ঘূর্ণিঝড় তাউকটে আম্ফানের থেকেও শক্তিশালী! ২০ বছরের ‘সেরা’ ঝড় ধেয়ে আসছে পশ্চিম উপকূলে
ঘূর্ণিঝড় তাউকটে আম্ফানের থেকেও শক্তিশালী! ২০ বছরের ‘সেরা’ ঝড় হতে পারে পশ্চিম উপকূলে
২০২১ সালের প্রথম ঘূর্ণিঝড় আরব সাগরে বাসা বাঁধতে চলেছে। ঘূর্ণিঝড় তাউকটে শক্তি বাড়িয়ে সুপার সাইক্লোনের রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে গুজরাত-সহ ভারতের পশ্চিম উপকূলের রাজ্যগুলিতে সতর্ক করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিম উপকূল অভিমুখী ঝড়গুলির মধ্যে ঘূর্ণিঝড় তাউকটে দুই দশকের মধ্যে সবথেকে শক্তিশালী বলে মনে করছে আবহাওয়া দফতর।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে তাউকটে
ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর বা আইএমডি এই ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে সর্বশেষ আপডেটে জানিয়েছে যে, ১৩ মে সকালে লাক্ষাদ্বীপের নিকটবর্তী দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরে একটি নিম্নচাপের অঞ্চল তৈরি হয়েছে। এরপর ১৪ বিকেলে জারি করা সর্বশেষ আপডেটে বলেছে, কেরলের কন্নুর থেকে পশ্চিমে ২৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই নিম্নচাপ ১৪ মে সন্ধ্যা থেকে ১৫ মে সকালের মধ্যে শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ের পরিণত করবে।

৬০ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় তাউকটে হবে সুপার সাইক্লোন
আইএমডি পূর্বাভাস দিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ১৪ মে সন্ধ্যার পর থেকে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে এবং এর পরে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে অভিমুখে অর্থাৎ গুজরাট উপকূলের দিকে ধেয়ে যাবে। ১৫ মে সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে আকার নেবে। ১৬ মে সন্ধ্যায় তা সুপার সাইক্লোনে পরিণত হতে পারে। ফলে করোনাকালে আরও এক বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে ভারতকে।

১৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ধেয়ে আসতে পারে তাউকটে
ঘূর্ণিঝড় তাউকটে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হলে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে আসতে পারে। এবং অতি মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় হতে পারে ভারতের পশ্চিম উপকূলে। আইএমডি পূর্বাভাস দিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ১৮ মে সকালে গুজরাট উপকূলে পৌঁছে যাবে। আর এই ঝড়কে পশ্চিম উপকূলে ২০ বছরের মধ্যে সবথেকে শক্তিশালী সাইক্লোন বলে মনে করছে আইএমডি।

উপকূলে পৌঁছনোর আগে তাউকটের আম্ফানের থেকে ভয়াবহ রূপ
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় রাজ্যগুলিকে এই সুপার সাইক্লোন থেকে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। আইএমডির পূর্বাভাস, গুজরাট এবং পাকিস্তান উপকূলের দিকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে অভিমুখে রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের। ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি সঞ্চয় করছে। ১৮ মে সন্ধ্যা নাগাদ গুজরাট উপকূলে পৌঁছনোর আগে তা আম্ফানের থেকে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলের কাছাকাছিই থাকছে, ফলে পশ্চিমে দুর্যোগ শুরু
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলের কাছাকাছিই থাকবে, যার অর্থ কেরল, কর্ণাটক, গোয়া এবং মহারাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। ১৪ মে থেকে শুরু হয়ে সপ্তাহভর ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইবে পশ্চিম উপকূলবর্তী এলাকায়। ফলে পশ্চিম উপকূলের সমস্ত রাজ্যগুলিকেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

অভিমুখ বদল হলেই দুটি মহানগরীকে ছারখার করে দিতে পারে এই ঝড়
বেসরকারি আবহাওয়া নিরীক্ষণ সংস্থারও ভবিষ্যদ্বাণী, আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পশ্চিম উপকূলে দুই দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দুটি উচ্চ জনবহুল শহর- মুম্বই এবং করাচিও এই ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখে থাকবে। একটু আধটু অভিমুখ বদল হলেই দুটি মহানগরীকে ছারখার করে দিতে পারে এই ঝড়।

উষ্ণায়নের ফলে তুলনামূলকভাবে শীতল আরব সাগরকে উষ্ণাঞ্চলে পরিণত
পুনে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিকাল মেটেরোলজি জানিয়েছে, আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ফ্রিকোয়েন্সি এবং তীব্রতা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বেড়েছে। এটি দ্রুত উষ্ণায়নের ফলে তুলনামূলকভাবে শীতল আরব সাগরকে উষ্ণাঞ্চলে পরিণত করেছে, যার ফলে সক্রিয়ভাবে ঘূর্ণিঝড় গঠনে সমর্থ হয়ে উঠেছে আরব সাগর।












Click it and Unblock the Notifications