বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলার রায় ৩১ আগস্টের মধ্যে বের করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট
বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায়দানের সময় নির্ধারিত করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে এই মামলার রায় ৩১ আগস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। যদিও রাম জন্মভূমি নিয়ে রায় গতবছরই দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, কিন্তু বাকি ছিল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলাটি। যার শুনানি চলছে দুটি আদালতে। এই মামলায় শীর্ষ বিজেপি ও ভিএইচপি নেতাদের নাম উঠে এসেছে।

করোনা সংক্রমণের কারণে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আর এফ নারিম্যান ও সূর্য কান্তের সাংবিধানিক বেঞ্চে জরুরিভিত্তিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই শুনানি চলছে। লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতেও এই শুনানি চলছে, সেখানেও রায়দানের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যাতে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। একটি হল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত এবং অন্যটি হল মসজিদ ভাঙার জন্য জনসাধারণকে উত্তেজিত করা। এই দু’টি ছাড়াও আরও ৪৭টি মামলা এই ধ্বংসের মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
দু’টি মামলার শুনানি চলছিল আলাদা আলাদা আদালতে। একটি লখনউতে (বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত মামলা) ও অন্যটি রায় বরেলি আদালতে (অন্যটি হল মসজিদ ভাঙার জন্য জনসাধারণকে উত্তেজিত করা)। লখনউ কোর্টে যে ২২ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুনানি চলছিল তার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ২১ জনের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন, লাল্লু সিং ও সাক্ষী মহারাজ, আর এন শ্রীবাস্তব, পবন পাণ্ডে, ব্রিজ ভূষণ সিং। এর মধ্যে ফৈজাবাদের জেলাশাসক হলেন আর এন শ্রীবাস্তব।
দু’জন অভিযুক্ত আচার্য গিরিরাজ কিশোর ও অশোক সিংঘলের মৃত্যুর পর রায় বরেলি আদালতে শুনানি চলছিল মোট ছ’জনের। কিন্তু গত বছরই ভিএইচপি নেতা ভিএইচ ডালমিয়ার মৃত্যুর পর লাল কৃষ্ণ আদবানি, মুরলি মনোহর যোশী, বিনয় কাটিয়ার, রিতাম্ভরা ও উমা ভারতী এই পাঁচজনের শুনানি চলছে বর্তমানে।
২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে বিচার না হওয়া দু’টি মামলা একসঙ্গে করে লখনউতে বিশেষ আদালত তৈরি করে শুনানির ব্যবস্থা করতে। এছাড়াও শীর্ষ আদালত ১৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুনঃস্থাপনেরও নির্দেশ দিয়েছিল, যাদের আগে হাইকোর্ট এই মামলা থেকে বাদ দিয়েছিল। তবে সেই ১৩ জনের মধ্যে আবার বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ বৈকুনাথ লাল শর্মা সহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ছ’জনের শুনানি চলছে। এই মামলায় অভিযুক্ত কল্যাণ সিং, যিনি আবার রাজস্থানের গর্ভনর ছিলেন, তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশেষ শুনানি আদালতে হাজিরা দেন। তিনি সম্প্রতি জামিনে রয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications