বাম-কংগ্রেস জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে, জনতার মধ্যে থেকেই উঠে আসা নামে জল্পনা
কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি সিপিএম বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। তবে ত্রিপুরায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে আদিবাসী নেতার নাম
ত্রিপুরায় সিপিএমের সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা দূরে সরিয়ে রেখে জোটবদ্ধ হয়েছে কংগ্রেস। সিপিএম তথা বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা। এবার তাই আসন সমঝোতা করে তারা লড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে বাম-কংগ্রেস যদি নির্বাচনে জয়ী হয় কে হবন মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী?

কংগ্রেস ও সিপিএম দুই পার্টিই সম্মত
এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি সিপিএম বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। তবে ত্রিপুরায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে আদিবাসী নেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী ত্রিপুরায় বাম-কংগ্রেস জোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ হতে চলেছেন। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম দুই পার্টিই জিতেন্দ্র চৌধুরীর নামে সম্মত হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি
জিতেন্র্ত চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হলে একটাই সমস্যা তা হল বাঙালি ভোট। উপজাতি এলাকার নেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁকে মুখ করলে বাঙালিরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন কি না, সেটাই ভয় রয়ে গিয়েছে। সেই ভয়েই জিতেন্দ্র চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

বাম-কংগ্রেস জয়ী হলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন কে
বামফ্রন্ট বা কংগ্রেস কোনও পার্টিই আনুষ্ঠানিকভাবে জিতেন্দ্র চৌধুরীর নাম ঘোষণা না করলেও ত্রিপুরা কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক অজয় কুমার একপ্রকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহার নির্বাচনী এলাকায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি প্রকারান্তরে শুনিয়ে দেন বাম-কংগ্রেস জয়ী হলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য রয়েছেন জিতেন্দ্র চৌধুরীর মতো।

সিপিএম দলের নেতা আদতে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী
চারবার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি সামলানো মানিক সরকার এবার প্রার্থী হননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিপিএম নেতা মানিক সরকারের জায়গায় বিকল্প নাম খোঁজা শুরু হয়েছিল নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই। জল্পনা শুরু হয় কে হতে পারেন বাম-কংগ্রেস জোটের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী। স্বাভাবিকভাবেই সিপিএম দলের নেতার নাম উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে।

মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আসছে উপজাতি নেতার নাম
এবার ত্রিপুরা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষে ৪৭টি আসনে প্রার্থী দেয় সিপিএম ও তার শরিক বাম দলগুলি। বাকি ১৩টি আসন ছাড়া হয় কংগ্রেসের জন্য। যদিও কংগ্রেস আরও চারটি বেশি আসনে প্রার্থী দেয়। এই অবস্থায় কংগ্রেসের তরফেও জানানো হয় মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে আনা হয় উপজাতি নেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর নাম।

সবথেকে বড় আদিবাসী নেতা কে? জনতার উত্তর
কংগ্রেস পর্যবেক্ষক অজয় কুমার গত পাঁচ বছরে বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে জানান পরি্বর্তন জরুরি। তিনি জনতার উদ্দেশে আদিবাসীদের জন্য জোটের প্রতিশ্রুতির কথা বলেন। তারপর জনতাকে জিজ্ঞাসা করেন ত্রিপুরার সবথেকে বড় আদিবাসী নেতা কে। জনতার তরফে উত্তর আসে- জিতেন্দ্র চৌধুরী।

"কে হবেন ত্রিপুরার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।" জানাল জনতা
তারপর অজয় কুমাররে তরফে প্রশ্ন করা হয়, "কে জিতবে এবারের নির্বাচনে?" তার উত্তরে জনতা চিৎকার করে বলে, "বাম-কংগ্রেস।" এরপর সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির ত্রিপুরা ইনচার্জ জিজ্ঞাসা করেন, "কে হবেন ত্রিপুরার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।" জনতা তখন সোচ্চারে স্লোগান দিয়ে ওঠেন জয়ন্ত চৌধুরীর নামে।

পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে সবার উপরে নাম
এর আগে সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাম-কংগ্রেস জোট জিতলে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন? উত্তরে তিনি জানিয়েছিলেন, "বিধায়করা সিদ্ধান্ত নেবেন।" কংগ্রেসের কারও নাম না নিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীর নাম প্রকাশ্য জনসভায় এইভাবে জনতা সোচ্চারে স্লোগান দিয়ে ওঠায়, অনেকটাই পরিষ্কার ঘোষণা না হলেও তাঁর নাম পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে সবার উপরে রয়েছে।

রাজ্যের প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোটার বাঙালি, তাই...
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জয়ন্ত চৌধুরী এবার সাব্রুমের সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচনে লড়ছেন। উভয় পক্ষই তাঁর নামে সম্মত। কিন্তু রাজ্যের প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোটার বাঙালি হওয়ায়, যদি বিপরীত কোনও প্রভাব পড়ে, বাঙালিরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি তাঁর নাম।

উপজাতি ভোট আগেই সিপিএম থেকে মুখ ফিরিয়েছিল
সম্প্রতি ত্রিপুরার আদিবাসী এলাকায় টিপ্রামোথা উপজাতি ভোটব্যাঙ্কে প্রাধান্য নিয়েছে। উপজাতি ভোট আগেই সিপিএমের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তারপর পাঁচ বছর আগে বিজেপির জোটসঙ্গী আইপিএফটির দিকে ঘুরে যায় তারা। এখন কংগ্রেস ছেড়ে টিপ্রামোথা গড়ে তোলা রাজ পরিবারের সদস্য প্রদ্যোৎকিশোর মাণিক্য দেববর্মার দিকে ঢলেছেন আদিবাসীরা।

টিপ্রামোথা প্রার্থী দেয়নি সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে
এই অবস্থায় জিতেন্দ্র চৌধুরীর মুখ্যমন্ত্রী মুখ করলেও আদিবাসী ভোট কতটা ফেরানো যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। তবে এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীর কেন্দ্রে কোনও প্রার্থী দেয়নি টিপ্রামোথা। ফলে এখানে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াই জোট প্রার্থী জিতেন্দ্র চৌধুরীর।
ছবি সৌ:ফেসবুক
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications