রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ করে বিজেপি আত্মঘাতী গোল খেলো, কেন একথা বললেন থারুর
রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ করে দেওয়া বিজেপির বড় ভুল। এই পদক্ষেপ বিজেপির আত্মঘাতী গোল খাওয়ার শামিল। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এমনই ব্যাখ্যা দিলেন শনিবার। তিনি বলেন, দেশে বিরোধী ঐক্যকে আরও দৃঢ় করল কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সিদ্ধান্ত।
রাহুল গান্ধীকে সাংসদ হিসেবে বরখাস্ত করার পর বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীরা এককাট্টা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বৈরাচারী বলেও কটাক্ষ করেছেন অনেকে। এবং একযোগে বিরোধীরা প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। রাহুল গান্ধীও বিরোধী সমস্ত দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁর পাশে দাঁড়ানোয়। এবং জোটবদ্দ হয়ে প্রতিবাদের বার্তা দিয়েছেন তিনি।

শশী থারুর বলেন, লোকসভা সচিবালয় যে কাজ করেছে, তা নিন্দনীয়। বিজেপির এই সিদ্ধান্ত সমস্ত বিরোধী দলকে এক করেছে। রাহুল গান্ধীর পক্ষে উপকার হবে এই সিদ্ধান্ত। এটি বিজেপির জন্য ভালো হবে না। এই ঘটনাটি সারা বিশ্বে ভারতের গণতন্ত্রকে নগ্ন করে দিয়েছে, আর তা হয়েছে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে।
থারুর বলেন, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কী ঘটেছে, তা নিয়ে শিরোনাম হয়েছে প্রতিটি দেশে। আর প্রত্যেক রাজ্যে বিরোধী ঐক্যের একটি আবহ তৈরি করে দিয়েছে, যা আগে ছিল না। এমন কিছু আঞ্চলিক দল, যাঁরা কংগ্রেসের বিরোধী, বিশেষ করে গান্ধী-বিরোধী, তাঁরাও এই ঘটনায় নিন্দা করেছেন এবং রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
শশী থারুর সুরাত আদালতের রায় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সুরাতের আদালত রাহুল গান্ধীকে দোষীসাব্যস্ত করে এবং দু-বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেয়। রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে কারাদণ্ড আবার সাংসদ পদ খারিজ বিজেপির পক্ষ বুমেরাং হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই মামলাও সঠিক পথে চালনা করা হয়নি বলে থারুর অভিযোগ করেন। অভিযোগ, বিচারক পরিবর্তন করে আবেদনকারীর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে মামলাটি আবার শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে এই রায়।
শশী থারুর বলেন, লোকসভার সদস্যপদ খারিজ করার বিজ্ঞপ্তি জারিতেও একটি পদ্ধতিগত অনিয়ম ছিল। তিনি বলেন, "সংবিধানে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। লোকসভা সচিবালয় একটি বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করালেও রাষ্ট্রপতি ভবনের সঙ্গে পরামর্শের কোনো কথা উল্লেখ নেই।"
থারুর বলেন, রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজের কথা ঘোষণা করার জন্য যে গতিতে কাজ হয়েছিল তা দেখেও তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এটা রাহুল গান্ধীকে সাংসদ পদ থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র বলে প্রমাণিত হয়েছে। সুরাতের আদালত রায়দানের পরই তড়িঘড়ি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications