শুরু সংসদের শীতকালীন অধিবেশন, কোন কোন বিল পেশ হবে এক নজরে
আজ থেকেই শুরু হয়েছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধিবেশন চলার কথা। প্রথম দিন থেকেই বিরোধীদের বিক্ষোভে উত্তাল লোকসভা।
আজ থেকেই শুরু হয়েছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধিবেশন চলার কথা। প্রথম দিন থেকেই বিরোধীদের বিক্ষোভে উত্তাল লোকসভা। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবাধ ও সুষ্ঠু আলোচনার বার্তা দিয়েছেন। এবারের অধিবেশনেও একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করতে চলেছে মোদী সরকার।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল
এবারের শীতকালীন অধিবেশনে মোদী সরকারের প্রধান টার্গেট নাগরিক সংশোধনী বিল পাস করানো। প্রথম দিন থেকেই এই নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সংসদে। বিরোধীরা কোনওভাবেই এই বিল পাস করতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন। ১৯৫৫ সালের এই বিলে সংশোধনী আনতে চায় বিজেপি সরকার। সংশোধনীতে বলা হয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান সহ প্রতিবেশি দেশগুলি অ-মুসলিম বাসিন্দাদের ১১ বছরের পরিবর্তে ৬ বছর থাকলেই মিলবে ভারতের নাগরিকত্ব। এই বিলের প্রতিবাদে গত শুক্রবার থেকেই দফায় দফায় বিক্ষোভ চলছে উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে।

ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা বিল
সাইবার ক্রাইম আর ডেটা চুরি রুখতে এই বিল পাস করাতে চায় কেন্দ্র। জাতীয় সুরক্ষার খাতিরেও এই বিল পাস করানো জরুরি বলে দাবি করেছে মোদী সরকার। এতে সরকার ব্যক্তির অনুমতিতেই তাঁর তথ্য সুরক্ষিত রাখবে। দেশে অথবা বিদেশে বসবাসীকারী ভারতীয়দের তথ্য সুরক্ষিত রাখা হবে সরকারি নজরদারিতে। জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে এবং ডাক্তারি এবং সাংবাদ সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে যাতে সুরক্ষিত থাকে সেকারণেই এই বিল পাস করাতে চাইছে কেন্দ্র।

রূপান্তরকামীদের অধিকার ও সুরক্ষা বিল
এই বিলটি বাদল অধিবেশনেই পেশ করেছিল মোদী সরকার। রূপান্তরকামীদের সমাজে সুরক্ষা দিতেই বিলটি পাস করাতে চায় মোদী সরকার। রূপান্তরকামীদের যাতে কোনওরকম হেনস্থার স্বীকার হতে না হয়। তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে না হয় সেকারণেই এই বিল পেশ করা হচ্ছে।

জলাধার সুরক্ষা বিল
বিলটি লোকসভা পাস হয়েছে ৫ অগস্ট। এবার রাজ্যসভার অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। দেশের সব জলাধার গুলির যাতে ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং চালনা হয় সেকারণেই বিল পাস করাতে চায় মোদী সরকার। গত কয়েকটি বর্ষায় জলাধার গুলির জল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এতে বিপুল বন্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে একাধিক রাজ্যকে। এই পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় সেকারণেই এই বিল পাস করাতে চাইছে মোদী সরকার।

চিটফান্ড সংশোধনী বিল
বাদল অধিবেশনেই বিলটি পেশ করা হয়েছিল। ১৯৮২ সালের চিটফান্ড আইনের সংশোধনীর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই বিলে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনও চিটফান্ড যাতে না চলে তার জন্যই এই বিল পাস করাতে চাইছে মোদী সরকার। সারদা কাণ্ডের পরেই এই বিল পাস করানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে মোদী সরকার।












Click it and Unblock the Notifications