‌জন্ম নিয়ন্ত্রণে দেশের নজির হয়ে উঠতে মরিয়া যোগী রাজ্য, লক্ষ্য টিএফআর ২.‌১

‌জন্ম নিয়ন্ত্রণে দেশের নজির হয়ে উঠতে মরিয়া যোগী রাজ্য, লক্ষ্য টিএফআর ২.‌১

২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাসের অপেক্ষা। এর মধ্যেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করতে চলেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। রবিবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে যোগী সরকার জনসংখ্যা স্থিতিশীল করার জন্য আগামী দশ বছরের জন্য রাজ্যের নয়া নীতি প্রকাশ করলেন । মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন যে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রজননের হার (‌টিএফআর)‌ ২.‌১-এ নিয়ে আসতে হবে, যা বর্তমানে রয়েছে ২.‌৭। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী গত কয়েক বছর ধরে উত্তরপ্রদেশে প্রজনন হার হ্রাস পেয়েছে।

১৭ বছরে কমেছে প্রজনন হার

১৭ বছরে কমেছে প্রজনন হার

সরকারি তথ্য দেখাচ্ছে, টিএফআরে গত ১৭ বছরে উত্তরপ্রদেশে এক মহিলার প্রজননকারী বছরগুলিতে তাঁর জন্ম দেওয়া শিশুদের গড় সংখ্যা ৪.‌০৬ (‌১৯৯৯)‌ থেকে নেমে ২.‌৭ (‌২০১৬)‌-এ নেমে এসেছে, অথচ একই সময়ে ভারতে এই হার হ্রাস পেয়েছে ০.‌৭। উত্তরপ্রদেশের নতুন জনসংখ্যা নীতি অনুযায়ী, সরকার ২.‌১ টিএফআর ও প্রতিস্থাপন স্তরের প্রজনন (‌আরএলএফ)‌ অর্জন করার লক্ষ্য নিয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যে। এছাড়াও ২০৩০ সালের মধ্যে প্রজননের হার ১.‌৯-তে নিয়ে আসার লক্ষ্য রয়েছে যোগী সরকারের।

প্রজনন হারের পরিসংখ্যান

প্রজনন হারের পরিসংখ্যান

আরএলএফ হল একটি পর্যায় যা একটি জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে একটি প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে প্রতিস্থাপন করে। সুতরাং, প্রদত্ত অঞ্চলের জনসংখ্যা স্থিতিশীল থাকার জন্য, মোট প্রজননের হার ২.১ প্রয়োজন। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা-৪ (‌এনএফএইচএস-৪)‌ (‌২০১৫-১৬)‌ অনুযায়ী রাজ্যের শহরাঞ্চলে টিএফআর ২.‌১, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় তা ৩.‌০-তে দাঁড়িয়ে। এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে ২০০৬ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রত্যেক মহিলার একটি সন্তানের ক্ষেত্রে মোট প্রজনন হার রাজ্যের ১.‌১ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে ২০০৫-০৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যের মোট প্রজনন হার ছিল ৩.‌৮। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ২.‌৯৫ ও গ্রামাঞ্চলে ৪.‌১৩ ছিল। আরও একটু পিছিয়ে যদি যাওয়া যায় তবে ১৯৯৮-৯৯ সালে উত্তরপ্রদেশে মোট প্রজনন ক্ষমতা ছিল ৪.‌০৬। যার মধ্যে শহরাঞ্চলে মোট প্রজনন হার ২.‌৯১ ও গ্রামীণ এলাকায় তা ৪.‌৩৯। এখনও পর্যন্ত এনএফএইচএসের চার রাউন্ডের সমীক্ষা ভারতে সম্পূর্ণ হয়েছে, পঞ্চম রাউন্ড (‌২০১৯-২০)‌ এখনও চলছে।

অশিক্ষিত মহিলাদের প্রজনন হার বেশি

অশিক্ষিত মহিলাদের প্রজনন হার বেশি

তথ্যে দেখা গিয়েছে, যে সব মহিলারা স্কুলে যাননি তাঁদের সন্তান শিক্ষিত মহিলাদের চেয়ে অনেক বেশি। উত্তরপ্রদেশে অশিক্ষিত মহিলাদের উচ্চ প্রজনন হার রয়েছে। স্কুলে না যাওয়া মহিলাদের টিএফআর দাঁড়িয়ে রয়েছে ৩.‌৫-এ এবং যে সব মহিলারা দ্বাদশ শ্রেণী বা তার বেশি পড়াশোনা করেছেন তাঁদের টিএফআর ১.‌৯-তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে ১৯৯৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে শিক্ষিত মহিলাদের টিএফআরের উন্নতি হয়েছে।

রাজ্যে বেড়েছে জন্মনিরোধক প্রসার হার

রাজ্যে বেড়েছে জন্মনিরোধক প্রসার হার

উত্তরপ্রদেশে বহু বছর ধরেই বিবাহিত মহিলাদের মধ্যে জন্মনিরোধক প্রসার হার (‌সিপিআর)‌ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে এটি ৪৬ শতাংশ ছিল,যা ১৯৯৯ সাল থেকে দেড়গুণ বেশি, সেই সময় তা মাত্র ২৭ শতাংশে ছিল। সিপিআর গ্রামীণ এলাকায় ৪২ শতাংশ যা শহরাঞ্চলের (‌৫৬ শতাংশ)‌ চেয়ে অনেক কম।

যোগী আদিত্যনাথের মন্তব্য

যোগী আদিত্যনাথের মন্তব্য

রবিবার নতুন এই নীতি প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন যে দুই সন্তানের পরিকল্পনা করলে তাদের মধ্যে ব্যবধান রাখা দরকার তবেই রাজ্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে। যোগী এর আগেই টুইট করে বলেছিলেন, '‌উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠার চাবিকাঠি হল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ।' সরকার যে এমন ঘোষণা করতে চ‌লেছে এমন জল্পনা আগে থেকেই ছিল। শনিবারই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলের একটি খসড়া রাজ্যের আইন কমিশনের ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়া হয়। চাওয়া হয় সাধারণ মানুষের মতামত। এই খসড়া পরে বিধানসভায় পেশ করা হবে।‌ এদিন নতুন নীতির কথা জানানোর সময় যোগী বলেন, দুই সন্তানের মধ্যেই ব্যবধান রাখা দরকার। তাহলেই রাজ্যের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে। আগেই তিনি টুইট করে জানিয়েছিলেন, ''উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক শর্তই হল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ।''

এই খসড়া পেশ হবে বিধানসভায়

এই খসড়া পেশ হবে বিধানসভায়

সরকার যে এমন ঘোষণা করতে চ‌লেছে এমন জল্পনা আগে থেকেই ছিল। শনিবারই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলের একটি খসড়া রাজ্যের আইন কমিশনের ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়া হয়। চাওয়া হয় সাধারণ মানুষের মতামত। এই খসড়া পরে বিধানসভায় পেশ করা হবে। প্রসঙ্গত, এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা রয়েছে দেশের মধ্যে। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি ক্রমশঃ সরকারের চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। আগামী বছর বিধীনসভা নির্বাচনের আগেই যোগী সরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পদক্ষেপ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অসমের পরে এই বিষয়ে উত্তরপ্রদেশের এমন পদক্ষেপ থেকে ইঙ্গিত মিলছে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই সংক্রান্ত বিল সংসদে আনতে পারে বিজেপি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+