কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে দশটি অজানা তথ্য জেনে নিন একনজরে
কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে দশটি অজানা তথ্য
২০১৯–২০ সালের আর্থিক বর্ষে ৫ জুলাই পেশ হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাজেট। যা পেশ করেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সদ্য ক্ষমতায় আসা মোদী সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করবেন সীতারমনই। ইন্দিরা গান্ধীর পর সীতারমন দ্বিতীয় মহিলা যিনি বাজেট পেশ করতে চলেছেন। ১ ফেব্রুয়ারি এই বাজেট পেশের আগে দেখে নেওয়া যাক স্বাধীন ভারতে বাজেট সংক্রান্ত ১০টি তথ্য।

প্রথম অন্তর্বতীকালীন বাজেট
স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতে প্রথম অন্তর্বতীকালীন বাজেট পেশ হয়। যা পেশ করেন ভারতের প্রথম অর্থমন্ত্রী আর কে শানুখাম ছেত্রী। এটি কেবল অর্থনীতির পর্যালোচনা ছিল এবং পরবর্তী আর্থিক বছরের জন্য বাজেট উপস্থাপনের দিনটি ১০০ দিনেরও কম থাকায় কোনও নতুন করের পরিবর্তন প্রস্তাব করা হয়নি। এর পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট স্বল্প সময়ের জন্য পরিচিতি পেতে শুরু করে।

ইন্দিরা গান্ধীর বাজেট পেশ
১৯৬৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মহিলা হিসাবে প্রথম বাজেট পেশ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দিরা গান্ধী তার দলের (কংগ্রেস) সঙ্গে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ইন্দিরা গান্ধী তাঁর সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা দেশের অর্থমন্ত্রী মোরাজি দেশাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ না করেই দেশের ১৪টি বড় ব্যাঙ্ককে রাষ্ট্রীয়করণ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর স্বৈরাচারিতা মেনে নিতে পারেননি এবং ওই বছরই তিনি অর্থ মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মোরাজি দেশাইয়ের পর এই পদে আসেন ইন্দিরা গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন। এভাবেই দেশের প্রথম মহিলা অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান।

মোরাজি দেশাই বেশিরভাগ বাজেট পেশ করেন
এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাজেট পেশ করার জন্য শীর্ষে রয়েছেন মোরাজি দেশাই। তিনি ১০টি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন। এরপরই নাম রয়েছে পি চিদম্বরমের, তিনি ন'টি বাজেট পেশ করেন এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন প্রাক্ত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, যিনি ৮ টি বাজেট পেশ করেছেন।

হালুয়া উৎসব
ভারতীয় ঐতিহ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে কিছু মিষ্টি খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। বাজেট পেশের দশদিন আগে, বাজেটের কাগজ গোপনীয়তার সঙ্গে মন্ত্রক তালা দিয়ে রাখে, ঠিক সেই সময়ই হালুয়া অনুষ্ঠান হয়। গোটা অর্থ মন্ত্রক সহ যাঁরা মুদ্রন কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের সকলকে অর্থমন্ত্রী নিজের হাতে হালুয়া পরিবেশন করেন।

রাজীব গান্ধীর বাজেট পেশ
১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর দেশের দশম মন্ত্রীসভার প্রধানমন্ত্রী হন রাজীব গান্ধী। ওই বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ভিপি সিং। তবে ১৯৮৭ সালে ভিপি সিংকে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়, যদিও তা কেন তা নিয়ে বহু জল্পনা রয়েছে। ভিপি সিং কংগ্রেস ও লোকসভা থেকেও পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর রাজীব গান্ধী ১৯৮৭-৮৮ সালের আর্থিক বছরের বাজেট পেশ করেন।

স্বপ্নের বাজেট
১৯৯৭-৯৮ সালের বাজেটকে সঞবপ্নের বাজেট বলা হয় ভারতীয় অর্থনীতিতে। কারণ এই বাজেটে আয় এবং কর্পোরেট করের হার হ্রাস করার মতো বড় অর্থনৈতিক সংস্কার করা হয়েছিল। যা পেশ করেছিলেন পি চিদম্বরম।

সাংবিধানিক সংকট
১৯৯৮-৯৯ সালের বাজেট কোনও বিতর্ক ছাড়াই পাস করা হয়েছিল, কারণ সেখানে সাংবিধানিক সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই সময় তৎকালীন আই কে গুজরাল সরকার বিলুপ্ত হওয়ার পথে ছিল। বাজেট পাশ করার জন্য সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল।

বাজেটের সময় বদল
বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হয় সকাল এগারোটার সময়। কিন্তু আগে তা ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কর্মদিবসের দিন বিকেল পাঁচটায় পেশ করা হতো। এই রীতির বদল ঘটান প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। তিনি ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ কর্মদিবসে বিকেল পাঁচটার বদলে সকাল ১১টায় বাজেট পেশ করেন।

রেল বাজেট ২০১৬
২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় বাজেটের সঙ্গেই রেল বাজেটের ঘোষণা করা হয়েছিল। যা ৯২ বছরে প্রথমবার হয়েছিল।

বাজেট পেশে দিন
২০১৭ সালে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বাজেট পেশের দিনটির বদল করেন। তিনি শেষ কর্মদিবসের পরিবর্তে ফেব্রুয়ারি ১-কেই বাজেট পেশের দিন হিসাবে ধরতে বলেন। কারণ যাতে আগামী অর্থবছরের শুরুতে বাজেটের পরিবর্তনগুলি কার্যকর করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া যায়, যা ১ এপ্রিল।












Click it and Unblock the Notifications