ভারত হিন্দু রাষ্ট্র হোক চায় না বিজেপি! আরএসএস-মতাবাদের বিরোধিতা শাহর কণ্ঠে
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হওয়ার পর এনআরসি আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়েছিল মুসলিমদের মধ্যে।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হওয়ার পর এনআরসি আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়েছিল মুসলিমদের মধ্যে। সারা দেশজুড়েই হাওয়া তৈরি হয়েছিল, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের এই চাল আসলে ভারতে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর একটা পদক্ষেপ। এবার অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দিলেন, বিজেপি ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চায় না।

ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র করা আরএসএসের অ্যাজেন্ডা
আরএসএসের দীর্ঘদিনের অ্যাজেন্ডা ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র তৈরি করা। সেই অ্যাজেন্ডা থেকে বেরিয়ে বিজেপির সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে পরস্পর বিরোধী কথা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ মনে করছেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের পর ক্ষতে প্রলেপ দিতেই একথা বলছেন অমিত শাহ।

‘হিন্দুস্থানে যাঁরা বাস করত তাঁরা সবাই হিন্দু’
এখানে উল্লেখ্য, বিজেপির পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত আরএসএস। তারা বিশ্বাস করে, হিন্দুস্থানে যাঁরা বাস করত তাঁরা সবাই হিন্দু। পরে তাঁদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয় বা তাঁরা স্বেচ্ছায় ধর্মান্তিরিত হন। অর্থাৎ তাদের মতে, ভারতীয় মুসলিমরাও এককালে হিন্দু ছিলেন। সংঘের এই মতবাদকে স্বীকৃতি দেয়না ভারতীয় সংবিধান।

ভারতীয় সংবিধান মেনেই অমিত বার্তা
এদিন অমিত শাহও বলেন, বিজেপি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ভারতীয় সংবিধান অনুসরণ করে। তাঁদের সরকারও তা মেনে চলে। মুসলিমদের প্রতি তাঁদের কোনও বিদ্বেষ নেই। তিনি ফের অভয় দিয়ে বলেন, এ দেশের কোনও নাগরিককে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করব।

সরকার বিশ্বাস করে একটিই ধর্ম-সংবিধান
তিনি বলেন, যাঁরা অবৈধভাবে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন, তাঁদেরই শুধু ভারত ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাঁদের নিজেদেরই স্বীকার করতে হবে যে, তাঁরা একটি ভুল করেছে। তিনি বলেন, বিজেপি ও তাঁদের সরকার বিশ্বাস করে একটি মাত্র ধর্মকে, তা হল সংবিধান। ভারতের সংবিধানের প্রতি আমাদের একাত্মবোধ তাই অটুট।

কংগ্রেস ৭০ বছরে যা পারেনি, বিজেপি তা করল
অমিত শাহ বলেন, "কংগ্রেস দেশের সমস্যাগুলি সমাধানের চেষ্টা করেনি এতদিন। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের সমস্যাগুলি সমাধান করার চেষ্টা করছে। আমরা ক্ষমতায় থেকে রাজনীতি করছি না। আমরা যদি রাজনীতি করতাম, তবে আমি ২০২৩ সালে এই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস করতাম।

শরণার্থী শিবিরে অবস্থা
তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরে অবস্থাগুলি দেখুন। আর একদিনও তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও দেরি করা উচিত নয়। উল্লেখ্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল সংসদে পাস হয়েছিল গত সপ্তাহে। এবং তারপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এবং তা আইনে পরিণত হয়েছিল।

অমুসলিম শরণার্থীরা পাঁচ বছর থাকলেই নাগরিকত্ব!
এই আইন অনুসারে, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সী এবং খ্রিস্টানরা- যারা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪ পর্যন্ত ভারতে এসেছিল তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসাবে গণ্য করা হবে না এবং তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আইনটিতে বলা হয়েছে, অমুসলিম শরণার্থীরা পাঁচ বছর ভারতে অবস্থান করলেই ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আগে ১১ বছর ভারতে থাকার পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যেত।

যাদের জন্য এই আইন প্রযোজ্য হবে না
আইন অনুসারে, এটি আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার উপজাতি এলাকার যেসব অঞ্চল সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত এবং বাংলার পূর্ব সীমান্ত বিধির অভ্যন্তরীণ লাইন পারমিটের আওতাভুক্ত, তাদের জন্য এই আইন প্রযোজ্য হবে না।












Click it and Unblock the Notifications