নির্ভয়া কাণ্ডের চার আসামি অবসাদে রয়েছে, ছেড়েছে খাওয়া–দাওয়া
২০১২ সালের ডিসেম্বরে ঘটেছিল সেই ভয়ানক ঘটনাটি। দিল্লির চলন্ত বাসে ডাক্তারি ছাত্রীর ওপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়েছিল। সেই নির্ভয়া কাণ্ডের চার সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যুর দিন আসন্ন। শুক্রবার জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, চারজন আসামি অবসাদে চলে গিয়েছে। তিহার জেল কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর কড়া নজর রাখছে যাতে তারা নিজেদেরকে কোনওভাবে আহত না করে।

জানা গিয়েছে, প্রত্যেকটি আসামির জন্য চার থেকে পাঁচজন করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চারজন আসামি অক্ষয়, মুকেশ, পবন গুপ্তা এবং বিনয় শর্মা খাবারও খাচ্ছে না ঠিকমতো। শুক্রবার তিহার জেলের ডিজি সন্দীপ গোয়েল জেল নম্বর ৩, যেখানে ফাঁসি দেওয়া হবে, তার প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে যান এবং তা দেখে সন্তুষ্ট হন তিনি।
নির্ভয়া কাণ্ডের আর এক দোষী রাম সিং ২০১৩ সালে জেলের মধ্যেই আত্মহত্যা করেছিল। তাই সেই ঘটনার পর থেকে ওই চার আসামির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়। বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের নিরাপত্তাও। প্রসঙ্গত, নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী সাবশস্ত করা হয়েছিল ছ’জনকে। যার মধ্যে একজন ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাকে জুভেনাইল হোমে রাখা হয়েছিল। তিনবছর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাই–প্রোফাইল এই মামলার কোনও তথ্য যাতে বাইরে না যায় তার জন্য তিহার জেল কর্তৃপক্ষের ফোনের ওপরও নজরদারি চলছে। শুক্রবার ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে চারজনকে আদালতে পেশ করা হয় এবং বিচারক তাদের পরিচয় যাচাই করে। ফাঁসুড়ের খোঁজ পাওয়া না গেলেও তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে এমন অনেকে অনুরোধ করেছেন যে তাঁরা স্বেচ্ছায় ফাঁসুড়ের কাজটি করবেন।
তামিলনাড়ুর রামনাথপুরম পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান কনস্টেবল এস সুভাষ শ্রীনিবাসন তিহার জেলের ডিজিকে চিঠি লিখে চারজন আসামিকে ফাঁসি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মিরুট জেলের ফাঁসুড়েও ওই চারজনকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তৃতীয় প্রজন্মের ফাঁসুড়ে পবন জল্লাদ ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দুই হত্যাকারী তথা কুখ্যাত অপরাধী রঙ্গা ও বিল্লাকে ফাঁসি দিয়েছেন।
২০১২ সালের ১৬–১৭ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে ২৩ বছরের প্যারামেডিক্যাল ছাত্রীকে চলন্ত বাসের মধ্যে ছ’জন মিলে গণধর্ষণ করে। এর পাশাপাশি চলে তার ওপর পাশবিক অত্যাচার, ছাত্রীর গোপনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে রাস্তায় ফেলে দেয় তারা। ২৯ ডিসেম্বর জীবনের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যায় ওই ছাত্রী, সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।












Click it and Unblock the Notifications