পাশ হলো 'SHANTI' বিল! পরমাণু বিদ্যুতে বেসরকারি সংস্থার পথ খুলল কেন্দ্র, সংসদ ছাড়ল বিরোধীরা, কী কারণ?
ভারতের পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে বহুদিন ধরেই বেসরকারি সংস্থাগুলির মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছিল। সে কারণে, পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি নতুন আইন পাশ করল কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের দাবি, কড়া দায়বদ্ধতার আইনই তার মূল কারণ। তিনি সংসদে জানিয়েছেন যে, সেই সমস্যার সমাধান করার জন্যেই কেন্দ্র সরকার নতুন 'SHANTI' বিল এনেছে।

বুধবার লোকসভায় পাশ হয় 'Sustainable Harnessing and Advancement of Nuclear Energy for Transforming India (SHANTI) Bill'। তবে বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সভা ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান যে, এতদিন পরমাণু শক্তি খাতে কাজ করার জন্য অনেক সংস্থাই ভয় পাচ্ছিল। কোনও দুর্ঘটনা হলে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ এবং আইনি ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা ছিল তাদের মধ্যে। সেই ভয় কাটানোর জন্যেই এই নতুন আইন আনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন যে, ভবিষ্যতে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে সরকার সরাসরি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যে সংস্থা চালাচ্ছে সেখানেই কথা বলবে। যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থাকে আলাদা করে দায়ী করা হবে না। এর ফলে নতুন যে সমস্ত সংস্থাগুলি রয়েছে সেগুলো এই ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষ যেন তাদের ক্ষতিপূরণ পায়। তার জন্য অনেক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায় তো থাকবেই, পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজন হলে আর্থিক সাহায্য করবে।
এই আইনের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোই হল মূল লক্ষ্য। সরকার জানিয়েছে যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও অনেকটাই বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
তবে বিরোধী দলগুলি আশঙ্কা করছে যে, এই আইনের ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাদের মতে, যদি কোনও দুর্ঘটনা হয় তাহলে তার দায় এড়ানোর রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে সরকার জানিয়েছে যে, নিরাপত্তা এবং নজরদারির দায়িত্ব পুরোপুরি সরকারের হাতেই থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications