন দুই পড়ুয়া, যাঁরা বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদে আসীন, তাঁরা হলেন নির্মলা সীতারমন (‌অর্থমন্ত্রী)‌ ও এস জয়শঙ্কর (‌বিদেশ মন্ত্রী)‌।

৫ জানুয়ারি জেএনইউ ক্যাম্পাস চত্ত্বরে কিছু দুষ্কৃতী প্রবেশ করে এবং তাঁরা জেএনইউ চত্ত্বর ভাঙচুর করা ছাড়াও পড়ুযাদের মারধর করে। মুখ ঢাকা অবস্থায় ওই দুষ্কৃতীরা সবরমতী হস্টেলে ঢুকে পড়ুয়াদের ওপর হামলা চালায়। জেএনইউ শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্বে হওয়া শান্তি মিছিলেও পাথর ছোঁড়া হয়। এই বচসার সূত্রপাত হয় বাম নেতৃত্বাধীন জেএনইউ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (‌জেএনইউএসইউ)‌ এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (‌এবিভিপি)‌ শীতকালীন সেশনের রেজিস্ট্রেশনের মত বিরোধ নিয়ে। জেএনইউয়ের উপাচার্য জগদীশ কুমার প্রশাসনের দ্বারা অনুমোদীত সংশোধিত ফি কাঠামোর বিরুদ্ধে হাতিয়ার তৈরি করে জেএনইউএসইউ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। অনেকের বিশ্বাস, জেএনএসইউ এবং এবিভিপি-র মধ্যে এই ফাটলের ফলে ৫ জানুয়ারির ঘটনা ঘটেছে। জেএনইউ পড়ুয়াদের ওপর তিনঘণ্টা ধরে চলা এই হামলা সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল এমনকী সিনে তারকাদের কাছেও এই নির্বোধ হিংসা নিন্দিত হয়। এইচআরডি মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেন এবং দিল্লি পুলিশ অভিযোগ দায়ের করে। আশ্চর্যজনকভাবে পুইশ দাবি করে যে জেএনইউ ক্যাম্পাসের যে অংশে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল সেখানে কোনও সিসি ক্যামেরা নেই। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল ক্যাম্পাসের ভেতরের আলো এবং রাস্তার আলো সেই ঘটনার সময় নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে আরও যুক্ত করে বলা হয় যে এটা এখনও পর্যন্ত রহস্য জেএনইউয়ের দায়িত্বে থাকা সাইক্লোপস সুরক্ষা বাহিনীর এজেন্সি, হামলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, পুলিশ কর্মীদের ফোন করা হলেও তারাও আসতে উদাসীনতা দেখিয়েছিল। শিক্ষক ও পড়ুয়া উভয়ের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হামলার ভিডিও ভাইরাল হলেও নভেম্বরে দিল্লি পুলিশের সত্যতা-যাচাই করার কমিটি সুরক্ষা বাহিনীর এজেন্সিকে ক্লিনচিট দিয়ে দেয় ৫ জানুয়ারি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। এই মামলায় এখনও কোনও গ্রেফতার হয়নি।

ফেব্রুয়ারি–দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসা

ফেব্রুয়ারি–দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসা

জেএনইউয়ের ঘটনার পর দিল্লি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কেন্দ্রের সিএএ-এনপিআর-এনআরসি বিলের বিরুদ্ধে। ৬০দিন ধরে দিল্লিতে এই অশান্তি চলেছিল। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভারত সফরে এসেছিলেন, ১১টি জেলার মধ্যে রাজধানী দিল্লি তখন হিংসায় উত্তপ্ত হয়েছিল। দিল্লির উত্তরের জেলা, যেটি ভারতের মধ্যে সবচেয় জনঘনত্বপূর্ণ জেলা, সেখানে ২৪ ফেব্রুয়ারি ঘটনার সূত্রপাত হয়। সাম্প্রদায়িক হিংসায় প্রথম দিন পাঁচজন থেকে শুরু করে দু'‌দিনের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ২৫-এ পৌঁছে যায় এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি তা ৪২জনে পৌছায়। ঠিক সেই সময় ২৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লির নতুন পুলিশ কমিশনার হিসাবে যোগ দেন এসএন শ্রীবাস্তব। এই ঘটনায় প্রাণ হারান ৫৩ জন। ২৫৪টি এফআইআর দায়ের করে দিল্লি পুলিশ এবং এই হিংসার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য পুলিশ ৯০৩ জনকে গ্রেফতার ও আটক করে। চার্জশিটে পুলিশ জোর দিয়ে জানিয়েছিল এই ঘটনার পেছনে সিএএ-এনপিআর-এনআরসি তিন বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী একদল সমাজ কর্মীর দ্বারা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। দিল্লির এই হিংসার ঘটনার অদিকাংশ মামলা আদালতে বিচারাধীন। এই সাম্প্রদায়িক হিংসা নিয়ে সংসদে পুলিশের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সরব হতেও দেখা যায়।

মার্চ–ভারতে বিচার:‌ দেরি করে হয়েছে, অস্বীকার হয়নি

মার্চ–ভারতে বিচার:‌ দেরি করে হয়েছে, অস্বীকার হয়নি

২০ মার্চ, ভোর সাড়ে পাঁচটা, ২০১২ সালে নির্ভয়া গণধর্ষণ নিয়ে ভারতের সব প্রশ্নের অবসান হয়ে গেল, চার অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ফাঁসিতে ঝোলানো হল। ২৩ বছরের মেডিক্যাল পড়ুয়ার ওপর যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি যে নৃশংসতা দেখিয়েছিল চার অভিযুক্ত, তা নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ঝড় উঠেছিল। দেহের ভেতরে আঘাত চরম হওয়ার কারণে তরুণীকে বাঁচানো যায়নি। আট বছর ধরে চলা নির্ভয়া মামলা সেই একই অবিচারের কোঠায় দাঁড়িয়েছিল। যদিও নির্ভয়ার মা আশা দেবী ও তাঁর স্বামী তাঁদের মেয়েকে বিচার দেওযার জন্য অবিচল ছিলেন এবং ২০২০ সালে ২০ মার্চ তাঁদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল। ২০১৩ সালে এই ঘটনার চারজন দোষীকে ফার্স্ট ট্র‌্যাক আদালত মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। ২০১৪ সালে দিল্লি হাইকোর্ট ও ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট একই রায় বহাল রাখে। ২০২০ সালে অভিযুক্তদের প্রাণভিক্ষার আবেদনও না মঞ্জুর করে দেশের রাষ্ট্রপতি। ২০ মার্চ মুকেশ সিং, বিনয় শর্মা, অক্ষয় ঠাকুর ও পবন গুপ্তাকে তিহার জেলে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

এপ্রিল–সামনের সারির যোদ্ধা ও দেশজুড়ে লকডাউন

এপ্রিল–সামনের সারির যোদ্ধা ও দেশজুড়ে লকডাউন

এ বছরের মার্চ মাস বিশ্বের চেহারা যে একেবারে বদলে দেবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের কোনও অবকাশ নেই। ভারতে ২০১৯ সালের শেষের দিকে চিন থেকে আসা নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা করেন ২৫ মার্চ থেকে। লকডাউন ঘোষণার আগে দেশে ৬০০টি নিশ্চিত কেস ও ১২টি মৃত্যুর খবর রিপোর্ট হয়েছিল এই করোনা ভাইরাসের কারণে। করোনার প্রকোপের পর থেকেই কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে সামনের সারির যোদ্ধারা লড়াই করে চলেছেন, অনেকেই ডিউটি করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন।

এরই মধ্যে সকলের মন জয় করে নেয় পাঞ্জাব পুলিশের এসআই হরজিত সিংয়ের গল্প। ১২ এপ্রিল এস আই হরজিত সিং ‘‌নাকা'‌ ডিউটির পুলিশ পার্টির মধ্যেই ছিলেন। তিনি ও অন্যান্য পুলিশ কর্মী পাতিয়ালার সবজি বাজারের বাইরে নুন্যতম মানুষের যাতায়াত ও কোভিড-১৯ নির্দেশিকা মেনে চলছেন কিনা সবাই তা নিশ্চিত করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে একদল দুষ্কৃতী তাদের এসইউভি করে পুলিশ ব্যরিকেড ভেঙে চলে গেলে এস আই সিং তাদের আটকায়। তাঁর সঙ্গে ওই দুষ্কৃতীদের বচসা বাঁধে এবং তাদের মধ্যে একজন তীক্ষ্ণ-ধারালো হাতিয়ার বের করে ওই পুলিশকর্মীর হাত কেটে দেয়। ওই দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং তাদের নিহাং ডেরা কমপ্লেক্স তথা খিচড়ি সাহিব গুরুদ্বারে এসে পাকড়াও করে পুলিশ। তবে তার আগে পুলিশ ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে গুলির বিনিময় হয়। পুলিশ ব্লু স্টার অপারেশনের মাধ্যমে ওই ১১ জন দুষ্কৃতীকে ধরতে সফল হয়। তাদের থেকে কার্তুজ সহ বিপুল পরিমাণ হাতিয়ার উদ্ধার হয় এবং ৩৯ লক্ষ টাকা নগদ পাওয়া যায়। এস আই হরজিত সিং চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর হাসপাতালে দীর্ঘ ১৮দিন ভর্তি ছিলেন, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁর হাত জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পাঞ্জাব পুলিশের এই এসআইকে হিরোর মতো সম্মান দিয়ে ও পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে বাড়িতে ফেরানো হয়। প্রসঙ্গত, বহু সামনের সারির যোদ্ধা এই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন।

মে–ক্লান্তিতে মৃত্যু:‌ রাস্তায় জীবন

মে–ক্লান্তিতে মৃত্যু:‌ রাস্তায় জীবন

এ বছর শহরের ভারত যে চিত্রটিকে সবসময় মনের মধ্যে ধরে রাখবে তা হল হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরা। দেশজুড়ে আচমকা লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর উপার্জনহীন অসহায় শ্রমিকদের বাড়িতে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। কিন্তু ফেরার উপায় একেবারেই বন্ধ, তাই অগত্যা কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। এইসব শ্রমিকদের পরিযায়ী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, যাঁদেরকে এই মহামারির সময় ভাড়া বাড়ি থেকে তুলে দিয়েছে বা নিয়োগকর্তারা টাকা দিতে অস্বীকার করেছে, এরকম লক্ষ লক্ষ গল্প রয়েছে তাঁদের নিয়ে। তবে এই গল্পগুলির মধ্যে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গল্প তৈরি ৮ মে, দেশ জেগে ওঠে এক মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে।

মধ্যপ্রদেশের ১৬ জন পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা নিজেদের বাড়ি ফিরছিলেন পায়ে হেঁটে, তাঁরা মালবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন। মহারাষ্ট্রের জালনা ও ঔরঙ্গাবাদ জেলার মাঝে এই ঘটনা ঘটে। এই পরিযায়ী শ্রমিকদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছর। জানা গিয়েছে, নিহত শ্রমিকরা মহারাষ্ট্রের জালনা জেলার মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনে কাজ করতেন। লকডাউনের সময় অন্য শ্রমিকদের মতোই অসহায় অবস্থায় বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা, রাস্তার পাশাপাশি তাঁর রেললাইন ধরেও হাঁটছিলেন এবং ট্রেন চলছে না ভেবে ট্র‌্যাকেই শুয়ে পড়েন এবং ঘুমিয়ে পড়েন। তেলঙ্গানার চেরল্লাপল্লি থেকে মহারাষ্ট্রের মনমাদের দিকে পেট্রোলিয়াম পণ্যের খালি বাক্স নিয়ে আসা মালগাড়ি চাপ দিয়ে দেয় ওই শ্রমিকদের। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১৪ জনের। বাকি দু'‌জন মারা যান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে।

জুন–ভারত–চিন সংঘর্ষ গালওয়ানে

জুন–ভারত–চিন সংঘর্ষ গালওয়ানে

করোনা ভাইরাসের মতো মারণ রোগ শুধুই চিন্তা বাড়ায়নি ভারতের, দেশের পূর্ব সীমান্ত আচমকাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় গত ১৬ জুন। ১৬ জুন সকাল থেকেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চিনের সংঘর্ষ নিয়ে অসমর্থিত সূত্রে খবর আসতে শুরু করে দেয়। এরপর খুব শীঘ্রই ভারতীয় সেনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিবৃতি জারি করে এই সংঘর্ষের খবর স্বীকার করে নেওয়া হয়। কিন্তু ভারতীয় সেনা বা চিনের পিপল'‌স লিবারেশন আর্মির পক্ষ থেকে একটি গুলিও চালানো হয়নি। পরে এটি জানা যায় যে ভারতীয় সেনা, যাঁর নেতৃত্বে ছিলেন ১৬ বিহার রেজিমেন্টের কর্নেল সন্তোষ বাবু, তিনি চিনের সেনাদের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আলোচনার জন্য ডেকে পাঠান, সেখানেই হামলা চালানো হয় তাঁদের ওপর। লাঠি, পাথর ছুঁড়ে মারা হয় ভারতীয় সেনাদের দিকে, ভারত-চিন সংঘর্ষ দীর্ঘ তিনঘণ্টা ধরে চলে। গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন, অন্যদিকে চিনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে তাদের সেনা নিহতের সংখ্যা জানানো হয়নি। এই ঘটনা ভারত ও চিন দুই পক্ষকেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় হাজার হাজার সেনা মোতেয়েন করতে প্ররোচিত করেছিল। গাওয়ান উপত্যকার এই সংঘর্ষ এখন পর্যন্ত দিল্লি ও বেজিংয়ের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

জুলাই–ভারতীয় বাণিজ্য পুনরায় শুরু

জুলাই–ভারতীয় বাণিজ্য পুনরায় শুরু

অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এল জি পলিমারস কেমিক্যাল প্ল্যান্টে গ্যাস লিক হওয়ার ঘটনার দু'‌মাসের কম সময়ের মধ্যে তামিলনাড়ুর নেভিয়েলির শিল্পে দুর্ঘটনা এমন এক সময় শিরোনাম হয়েছিল যখন ভারতীয় শিল্প লকডাউনের পরবর্তী সময়ে পুনরায় কাজ শুরু করার প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল।

১ জুলাই সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে নেভেলির এনএলসি ইন্ডিয়া লিমিটেডের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র-২ এর ইউনিট ভি-তে একটি বয়লার ফেটে যায়। চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক এবং প্লান্টের ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মীরা দুর্ঘটনা হওয়ার আগের দিন রাতে ইউনিট ভি-কে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছিল। ১৪ জন শ্রমিক নিহত হন এবং ৯ জন গুরুতর আহত হন এই ঘটনায়।

অগাস্ট–বিমান দুর্ঘটনা

অগাস্ট–বিমান দুর্ঘটনা

কোভিডের মধ্যেই যখন মানুষ নিজের জীবন অভ্যাসে পরিণত করতে চলেছেন, ঠিক তখনই আর এক দুর্ঘটনা ফের দেশবাসীকে নাড়িয়ে দিল। গত ৭ অগাস্ট কোঝিকোড় বিমানবন্দরে অবতরণের সময় পিছলে গিয়ে দু'টুকরো হয়ে যায় দুবাই ফেরত এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমান আইএক্স- ১৩৪৪। এই ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়। এই বিমানটি সরকারের বন্দে ভারত মিশনের অংশ, যেটি বিদেশ থেকে ভারতে যাত্রীদের ফিরিয়ে নিয়ে আসছে।

প্রাক্তন বায়ুসেনার টেস্ট পাইলট এবং কম্যান্ডার ডিভি সাথি ও তাঁর সহ-চালক অখিলেশ কুমার শর্মা সহ ১৮ জন এই ঘটনায় প্রাণ হারান। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটিতে ক্রু সদস্য-সহ মোট ১৯০ জন যাত্রী ছিলেন। ভারী বৃষ্টির মধ্যেই কালিকূট বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যায় বিমানটি। অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া, গুরুতর জখমদের মাথাপিছু ২ লক্ষ ও যাঁদের চোট সামান্য তাঁদের ৫০ হাজার করে ক্ষতিপূরণ দেবে কেন্দ্র।

সেপ্টেম্বর–ঐতিহাসিক বাদল অধিবেশন সংসদের

সেপ্টেম্বর–ঐতিহাসিক বাদল অধিবেশন সংসদের

১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলা সংসদের ১৮দিনের বাদল অধিবেশনে ভারত সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলির ঐক্যমতের অভাব দেখা যায়। ১৮ দিনের এই অধিবেশনে ১৮টি সভা বসবে। এই বাদল অধিবেশনে ৪৭টি বিষয় গ্রহণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি বিল ও ২টি আর্থিক সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। এবারের অধিবেশনে অধ্যাদেশের পরিবর্তে মোট ১১টি বিল আনা হবে। ভারতের কৃষি সম্পর্কিত তিনটে বিল নিয়ে সংসদ উত্তাল হয়ে ওঠার কারণে বাদল অধিবেশনের সময় হ্রাস করতে হয়। সংসদের বাদল অধিবেশনেই তিনটে কৃষি বিল পাশ হয়ে যায়। ২০ সেপ্টেম্বর, বিরোধী দলের সাংসদরা কেন্দ্রের কৃষি বিলগুলি পাসের জন্য প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতিগুলি উপেক্ষা করার অভিযোগ এনে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংহের সঙ্গে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন। ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চ সভাযর কার্যক্রমের সরাসরি সম্প্রচার কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। ওইদিনকার মোবাইল ফোনের ভিডিওতে দেখা গিয়েছে যে বিরোধী দলের সাংসদরা কাগজ ছুঁড়ছেন, হইচই বাঁধিয়ে দিয়েছেন এবং ডেপুটি চেয়ারম্যানকে হেনস্থা করছেন। এই ঘটনার পর আটজন রাজ্যসভার সাংসদকে বাদল অধিবেশনে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত সাংসদরা সংসদের বাইরে মঞ্চ করে এই ঘটনার প্রতিবাদ শুরু করেন। তবে এই কৃষি বিল পরবর্তীকালে দেশের বিভিন্ন অংশে অশান্তির কারণ হয়ে ওঠে বিশেষ করে দিল্লিবাসীর জন্য।

অক্টোবর–ভারতীয় সমাজে বিজ্ঞাপনের ভুল

অক্টোবর–ভারতীয় সমাজে বিজ্ঞাপনের ভুল

দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিঘি জামাত মরকজের ঘটনা এখনও ভুলতে পারেনি দেশবাসী, এরকম সময়ে টাটা গ্রুপের জুয়েলারি ব্র‌্যান্ড তানিশক দিওয়ালিতে একটি বিতর্কিত বিজ্ঞাপন নিয়ে হাজির হল। যা অক্টোবরে ঝড় তুলল গোটা দেশে। বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়েছিল যে এক মুসলিম পরিবার হিন্দু বধূকে সাধ খাওয়াচ্ছে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিজ্ঞাপন নিয়ে এতটাই ট্রোলড হতে হয় তানিশককে, যে তারা সেই বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়।

নভেম্বর–মিগ–২৯কে দুর্ঘটনা

নভেম্বর–মিগ–২৯কে দুর্ঘটনা

গত ২৭ নভেম্বর প্রশিক্ষণ চলাকালীন আরব সাগরের উপর ভেঙে পড়ল ভারতীয় নৌসেনার বিমান মিগ ২৯-কে। ওই বিমানে দু'জন পাইলট ছিলেন, একজনকে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করা গেলেও, দ্বিতীয় পাইলট কম্যান্ডার নিশান্ত সিংয়ের দেহাংশ উদ্ধার হয় ১১ দিন পর। এই নিয়ে গত এক বছরে তিন বার মিগ ২৯-কের দুর্ঘটনা ঘটল। প্রসঙ্গত, ২০ মে কম্যান্ডার নিশান্ত সিং তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের বিয়ের জন্য ছুটি চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন। যা তাঁর নিখোঁজ হওয়ার সময় ও দেহাংশ উদ্ধারের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

ডিসেম্বর–রহস্যজনক রোগ বাড়ছে ইলুরুতে

ডিসেম্বর–রহস্যজনক রোগ বাড়ছে ইলুরুতে

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অন্ধ্রপ্রদেশের ইলুরু শহরের হাসপাতালে এক রহস্যজনক অসুখে ভর্তি হন অনেকে। মাথা ধরা, বমি, মাথা ঘোরা এবং মৃগীর মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছিল এই রোগে। এই রহস্যময় অসুখ ইতিমধ্যেই একজনের প্রাণ নিয়ে নেয় এবং ৫০০ জন স্থানীয়কে অসুস্থ করে তোলে। সীসা ও নিকেল পাওয়া যায় ইলুরু থেকে সংগ্রহীত পানীয় জল, দুধ ও মূত্রের নমুনা থেকে। এইমস সহ কেন্দ্র সরকারের বিশেষজ্ঞ দল এই রোগ নিয়ে পরীক্ষা করছে। তবে এখনও কি থেকে এই রোগের উৎপত্তি বা কারণ তা এখনও কিছুই জানা যায়নি।

লকডাউন–স্কুল বন্ধ, নতুন উপায়ে পড়ুয়াদের পড়ানোর কৌশল বের করলেন দেশের শিক্ষকরা

English summary
year ender 2020 with 12 news in 12 months this year will be remembered forever
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X