'দিল্লি নির্বাচনের পর শাহিনবাগকে জালিয়ানওয়ালাবাগে পরিণত করতে পারে বিজেপি', নয়া আশঙ্কা ওয়েইসির
শাহিনবাগ পরিণত হতে পারে জালিয়ানওয়ালাবাগে। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন এআইএমআইএম প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। গত ৫০ দিন ধরে চলা শাহিনবাগের অবস্থান বিক্ষোভের উপর গুলি চালিয়ে সেটিকে উৎখাত করা পথে হাঁটতে পারে বলে এদিন দাবি করেন আসাদউদ্দিন। এবং দিল্লি নির্বাচন সম্পন্ন হলেই এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে দাবি করেন হায়দরাবাদের সাংসদ।

'শাহিনবাগকে জলিয়ানওয়ালাবাগে পরিণত করতে পারে'
এএনআইকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে আসাদউদ্দিন বলেন, 'তারা (সরকার) গুলি করতে পারে। তারা শাহিনবাগকে জলিয়ানওয়ালাবাগে পরিণত করতে পারে। এটি হতে পারে। বিজেপি মন্ত্রী 'গুলি চালানোর' বিবৃতি দিয়েছেন। সরকারকে অবশ্যই এটা নিয়ে জবাব দিতে হবে যে শাহিনবাগের বিরুদ্ধে কট্টরপন্থা কে ছড়াচ্ছে।'

দিল্লি নির্বাচনের আগে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে শাহিনবাগ
প্রসঙ্গত, দিল্লি নির্বাচনের আগে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে শাহিনবাগ। নিষেধাজ্ঞা থেকে প্রচারের ময়দানে ফিরে মঙ্গলবার ফের শাহিনবাগ নিয়ে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। অনুরাগ ঠাকুর বলেছেন, দিল্লি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হলেই দিল্লীর শাহিনবাগ থেকে ধরনা উঠে যাবে। অনুরাগ ঠাকুর কেজরীবাল সরকারের উপর আক্রমণ করে বলেন, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল স্বয়ং শাহিনবাগ ধরনায় সমর্থন করেছেন। আমি আপনাদের বলতে চাই, ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসলেই শাহিনবাগ পরিস্কার হয়ে যাবে।'

'দেশের গদ্দারদের গুলি মার'
এর আগে বিজেপি নেতা দিল্লীতে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন। তখন অনুরাগ ঠাকুর মঞ্চ থেকে বলেছিলেন, দেশের গদ্দারদের গুলি মারো। মনে করা হয় যে তিনি শাহিনবাগে অবস্থানরত সিএএ বিরোধীদের উদ্দেশ্য করেই সেই উস্কানিমূলক ভাষণটি রেখেছিলেন। এরপরই নির্বাচন কমিশন অনুরাগ ঠাকুররের উপর তিন দিনের জন্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

শাহিনবাগে অবস্থান বিক্ষোভ
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় গত প্রায় দু'মাস ধরে দিল্লির শাহিনবাগে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন বহু মানুষ। শাহীনবাগের অবস্থানকারীদের মঞ্চের দিকে যেতেই চোখে পড়ে ৪০ ফিট লম্বা ভারতের একটি মানচিত্র। তার উপরে একটি স্লোগান লেখা, 'আমরা ভারতবাসীরা সিএএ, এনআরসি ও এনপিআর মানি না!' শুধু তাই নয়, প্রতিদিন বহু হকারদের সেখানে ভারতীয় পতাকা বিক্রি করতে দেখা যায়।

শাহীনবাগ ও জামিয়াতে গুলি চলার ঘটনা
দিল্লির শাহীনবাগ এলাকায় সিএএ বিরোধী অবস্থানের জায়গার কাছে গুলির শব্দ শোনা যায় ১ ফেব্রুয়ারি। পরে সেই ঘটনায় কপিল গুজ্জর নামক যুবককে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। সেই ঘটনারই কয়েকদিন আগে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে এক সিএএ বিরোধী মিছিল চলাকালীন গুলি চালিয়েছিল রামভক্ত গোপাল। সেই ঘটনায় একজন জখম হয়েছিলেন তবে আজকের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কারোর জখম হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

অবশেষে সুর নরম করে কেন্দ্র
এমন পরিস্থিতিতে শেষমেশ দিল্লি নির্বাচনের আগে শাহিনবাগের প্রতিবাদীদের সঙ্গে আলোচনার রাস্তায় যেতে রাজি হয় মোদী সরকার। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানান, শাহিনবাগের প্রতিবাদীদের সঙ্গে কথা বলতে চায় মোদী সরকার। ফলে দীর্ঘ ২ মাসের টালবাহানার পর শেষমেশ শাহিনবাগ জট কাটতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। একটি টুইটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানিয়ে দিয়েছেন যে , কেন্দ্র সিএএ নিয়ে শাহিনবাগের প্রতিবাদীদের আশঙ্কা দূর করতে চাইছে।












Click it and Unblock the Notifications