জেডিইউ-আরজেডির ভোটব্যাঙ্কে থাবা তৃতীয় ফ্রন্টের, বিহারের জগাখিচুড়িতে ওয়েইসি-মায়াবতীর জোট
মুসলিম অধ্যুষিত একাধিক রাজ্যে পিএফআই-এর আড়ালে নিজেদের জমি শক্ত করতে নেমেছিলেন হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। সেই পথ আরও সুদৃঢ় করতেই বিহার নির্বাচনে নামার ঘোষণা করেছিল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন। এবং একা লড়ে ভোট কাটার পথে না হেঁটে বিহারে বিকল্প তৃতীয় ফ্রন্টের উদয় হল ওয়েইসি-মায়াবতীর হাত ধরে।

দলিত এবং মুসলিম ভোট কেন্দ্রীভূত
দলিত এবং মুসলিম ভোট কেন্দ্রীভূত করে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়লেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং মায়াবতী। যদিও এই জোটের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ করা হয়েছে এই জোটের বৃহত্তম শরিক আরএলএসপি সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপেন্দ্র কুশওয়াহাকে। এবং এখানেই বিহারের যাদব বিরোধী কুশওয়াহা ভিত্তিক ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে তৃতীয় ফ্রন্ট। এই কুশওয়াহা ভিত্তিক ভোটব্যাঙ্কটি আদতে জেডিইউর স্থায়ী আমানত হিসাবে দেখা হয়।

৬টি দলের জোট
আরএলএসপি, বিএসপি, এআইএমআইএম ছাড়াও এই জোটে থাকছে দেবেন্দ্র প্রসাদ যাদবের সমাজবাদী জনতা দল, সন্তোষ পাণ্ডের এসবিএসপি-সহ কয়েকটি ছোট এলাকাভিত্তিক দল। এদিন যৌথ প্রেস কনফারেন্সে এই ছোট দলগুলি তৃতীয় ফ্রন্টের কথা ঘোষণা করেছে। বিহারের জাতিগত সমীকরণে এই তৃতীয় ফ্রন্ট বেশ ভালো প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দলিতদের দল মায়াবতীর বিএসপি
দলিতদের রাজনৈতিক দল হিসাবে ঘোষিত বিএসপি। তাছাড়া গত বছর সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে মুসলিমদের মুখ হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন ওয়েইসি। এছাড়া বিহারের মহাদলিত, কুরমি, মল্লা জাতিদের নেতারাও এই জোটে রয়েছে। এদিকে বিএসপি বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধায় তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার তকমায় ফের দাগ লেগেছে। এদিকে আরজেডিরও এই জোট অনেক ক্ষতি হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

জাতিভিত্তিক ভোটগুলিতে ভাগ বসাবে এই তৃতীয় ফ্রন্ট
কংগ্রেস-আরজেডি জোটে রয়েছে বামদলগুলি। তারা ধর্ম বা জাতপাতের নিরিখে নির্বাচনী ময়দানে নামে না। এদিকে আরজেডি সেটি করে এসেছে। এবং ঐতিহাসিকভাবে যাদব ভোট ছাড়াও মুসলিম, দলিত, কুরমি, মল্লা জাতির লোকেদের সিংহভাগ ভোট পেয়ে এসেছে আরজেডি। তবে এই জাতিভিত্তিক ভোটগুলিতে ভাগ বসাবে এই তৃতীয় ফ্রন্ট।

হিন্দি বলয়ের রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ
ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি বা জাত-পাতের নিরিখে রাজনীতি খাতায় কলমে 'উচিত' না হলেও ভারতের রাজনীতিতে এটা সব থেকে বড় ফ্যক্টর। হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলির মধ্যে বিহারে এই ইস্যুটি আরও বড় হয়ে দেখা দেয়। দলিত রাজনীতি বিহারে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি থেকে কোনও অংশে কম বড় ফ্যাক্টর। মূলত বিজেপিকে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দল হিসাবে দেখা হয়। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই জিতেন রাম মাঝিকে এনডিএতে নিয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রে আরজেডি-কংগ্রেসদের পাল্লা ভারী বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তবে এই তৃতীয় ফ্রন্ট এবার তাদের সেই অ্যাডভান্টেজে থাবা বসাতে চলেছে।

সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন নীতীশ
হিন্দু ভোট এক করতে গিয়ে রামমন্দির ইস্যুকে যেভাবে বিজেপি কাজে লাগিয়েছে তাতে নীতীশ কুমারের দলের থেকে মুসলিম ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিলে আশ্চর্য হয়ার কিছু নেই। শুধু তাই নয়, সিএএ-এনআরসি নিয়েও নীতীশের দল সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে বিরোধীদের পাল্লা ভারী হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে নয়া প্লেয়ার হিসাবে উঠে এসেছে ওয়েইসির দল এআইএমআইএম।












Click it and Unblock the Notifications