ত্রিপুরার পরে তৃণমূলের লক্ষ্য অসম, শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজেপি বিরোধী ছোটদলের নেতাকে দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব
ত্রিপুরার পরে তৃণমূলের লক্ষ্য অসম, দলের শক্তি বাড়াতে বিজেপি বিরোধী ছোটদলের নেতাকে দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব
একদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) মোদী বিরোধী জোট জোরদার করার বলছেন, আর অন্যদিকে উত্তরপূর্বে দলের শক্তি বাড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ত্রিপুরায় (tripura) তৃণমূল যেমন কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়ে দলকে শক্তিশালী করেছে, অনেকটা তেমনেই অসমের (assam) এক ছোট দলের একমাত্র বিধায়ক নেতাকে দলের দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিয়েছে।

তৃণমূলের লক্ষ্য উত্তর-পূর্ব
উত্তর পূর্বে তৃণমূলের লক্ষ্য ত্রিপুরা। সেখানে ২০২৩-এর ফেব্রুয়ারিতে বিধানসভা নির্বাচন। সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে তারা। তবে তাদের বড় লক্ষ্য হল ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন। তৃণমূলের দাবি তারা ২০২৩-এ ত্রিপুরায় সরকার গড়ার মতো জায়গায় রয়েছে। যদিও তা মানতে রাজি নয় বর্তমান শাসক বিজেপি কিংবা সেখানকার প্রধান বিরোধী বামফ্রন্ট।

তৃণমূলের প্রস্তাব অখিল গগৈকে
তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই অসমের ছোট দল রাজজোর দলের নেতা অখিল গগৈকে তাদের দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রস্তাবই নয়, তাঁকে অসমে তৃণমূলের দায়িত্ব নিতেও বলা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমকে অখিল গগৈ জানিয়েছেন, জেল থেকে বের হওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তারপর তিনি দুবার কলকাতা গিয়েছেন এবং মমতাক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথাো বলেছেন। অখিল গগৈ জানিয়েছেন, তৃণমূল চায়, তিনি তৃণমূলে যোগ দিন রাজ্য প্রধানের দায়িত্ব নিন। তবে এব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। তবে তাঁর দল রাজজোর দল চেষ্টা করছে বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে করতে, যাতে বিজেপি এবং সরকারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করা যায়। অখিল গগৈ জেলের মধ্যে থেকেই বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেন এবং শিবসাগর কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন।

সিএএ বিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার
অমসমে সিএএ বিরোধী আন্দোলনে ২০১৯-এর ডিসেম্বরে অখিল গগৈকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এইবছরের ১ জুলাই। এনআইএ আদালতের নির্দেশে তিনি ছাড়া পেয়েছেন। একদিকে অসম পুলিশ যেমন তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার অভিযোগ এনেছে অন্যদিকে এনআইএ তাঁর বিরুদ্ধে মাওবাদীদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছে। অখিল কড়াভাবে আরএসএস বিরোধী। তিনি অভিযোগ করেছেন, এরা নির্বাচনে জয়ী হতে ধর্মীয় লাইনে মানুষকে বিভাজনের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে।

দেশে অলিখিত জরুরি অবস্থা
তিনি অভিযোগ করেছেন বর্তমানে মোদী সরকারের সময়ে দেশে অলিখিত জরুরি অবস্থা চলেছে। সেই কারণেই বিরোধীরা একসঙ্গে হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যেমন করে ১৯৭৫ সালের পরে সবাই একজোট হয়েছিলেন। দায়িত্ব নিয়েই তারা বিরোধী শিবিরে সামিল হতে চান বলে জানিয়েছেন অখিল গগৈ।
অখিল গগৈ অসমে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০-র অক্টোবরে জেল থেকেই তিনি নিজের আঞ্চলিক দল রাজজোর দল প্রতিষ্ঠা করেন। এই দলের কথা ঘোষা করেছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা জানু বরুয়া। সিএএ বিরোধিতাকে লক্ষ্য করেই ২০২১-এর অসম বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। রাজজোর দল এবারের নির্বাচনে অসম জাতীয় পরিষদের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে লড়াই করে।












Click it and Unblock the Notifications