'পাত্রী চাই' বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসায়ীদের থেকে 'যৌতুক' লুঠ,মাস্টারমাইন্ড পুলিশের জালে!
নয়াদিল্লি, ১৮ নভেম্বর : প্রথমে 'সরকারি আমলা পাত্র'-র জন্য পাত্রী চাইয়ের বিজ্ঞাপন। টার্গেট বড়লোক শিল্পপতিদের মেয়েরা। বিয়ের কথা পাকা হতেই বন্দুকের নিশানায় রেখে 'যৌতুক' লুঠ করে পালানো। এই ছিল তাদের কাজের ধরণ। এই অনবদ্য ডাকাত দলকে অবশেষে বাগে পেল পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে এই যৌতুক লুঠ অপারেশনের মাস্টার মাইন্ড বছj ষাটের এক মহিলা। নাম জাহিদা। জাহিদার দল প্রথম কথা বলতে যেত পাত্রীর বাড়িতে। সেখানে গিয়ে ভাল করে দেখে নিত তাদের অবস্থা, বাড়ি, সম্পত্তি, দামি কী জিনিস রয়েছে বাড়িতে। এরপর বিয়ের পাকা কথা বলতে গিয়ে সদস্যদের বন্দি করে বাড়ি সাফ করে পালাত এই দুষ্কৃতী দল।

পুলিশের অনুমান দিল্লিতে প্রায় ৬জন ব্যবসায়ীকে একইভাবে লুঠ করেছে এই ডাকাতদল। কিন্তু ১২ নভেম্বর দিল্লির আজাদ মার্কেটে ধনী ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে অবশেষে ক্রাইম ব্রাঞ্চের জালে ধরা পড়েছে এই দলের সদস্যরা।
পুলিশ জানিয়েথে, এই দলের ২ মুখ্য সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একজন মহম্মদ সাজিদ (২৬), অন্যজন জাহিদা। জাহিদা পাত্রের ঠাকুমা সাজত। এরা দুজনেই মীরাটের বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ গহনা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
উত্তর দিল্লি পুলিশ স্টেশনে এই অনবদ্য লুঠের এফআইআর দায়ের করতেই পুলিশ তদন্তে নামে। অভিযোগ অনুসারে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ের জন্য এতটি সম্বন্ধ আসে। পাত্র পক্ষ দাবি করে তারা উত্তরপূর্ব দিল্লির বাসিন্দা। ১২ নভেম্বর দুপুরে ছেলের বাড়ির লোকজন বিয়ের কথা পাকা করতে আসেন। পাত্র, সঙ্গে এক মহিলা ও চারজন পুরুষ ছিল।
অতিথিদের অভ্যর্থনা জানিয়ে ঠাণ্ডা পানীয় দেওয়া হয়। এরপর ঠিক যখন কথা প্রায় পাকা হয়ে আসে তখন অতিথিরা হঠাৎ পিস্তল-বন্দুক ও ছুড়ি বের করে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে বাড়িতে। তারপর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বাড়ির সদস্যদের এক কোনে চুপচাপ বসে থাকতে বলা হয়। একটু নড়লে চড়লেই গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর তাদের হাত পা দড়ি দিয়ে বেঁধে, মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়। এরপর সারা বাড়ি তছনছ করে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা নগদ এবং আরও কয়েক লক্ষ টাকার গয়না, মোবাইল, ল্যাপটপ নিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
এরপর পুলিশের কাছে খবর যায়, মীরাটের একটি দল চুরি করা প্রচুর গয়না বের করছে পাচার করে দেওয়ার জন্য। এরপরউ পুলিশ ফাঁদ পাতে দুই অপরাধীকে ধরার জন্য। পুলিশের জেরার মুখে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে সাজিদ ও জাহিদা।












Click it and Unblock the Notifications