কবে উঠতে পারে লকডাউন? দেশে কবে ঠিক হবে করোনা পরিস্থিতি
কোরোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের সময়সীমা কি বাড়ানো হবে? নাকি ১৪ এপ্রিলের পর দেশ থেকে তুলে নেওয়া হবে লকডাউন। এই প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে। এরই মধ্যে দেশে করোনা সংক্রমণের হার লাগাম ছাড়াচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে যে, লকডাউন থাকাকালীনই যদি এত লোক করোনা আক্রান্ত হন তবে লকডাউন উঠে গেলে কী অবস্থা হবে দেশের? এর জেরে একাংশের মত, বাড়ানো হোক লকডাউন।

মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে
করোনা ভাইরাসের জেরে দেশে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এই সংক্রমণ কমার কোনও নামই নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে এটাই এখনও পর্যন্ত দেশে সব থেকে বেশি মৃত্যু। যার জেরে সরকারি হিসাবে এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪৯-এ। সরকারি হিসাবে জানানো হয়েছে যে দেশে এখনও পর্যন্ত ৫১৯৪ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ লক্ষ্য করা গিয়েছে।

লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ডাক
এদিকে এই পরিস্থিতিতে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ডাক দিয়েছে তেলাঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ এবং অসমের মতো রাজ্যগুলি। তেলাঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তো জুন মাস পর্যন্ত লকডাউন জারি রাখার আবেদন জানিয়েছেন কেন্দ্রকে। এদিকে নয়ডা সহ উত্তরপ্রদেশের মোট ১৫টি জেলা সম্পূর্ণ ভাবে সিল করা হয়েছে। মুম্বইতে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে লকডাউনের। তবে যা পরিস্থিতি তাতে দেশজুড়েই লকডাউন জারি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে কবে উঠতে পারে এই লকডাউন?

উহান থেকে শিক্ষা
চিনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল এই ভাইরাস। সেই উহানে টানা ৭৬ দিন লকডাউন জারি রেখেছিল চিন সরকার। এখন সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে আজ থেকে। তবে সেখানে আড়াই মাস যাবত এই লকডাউন জারির মূল উদ্দেশ্য ছিল এই ভাইরাসের প্রকৃতি বোঝা ও ওষুধ তৈরি করা। এছাড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সাজিয়ে তোলার বিষয়টিও ছিল।

লকডাউন নিয়ে WHO-র পরামর্শ
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফেও বলা হয়েছিল যে, শুধু লকডাউন করে করোনা রোখা যাবে না। তবে করোনাকে থামাতে অতি প্রয়োজনীয় লকডাউন। এই লকডাউনের সময়কালে ওষুধ তৈরি ছাড়াও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি অত্যাঅবশ্যক জিনিস, যেমন, পিপিই, মাস্ক, এসবের পর্যাপ্ত মজুত করতে হবে এই সময়ে।

চিকিৎসক ও নার্সদের অভাব
এই পরিস্থিতিতে দেশে চিকিৎসক ও নার্সদের অভাব দেখা দিয়েছে। এছাড়া দেশে পিপিই-র অভাব রয়েছে। মাস্কও কম বাজারে। এই অবস্থায় দেশে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও ভালো ভাবে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া অবশ্যই স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতে করোনা সংক্রমণ না হয় সেই বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রণালী প্রয়োজন।

ওষুধ ও ভ্যাক্সিন প্রয়োজন
তবে এত কিছু করেও করোনা রোধ করা যাবে না। তার জন্য লাগবে করোনা ভাইরাসের পরিষেধক। তবে ১৩০ কোটি ভারতীয়র জন্য সেই টিকা জোগাড় করতে করতে সরকারের অন্তত পক্ষে ১ থেকে দেড় বছর লাগবে। এবং সেটা তখনই হবে যখন কোনও ভ্যাক্সিন পরীক্ষিত হয়ে বাজারে আসবে।

নগদ লেনদেন কমানোর অভ্যাস
সামাজিক গতিবিধি আপাতত নিয়ন্ত্রিত করার নির্দেশ দিচ্ছে কেন্দ্র। সেই মর্মে বিভিন্ন রাজ্য সরকার সমস্ত জমায়েত ও জমায়েতের জায়গা বন্ধ করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে খাবারের পদের আদান প্রদান ও টাকা পয়সার আদান প্রদান ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে এই ভাইরাসের প্রেক্ষিতে। কারণ টাকার মাধ্যমেও হাত থেকে হাতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। জনগণকে ধীরে ধীরে নগদের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক লেনদেনে অভ্যস্ত করতে হবে।

মরশুমি হতে পারে করোনা
এদিকে করোনা ভাইরাস এখন প্রতি বছর ফিরে আসতে পারে। কারণ অনেক বৈজ্ঞানিকই এটাকে মরশুমি রোগ বলে মনে করছে। সেই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রকে এই ভাইরাস রোধে সমস্ত ধরণের ব্যাবস্থা আগেভাগে করে রাখতে হবে। সেই ব্যবস্থা করা হয়ে গেলে তবে এই লকডাউন তুলে ফেলা যাবে পুরোপুরিষ।












Click it and Unblock the Notifications