ভিক্ষা নয়, আজ জিএসটি বৈঠকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আগুন ঝড়াবেন মমতা-গেহলটরা!
করোনা পরিস্থিতিতে গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স বকেয়া রাখার জন্য কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে চলেছে রাজ্য সরকারগুলি। মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীরা বুধবার এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে একপ্রস্থ আক্রমণ করেছেন ইতিমধ্যেই। আজকের বৈঠকে সেই আক্রমণ আরও তীব্র হতে চলেছে বলেই অনুমাণ বিশেষজ্ঞ মহলের।

আজ জিএসটি পরিষদের বৈঠক
আজ জিএসটি পরিষদের বৈঠক। তার আগে নীতি নির্ধারণের জন্য তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে সেই বৈঠকের আগে ক্ষতিপূরণ আদায়ে গঠনমূলক ভূমিকা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, গতকাল ভার্চুয়াল বৈঠকে অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনাও করেন সনিয়া।

জোট বেঁধেছে বিরোধীরা
কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে পঞ্জাব, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীদের ভার্চুয়াল বৈঠকে বকেয়া জিএসটি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বুধবার। সেই সময়ই প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন এই তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।

কেন্দ্রকে মমতার আক্রমণ
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমরা ভিখারি নই। ভিক্ষা চাইছি না। এগুলি আমাদের বকেয়া পাওনা। পশ্চিমবঙ্গ এখনও কেন্দ্রের কাছ থেকে ৫৩ হাজার কোটি টাকা পায়নি। কোনও তহবিল নেই। শ্রমিকদের বেতন দেওয়া খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতি।'

কেন্দ্রকে আক্রমণ অমরিন্দর সিংয়েরও
পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং বলেন, 'রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। বর্তমানের হিসেব বলছে, পঞ্জাব চলতি অর্থ বছরে ২৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দিয়ে শেষ করবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে কাজ করার জন্য আমার কাছে অর্থ নেই। কীভাবে বেতন এবং অন্যান্য ক্ষতিপূরণ দেব জানি না। আমরা ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছি। কেন্দ্র বকেয়া জিএসটি এখনও পূরণ করেনি।'

লড়াইয়ের ডাক উদ্ধব ঠাকরের
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেও অন্যান্য মুখ্যমন্ত্রীদের তাঁদের অধিকারের জন্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, 'প্রথমে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়ব না কি পিছিয়ে আসব। যদি আমাদের লড়াই করতে হয় তবে আমাদের যেকোনও মূল্যে তা করতে হবে। এপ্রিল থেকে রাজ্যগুলি বকেয়া জিএসটি পায়নি। এই বকেয়া করের পরিমাণ দিনের পর দিন বাড়ছে। কেন্দ্রকে বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কখনও উত্তর মেলে, কখনও মেলে না।'

আক্রমণে সনিয়া
সনিয়া গান্ধী বৈঠকে বলেন, '১১ অগাস্ট অর্থ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভারত সরকারের অর্থসচিব বলেছিলেন, কেন্দ্র চলতি বছরের জন্য ১৪ শতাংশ বাধ্যতামূলক জিএসটি দেওয়ার মতো জায়গায় নেই। এটি মোদি সরকারের বিশ্বাসঘাতকতার চেয়ে কম কিছু নয়।' এদিকে, কেন্দ্রের রিলিজে বেশি প্রভাবিত রাজ্যগুলিতে জিএসটি দেওয়া নিয়ে আজই বৈঠক করবে জিএসটি কাউন্সিল।
করোনা আবহে দেশের অর্থনীতি সঙ্কুচিত হতে পারে ৯ শতাংশ পর্যন্ত! ম্যাককিনসের পূর্বাভাসে আশঙ্কা