বিস্ফোরক–ভর্তি এসইউভিকে এসকর্ট করে আম্বানির বাড়ির সামনে নিয়ে যায় সচিন বেজ
আম্বানি বোমাতঙ্ক কাণ্ডে নয়া তথ্য
আম্বানি বোমাতঙ্ক কাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য সামনে নিয়ে আসছে এনআইএ। এনআইএর তদন্তে উঠে এসেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ধৃত সচিন বেজ সাদা রঙের একটি গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যায়, যা এসইউভি গাড়িটির পেছনে ছিল এবং ওই বিস্ফোরক–ভর্তি এসইউভি গাড়িটি মুকেশ আম্বানির বাড়ির সামনে রাখা হয়। এনআইএ তার রিমান্ড রিপোর্টে এই তথ্য জানিয়ে তা রবিবার পেশ করেছে আদালতে। আম্বানি বোমাতঙ্ক কাণ্ডে ধৃত পুলিশ অফিসারের ১২ দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আম্বানির বাড়ির কাছে সচিন বেজ
এনআইএর তদন্তে দেখা গিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে বেজকে সনাক্ত করা গিয়েছে, যার পরনে ছিল সাদা রঙের লম্বা কুর্তা ও মুখ ঢাকা ছিল। আম্বানির বাড়ির সামনে স্করপিও গাড়িটি পার্ক করার কিছুঘণ্টা আগে বেজকে ওই এলাকায় দেখা গিয়েছে। এনআইএ আইজি অনিল শুক্লা জানান, স্করপিও গাড়ির ভুয়ো নম্বর প্লেট আসলে বেজের ব্যবহার করা কালো মার্সিডিজ গাড়ির। দক্ষিণ মুম্বইয়ের পার্কিং লট থেকে মঙ্গলবার ওই মার্সিডিজ গাড়িটি ঢাকা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হয়। গাড়ির ভেতর ছিল বেশ কিছু পোশাক, ৫ লক্ষ টাকা নগদ, টাকা গোনার মেশিন ও কেরোসিন তেল।

মনসুখ ও বেজের সাক্ষাত
এনআইয়ের তদন্তে এও উঠে এসেছে যে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ধৃত সচিন বেজ দক্ষিণ মুম্বইতে দেখা করেন থানের অটো ডেকর দোকানের মালিক মনসুখ হিরেনের সঙ্গে, এর ঠিক আটদিন পরই মুকেশ আম্বানির বাড়ির সামনে বিস্ফোরক-ভর্তি এসইউভি গাড়ি উদ্ধার হয়, যে গাড়িটি ব্যবহার করতেন হিরেন। ৫ মার্চ মনসুখ হিরেনের দেহ খাঁড়ি থেকে পাওয়ার আগে তিনি পুলিশকে জানিয়ে ছিলেন যে ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর স্করপিও গাড়িটি চুরি হয়ে যায়। যদিও এনআইএ সন্দেহ করছে যে ১৭ ফেব্রুয়ারি হিরেনের সঙ্গে বেজের দেখা হওয়ার দিনই হিরেন গাড়ির চাবি তাকে দিয়ে দেয়। তারা দু'জনে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস ট্রেন স্টেশনের কাছে দেখা করেছিল, যার অদূরেই মুম্বই পুলিশের সদর দফতর। বিশেষ আদালতে এনআইএ বেজকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদনে জানিয়েছিল যে আম্বানির বাড়ির বাইরে এসইউভি উদ্ধার কাণ্ডে জড়িত রয়েছে বেজ। হিরেন ও বেজের দেখা হোয়ার দিন ঠিক কি কি ঘটেছিল তা জানতে এনআইএ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে।

স্করপিও চুরি?
১৭ ফেব্রুয়ারি হিরেন ভিখরোলি পুলিশের কাছে তাঁর স্করপিও চুরির অভিযোগ জানান। অভিযোগে তিনি জানিয়েছিলেন যে গাড়ির ব্রেকডাউনের জন্য তিনি তা রাস্তায় পার্ক করে রেখেছিলেন, সেই সময় চুরি হয়ে যায়। কিন্তু এনআইও গাড়িটি খতিয়ে দেখার পর গাড়ির চাবির জায়গায় কোনও আঁচড় দেখতে পায় না, যা ইঙ্গিত করে গাড়িটি ভাঙা হয়নি। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এনআইএ সন্দেহ করছে এসইউভির চাবি বেজ এমন কাউকে দিয়েছিল যে ভিখরোলি থেকে বেজের থানের আবাসনের মধ্যে এনে পার্ক করে রাখে আম্বানির বাড়ি যাওয়ার আগে পর্যন্ত।

তিনটে ঘটনা একসূত্রে গাঁথা
মঙ্গলবার এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম রিপোর্ট করে যে সচিন বেজের মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ইন্টালিজেন্স ইউনিট গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, বোমাতঙ্ক কাণ্ডের ২ দিন পর, থানের আবাসনের সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে যায়। এনআইএ দাবি করেছে হিরেনের ভিখরোলিতে অভিযোগ, তাঁর মৃত্যু ও বোমাতঙ্ক কাণ্ড এই তিনের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। যদিও প্রথম দু'টি মামলার তদন্ত করছে এটিএস এবং এনআইএ শুধুমাত্র বোমাতঙ্ক কাণ্ডে তদন্ত চালাচ্ছে।

বেজকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এনআইএ
এনআইএ তার আবেদনে এও জানিয়েছে যে বেজের সহ-ষড়যন্ত্রকারীকে সনাক্ত করা ও তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। বেজের সঙ্গে প্রভাবশালীদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, যাঁরা এই মামলায় বারংবার হস্তক্ষেপ করবে। এছাড়াও বেজের পূর্ব ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে সে আগেও বহু মামলায় সাসপেন্ড হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications