এসআইআর প্রক্রিয়ায় উত্তরপ্রদেশে বিপুল ভোটার নাম কাটা পড়ায় ক্ষতি ঠেকাতে মরিয়া বিজেপি
উত্তরপ্রদেশে খসড়া এসআইআর তালিকা প্রকাশ হতেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন। গোটা রাজ্যে ২ কোটি ৮৯ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম উধাও! সব মিলিয়ে ১২টি রাজ্যের মধ্যে ভোটার নাম কাটা সবচেয়ে বেশি উত্তরপ্রদেশেই আর সেই ঝড় লেগেছে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে।
লখনউতে প্রায় ৩০ শতাংশ, ঘাজিয়াবাদে ২৮ শতাংশ ভোটার নাম মুছে যাওয়ায় চমকে গেছে সব পক্ষই। পাশাপাশি কানপুর, মীরাট, প্রয়াগরাজ, আগ্রা, সাহারানপুর, গৌতম বুদ্ধ নগর, বলরামপুর একেকটা শহরেই নাম কাটা যেন মহামারির মতো ছড়িয়েছে।

শুধু তাই নয়, মুসলিম-প্রধান এলাকাতেও ভোট হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বিজেপির। কিছু বিধানসভা কেন্দ্রে যেখানে গতবার ৫ থেকে ২০ হাজার ভোটে জিতেছিল দল, এবার সেখানেই নাকি উড়ে গেছে প্রায় এক লক্ষ ভোট!
২০২৭ এর ভোটের আগে বিপদ বুঝেই এবার বিজেপিতে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরি সহ শীর্ষ নেতৃত্ব ভার্চুয়াল বৈঠকে জরুরি রূপরেখা এঁকেছেন। বৈঠকে ছিলেন সাংসদ মন্ত্রী প্রতিনিধিরা, জেলা সভাপতি থেকে সংগঠনের বড় নেতারা সবাইকে দেওয়া হয়েছে স্পষ্ট বার্তা, "এটি ব্যক্তিগত নির্বাচনী লড়াইয়ের মতো দেখুন, মাঠে নেমে কাজ করুন।"
সংগঠনের নির্দেশ, অফিসবেয়ারদের হাতে হাতে পৌঁছে দিতে হবে ফর্ম ৬ প্রতিটি মণ্ডল,মওয়ার্ড,জেলা স্তরে গড়তে হবে বিশেষ টিম,প্রতিদিন বুথভিত্তিক রিপোর্ট যাবে কেন্দ্র দপ্তরে,শহরের ভোটে বাড়তি নজর বাধ্যতামূলক।
মন্ত্রী সাংসদ বিধায়ক সবাই থাকবে বুথে উপস্থিত,১৭ জানুয়ারি বড়সড় পর্যালোচনা বৈঠক, লোকাল সাংসদ বা বিধায়ক না থাকলে দায়িত্ব মিলবে রাজ্যসভা সদস্য ও এমএলসি দের। ইতিমধ্যে সংগঠনের নির্দেশে ১০ সদস্যের ওয়ার্কিং টিম গড়ার কাজও শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়।
দলের সূত্র বলছে, পুরো প্রক্রিয়া নজরে রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দায়িত্ব দিয়েছে ওবিসি মোর্চার প্রধান ও রাজ্যসভার সাংসদ কে লক্ষ্মণকে।
সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকার ঝড়ে বিজেপি এখন সম্পূর্ণ যুদ্ধ মোডে, লক্ষ্য একটাই, খোয়া যাওয়া ভোট ফিরিয়ে আনা ও ভোটযুদ্ধের মাঠে ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানো।












Click it and Unblock the Notifications