সুদীপ দল ছাড়লে কী হবে বিপ্লব দেব সরকারের, তৃণমূলে যোগ-জল্পনায় ভাসছে অনেক অঙ্ক
সুদীপ দল ছাড়লে কী হবে বিপ্লব দেব সরকারের, তৃণমূলে যোগ-জল্পনায় ভাসছে অনেক অঙ্ক
সুদীপ রায় বর্মনের হাত ধরেই ২০১৬-য় ত্রিপুরায় শুরু হয়েছিল তৃণমূলের পথ চলা। কিন্তু সেই পথ থমকে যায় গেরুয়া বাঁকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংগঠন বিস্তারে ত্রিপুরায় পাঠিয়েছিলেন মুকুল রায়কে। কিন্তু এ রাজ্যে মুকুল রায়ের বিজেপি-যোগের পর থেকেই ত্রিপুরার সংগঠন ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এবার তৃণমূল ত্রিপুরায় পা রাখা থেকেই মুকুল-ঘনিষ্ঠ সুদীপ রায় বর্মনকে নিয়ে জল্পনার শুরু হয়।

সুদীপ তৃণমূলে ফিরলে, রাতারাতি বদলে যাবে তৃণমূলের চেহারা
এহেন সুদীপ রায় বর্মনের মানভঞ্জনে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। তিনি তৃণমূলে পা বাড়িয়ে রয়েছেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সোমবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসার পর রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। একাংশ মনে করছে, সুদীপ তৃণমূলে ফিরলে, রাতারাতি তৃণমূলের চেহারা বদলে যাবে।

তৃণমূল আটঘাট বেঁধে নেমেছে এবার, তৈরি হয়েছে ক্ষেত্র
কিন্তু কোন জাদুবলে তা সম্ভব? ২০১৬-য় কংগ্রেস ছেড়ে সুদীপ রায় বর্মনরা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর রাতারাতি তৃণমূল হয়ে গিয়েছিল ত্রিপুরার প্রধান বিরোধী দল। কিন্তু সেই উচ্চাসন তাঁরা ধরে রাখতে পারেনি। একেবারে নিঃশেষ হয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু এবার তৃণমূল আটঘাট বেঁধে নেমেছে। ত্রিপুরায় তৃণমূলের একটা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এখন এই দলের মাথায় যদি সুদীপ রায় বর্মন, প্রদ্যোৎ দেব বর্মার মতো পরিচিত মুখরা আসেন, তবে দলের সাংগঠনিক চেহারা বদলে যাবে অচিরেই।

তৃণমূলের দরকার তাঁদের, যাঁরা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারবে
এমনিতেই ত্রিপুরায় তৃণমূল একমাসের মধ্যেই বিস্তার লাভ করেছে। কিন্তু এখনও নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে বাংলার নেতাদের। ত্রিপুরার মানুষ ঝুঁকছেন তৃণমূলের দিকে। এবার ত্রিপুরা তৃণমূলে এমন কিছু নেতাকে আনতে হবে, যাঁরা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে পারবে। আর সেই কাজে সুদীপ রায় বর্মন অটোমেটিক চয়েস হবেন।

সুদীপ রায় বর্মন তৃণমূলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন
সম্প্রতি বাংলায় ঘুরে গিয়েছেন সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের কোনও গোপন বৈঠক হয়েছে কি না, কিংবা তাঁর রাজনৈতিক গুরু মুকুল রায়ের সান্নিধ্যে তিনি এসেছিলেন কি না, তা আলোচ্য বিষয় নয়। আলোচ্য হল, সুদীপ রায় বর্মন তৃণমূলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। তিনি বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছেন। সম্প্রতি বেশ কিছু ঘটনায় এই প্রবণতা স্পষ্ট।

সুদীপের বিজেপি ছাড়া ও তৃণমূলে ফেরার জল্পনা জোরদার
বিপ্লব ও সুদীপের মানভঞ্জনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বৈঠকে বসেছিল সোমবার। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে 'অপমানিত' হয়ে বৈঠক শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বেরিয়ে গেলেন সুদীপ রায় বর্মন। এরপর তাঁর বিজেপি ছাড়া ও তৃণমূলে ফেরার জল্পনা আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। সুদীর বছরাবধি বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলছেন। হালে তৃণমূল রাজ্যে পা দেওয়ার পর দল তাঁকে নিয়ে বৈঠকে বসলেও কোনও সুরাহা হয়নি।

বিজেপির বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক সুদীপ রায় বর্মনের
এরই মধ্যে সুদীপ রায় বর্মনের নেতৃত্বে বিজেপির একাংশ বিধায়ক বৈঠক করেন। সোমবার আগরতলার এক প্রেক্ষাগৃহে বিজেপির বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন সুদীপ রায় বর্মন। বিজেপির বর্তমান বিধায়ক আশিস সাহা, আশিস দাস-সহ ত্রিপুরা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রণজয় দেবও হাজির ছিলেন সেই বৈঠকে। বিপ্লব দেব সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য তুলে ধরেন বিজেপির নেতা-নেত্রীরা।

সুদীপ বনাম বিপ্লব কোন্দলে বিজেপি ব্যাকফুটে ত্রিপুরায়
২০১৮-য় ত্রিপুরায় বিজেপির নেতৃত্বে পরিবর্তন সরকার গঠনের পর থেকেই শুরু হয় সুদীপ বনাম বিপ্লব কোন্দল। বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে ত্রিপুরায় পরিবর্তন সরকার গঠন হয়েছিল। কিন্তু পরিবর্তনের এই যুদ্ধে সুদীপ রায় বর্মনদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সুদীপকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করা হলেও, তাঁর সঙ্গে বিবাদ লেগেই থাকে প্রথম থেকে। প্রকাশ্যেই অন্তর্কলহে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ও তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মনকে। সেই অন্তর্কলহের জেরে কিছুদিনের মধ্যেই সুদীপকে বিপ্লবের মন্ত্রিসভা ছেড়ে দিতে হয়। তারপর বিজেপিতে থাকলেও তিনি সক্রিয় ছিলেন না।

সব আশায় জল ঢেলে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান সুদীপ
এবার দিল্লির নেতৃত্বের উদ্যোগেও বিজেপির অন্দরের ছবিটা বদলাল না। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করেছিল, উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় ফেরাতে সুদীপ ও বিপ্লব কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বেন। সেই আঙ্গিকে রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, সুদীপ রায় বর্মন কোনও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক পেতে পারেন। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে বৈঠক থেকে অপমানিত হয়ে সুদীপ রায় বর্মন পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে যান।












Click it and Unblock the Notifications