তামিলনাড়ুতে নেই নিপা ভাইরাস, ভুল তথ্য দেওয়ার পর তা শোধরালেন জেলা প্রশাসক
কেরলের পর তামিলনাড়ুতেও সনাক্ত হয়েছে নিপা ভাইরাস। সোমবার এমনই একটি খবর পাওয়ার পর আতঙ্কের পাশাপাশি উদ্বেগেরও সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে। তবে এই খবর যে সত্যি নয় তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন কোয়েম্বাটোরের জেলা কালেক্টর ডাঃ জিএস সমীরণ। তিনি জানিয়েছেন যে তামিলনাড়ুতে নিপা ভাইরাসের মামলা সনাক্ত হয়েছে এ ধরনের তথ্য ভুল পাওয়া গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার জেলা কালেক্টরের এই বিবৃতির আগে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে কোয়েম্বাটোরে নিপা ভাইরাসের কেস সনাক্ত হয়েছে। কিন্তু এই বিবৃতির পরই ডিসি তা বয়ান বদল করে জানিয়ে দেন যে এটা ভুল তথ্য এবং কোয়েম্বাটোর তার সীমান্তে সব জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এখানে উল্লেখ্য, রবিবারই কেরলে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক ১২ বছরের কিশোরের। এই ভাইরাসের বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণের এই রাজ্যটি, যা প্রাণীদের থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় এবং তারপর তা মানুষের থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবারই মাঝারি উপসর্গ রয়েছে এমন আটজনের নমুনা ও রামবুটান ফল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভায়রোলজিতে।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাঠানো দল, যারা রাজ্যের জনস্বাস্থ্য সতর্কতা অনুসরণ করাতে সহায়তা করবে, তারা ওই মৃত কিশোরের বাড়িতে যায়। কেন্দ্রীয় দল সংলগ্ন এলাকা থেকে রামবুটান ফল সংগ্রহ করে। কিশোরের পরিবারের আশঙ্কা ওই ফল খাওয়ার পরই ১২ বছরের কিশোর নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। ওই কিশোরের প্রাথমিক সংস্পর্শে আসা প্রায় ২৫১ জনকে সনাক্ত করা গিয়েছে এবং তাঁদের ওপর খুব কাছ থেকে নজর রাখা হচ্ছে। ওই কিশোর নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চাথামঙ্গলম পঞ্চায়েত এবং আশেপাশের এলাকাগুলি সম্পূর্ণভাবে ঘিরে রাখা হয়েছে। ছেলেটির বাড়ি থেকে তিন কিমি ব্যাসার্ধ এখন একটি কন্টেনমেন্ট জোন।
সোমবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ জানিয়েছেন যে স্বাস্থ্য বিভাগ কনট্যাক্ট ট্রেসিং ও সংক্রমণের উৎস খোঁঝার ওপর জোর দিতে চাইছে। তিনি এও জানিয়েছেন যে ১২ বছরের কিশোর নিপা ভাইরাসে মারা যাওয়ার পাশাপাশি আরও অনেকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রী এও জানিয়েছেন যে ওই কিশোরের সংস্পর্শে আসা উচ্চ–ঝুঁকিপূর্ণ ২০ জনের মধ্যে সাতজনের নমুনা পুনের এনআইভিতে পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে প্রথম নিপা ভাইরাস সনাক্ত হয় মালেশিয়ার একটি শূকরের খামারে, এরপর এটি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতেও দেখা যায়। এরপর ২০০৭ সালে বৃহৎ আকারে এই ভাইরাসের বিস্তার চোখে পড়ে। এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পরই অন্যান্য মানুষও সংক্রমিত হতে শুরু করে।


Click it and Unblock the Notifications
