কোন পাঁচটি বিষয়ে জোর দেওয়া হবে এ বছরের সাধারণ বাজেটে? জেনে নিন
কোন পাঁচটি বিষয়ে জোর দেওয়া হবে এ বছরের বাজেটে জেনে নিন
মধ্যবিত্তের আয়করে স্বস্তি দেওয়ার জল্পনা–কল্পনার মধ্য দিয়েই চলে এল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের দ্বিতীয় বাজেট পেশের সময়। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করতে চলেছেন। এই বাজেটের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, এই বাজেটে মধ্যবিত্তদের আশা–আকাঙ্খা পূরণ করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত সরকারকে আরও ঝুঁকি নিয়ে দেশের অর্থনীতির হাল ফেরাতে হবে। আসলে, এবার মোদী সরকার শেয়ারবাজারের কিছুটা চাপের মুখোমুখি হয়েছে, কারণ ভারতীয় সূচকগুলি বাজার–বান্ধব ইউনিয়ন বাজেটের আশায় সর্বকালের সর্বোচ্চ লেনদেন করেছে।

বাজেট ২০২০–এর সময়
৩১ জানুয়ারি সংসদে বাজেট অধিবেশন হবে সকাল ১১টায়। রাজ্য ও লোকসভায় যৌথভাবে এই অধিবেশন হবে, যার সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। ৩১ জানুয়ারি তিনি যৌথ অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তৃতা করবেন। একই দিনে মুখ্য অর্থনীতি উপদেষ্টা কেভি সুব্রহ্মণ্যম উচ্চকক্ষে ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা উপস্থাপন করতে পারেন। লোকসভার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন সকাল ১১টার সময়। ২০১৭ সাল থেকেই রেল বাজেটও কেন্দ্রীয় বাজেটের সঙ্গেই ঘোষণা করা হয়। তাই এ বছরও রেল ও কেন্দ্রীয় বাজেট ১ ফেব্রুয়ারি পেশ করা হবে। সাধারণত সংসদ এবং স্টক মার্কেট শনিবার বন্ধই থাকে, কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারি শনিবার হওয়ায় এবং সেদিন বাজেট থাকায় তা খোলাই থাকবে। বাজেট নিয়ে সকলেই কিছু না কিছু আশা করে রয়েছেন। তবে সবার ওপরে রয়েছে এই পাঁচ প্রত্যাশা।

১) আয়কর স্ল্যাবের পরিবর্তন
এই বাজেটে মধ্যবিত্ত করদাতারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন। পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জনের ক্ষেত্রে আয়করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যদি আপনার বার্ষিক আয় ৫ থেকে ১০ লক্ষ হয়, তবে আপনাকে ২০ শতাংশের বদলে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। বছরে ১০ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ আয় যাদের, তাদের ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ কর দিতে হবে।

২) এনপিএসের আওতায় করের সুবিধা বাড়ানো
আপনি বর্তমানে এনপিএস-এর অবদানের জন্য আয়কর আইনের ধারা ৮০ সিসিডি (১ বি) এর অধীনে বছরে ৫০,০০০ টাকার কর ছাড় উপভোগ করছেন। তবে আপনি এই কর ছাড়ের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বিষয় লক্ষ্য করতে পারবেন। এবার থেকে গ্রাহকরা বছরে ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকার কর ছাড় পাবেন। পেনশন নিয়ন্ত্রক পিএফআরডিএ ইতিমধ্যে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে এই বিষয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

৩) ইক্যুইটি বিনিয়োগে এলটিসিজি অপসারণ
সরকার দীর্ঘ মেয়াদে মূল্যস্ফীতি হারাতে বিনিয়োগ হিসাবে ইক্যুইটিকে প্রচার করতে চায়। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০১৮-১৯ সালের ইক্যুইটির উপর দীর্ঘমেয়াদী মূলধন লাভ করের প্রবর্তনে হতবাক হয়েছিল কারণ ১৪ বছর পরে এলটিসিজি চালু হয়েছিল। এক লাখ টাকা পর্যন্ত এলটিসিজিতে ছাড় রয়েছে।

৪) ৮০সি ধারায় করের সুযোগ বাড়ানো
ধারা ৮০ সি এর অধীনে আয়কর ছাড় বাড়ানোর দরকার রয়েছে কারণ এটি সর্বশেষ গত আগস্ট ২০১৪ সালে বাড়ানো হয়েছিল যখন পিপিএফের সীমা ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় লক্ষ টাকা করা হয়েছিল। পারিবারিক সঞ্চয়ের উপর এর প্রভাব ছিল প্রচুর। ২০১৫ ও ২০১৪ সালের অর্থবর্ষের বেশি সময়ে প্রভিডেন্ট এবং পেনশন তহবিলগুলি কেবল ১৩,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ২০১৬ ও ২০১৫ সালের অর্থবর্ষের তুলনায় এক কোটি টাকারও বেশি বেড়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে ৮০ সি এর অধীনে প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য পিপিএফের সীমা এক লক্ষ টাকা বাড়িয়ে আড়াই লক্ষ টাকা করা হয়েছে, ২৩,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব পূর্বাভাসের তুলনায় ২ লাখ কোটি টাকারও বেশি বাড়তি সাশ্রয় ঘটবে এতে।

৫) গৃহ ঋণে সুদছাড়
সরকার গৃহাঋণের আওতায় থাকা সুদের হারের ছাড়ের সীমাও বাড়তি ঋণ ক্রেতাদের জন্য ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩.০ লক্ষ টাকা করে দিতে পারে। দেশে ৭৫ লক্ষ গৃহঋণ ক্রেতা রয়েছেন, সুতরাং গৃহ ঋণের সুদের ছাড়ের পরিমাণ ২ লক্ষ থেকে ৩.০ লক্ষ টাকা বাড়ানোয় তাদের উপকার হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৫০০০কোটি টাকা।












Click it and Unblock the Notifications