প্রথমে সিন্ধিয়া, এখন পাইলটের বিদ্রোহ! কংগ্রেসে আরও সাইডলাইন করে দিল রাহুল গান্ধীকেই?
টিম রাহুল গান্ধীর অন্ত কি খুব শীঘ্র আসতে চলেছে? গত কয়েকদিন ধরে রাজস্থানের রাজনীতির উথালপাথালে এই প্রশ্নই উঠছে বারবার। ৪ মাস আগেই একদা রাহুল ঘনিষ্ট বলে পরিচিত জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়ে সরকার তছনছ করে পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। এরই মধ্যে রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী সচিন পাইলটের এই বিদ্রোহ ঘোষণা আসলে রাহুলের বুকেই ছুরিকাঘাত।

২০১৮-এর সেমিফাইলের ম্যান অফ দ্য ম্যাচকে ব্রাত্য করা হয়
অশোল গেহলোটের তৎপরতায় রাজস্থানে সরকার বেঁচে গেলেও কংগ্রেস শিবিরে ভাঙন ঠেকানো প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি কী করে তৈরি হল? ২০১৮ সালে হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে বিজেপিকে হারিয়ে রাহুল গান্ধী তখন ২০১৯-এর নির্বাচন জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। তবে যেসব সৈনিকদের উপর ভর করে ২০১৮ সালের সেই সেমিফাইনালে জিতেছিলেন রাহুল, সেই সৈনিকদের যোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হন তিনি।

সিন্ধিয়া পর্বের রিক্যাপ
রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী সচিন পাইলট, যাঁকে নিয়ে বিগত কিছুদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে দেশের রাজনীতি, তিনি এখন দিল্লিতে৷ অনেকই মনে করেছিলেন মুখোমুখি আলোচনায় হয়তো তিক্ততার বরফ কিছুটা হলেও গলতে পারে৷ কিন্তু তাঁর সঙ্গে কংগ্রেস সুপ্রিমো সনিয়া গান্ধী বা সেকেন্ড ইন কমান্ড রাহুল গান্ধী কেউই আলোচনায় বসেছেন বলে কোনও খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি৷ এই ঘটনাক্রম অনেককেই সিন্ধিয়া পর্ব মনে করিয়ে দিচ্ছে।

একের পর এক সৈন্য হারাচ্ছেন রাহুল
তবে রাহুল কেন নিজের দলে এভাবে কোণঠাসা হয়ে একের পর এক সৈন্য হারাচ্ছেন? কারণ, কমলনাথ, দিগ্বিজয় বা অশোক গেহলটদের মতো প্রবীণ নেতাদের সরিয়ে কংগ্রেস তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে না। ফলে ৫০ বছর বয়সী 'তরুণ' রাহুল গান্ধীও নিজের তুর্কিদের হারিয়ে দলে আরও একা হয়ে পড়ছেন। এটাই কি তবে তাঁর দলর দায়িত্ব গ্রহণ না করার পিছনে মূল কারণ?

রাজস্থানে পাইলটের স্বপ্নের উড়ান ও ক্র্যাশ
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে কংগ্রেস যখন রাজস্থানে গো হারা হারে, তখন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট থেকে রাজস্থানের সংগঠেন দায়িত্বে আনা হয়েছিল সচিন পাইলটকে। বিগত ৫-৬ বছর ধরে তাঁর কঠোর পরিশ্রমের ফলেই রাজস্থানে ফিরে এসেছিল কংগ্রেস। এহেন সফল এক যোদ্ধাকে তাঁর যোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হন রাহুল। আর এর জেরেই সেই যোদ্ধার শ্রদ্ধাও হারিয়েছেন রাহুল।

একা হয়ে গিয়েছেন রাহুল
একের পর এক সেনা হারিয়ে একা হয়ে গিয়েছেন রাহুল। দলের সভাপতি পদে ফিরে আসা নিয়ে তাই স্পিক টি নট। একবছর আগে কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। এরপরও কংগ্রেস তাঁকে পদে ফেরার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করে গিয়েছে। তবে তিনি রাজি হননি। এই অবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসাবে দলের রাশ ধরেন সনি গান্ধী। তবে একবছর হয়ে গেলেও কংগ্রেসের সভাপদি পদের জন্য আজও নির্বাচের কোনও ইঙ্গিত নেই।

কংগ্রেসের যে স্বপ্ন রাহুল দেখেছিলেন, তা পূরণ করা সম্ভব নয়
দলের নেতৃত্ব দেবেন কে এই নিয়ে, এক বছরেও বিকল্প কাউকে খুঁজে পেল না কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী এখনও ফিরতে রাজি হননি। তাই সেই সনিয়া গান্ধীই ভরসা। দলের সভানেত্রী পদে সনিয়া গান্ধীকেই রাখতে চাইচে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি। এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসতে চলেছে তাঁরা। আসলে কংগ্রেস এখনও মান্ধাতা আমলে আটকে। রাহুল নিজের তরুণ প্রজন্মের দলকে নিয়ে কংগ্রেসের যে স্বপ্ন রাহুল দেখেছিলেন, তা পূরণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

রাহুল এখন দলে একা!
লোকসভা ভোটে কংগ্রেস গো হারা হারার পর সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন রাহুল গান্ধী। কোনওভাবেই তিনি ফিরতে রাজি হচ্ছিলেন না। অশোক গেহলট থেকে কমলনাথ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা তাঁর কাছে এই নিয়ে আবেদন নিবেদন করেছেন। কিন্তু কিছুতেই দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে চান না তিনি এমনই জানিয়েছেন। কারণ একদা তাঁর বিশ্বস্ত সৈনিকরা একে একে বিতশ্রদ্ধ হয়ে দলত্যাগ করছেন।

ফের ক্ষমতা থাকবে সনিয়ার হাতেই
এই পরিস্থিতিতে সনিয়া গান্ধীকেই ফের অন্তর্বর্তী সভানেত্রীর পদে বসাতে চায় দল। সেকারণে সিদ্ধান্ত নিতে শীঘ্রই বৈঠকে বসতে চলেছে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। যদিও এক্ষেত্রে করোনার জন্য ভোটাভুটি করা সম্ভব নয় জানিয়ে সনিয়াকে পদে বহাল করার কথা বলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications