শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের শরীরেই সবথেকে বেশি থাবা বসাচ্ছে করোনা, বলছে গবেষণা
শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের শরীরেই সবথেকে বেশি থাবা বসাচ্ছে করোনা, বলছে গবেষণা
গোটা বিশ্বে বয়স্কদের মধ্যে যেমন করোনা সংক্রমণের হার বেশি তেমনই শ্বাসকষ্টে ভুগছে এমন মানুষেরাই সর্বাধিক করোনার শিকার হচ্ছে। এমনটাই জানা গেল আইসিএমআর কর্তৃক প্রকাশিত একটি গবেষণায়।

শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুক্তভোগী রোগীদের জন্য উদ্বেগ
১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২রা এপ্রিলের সময়সীমায় ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শ্বাসকষ্ট ভোগা রোগীদের মধ্যে ৫৯১১ জনের উপর একটি বিশদ পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষা শেষে দেখা যায় তাদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১.৮% অর্থাৎ ১০৪ জন।

আইসিএমআরের পরীক্ষায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য
উক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় ১৫টি রাজ্যের ৩৬টি জেলার প্রায় ৪০জনের কোনও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ইতিহাস নেই। একইসাথে গত কয়েকমাসে তারা কোনও করোনা পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শেও আসেননি। গবেষকদের মতে, এই অঞ্চলগুলিতে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরু করা উচিত। পরীক্ষায় পজিটিভদের মধ্যে দু'জন করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছেন, একজন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করেছেন এবং ৫৯ জনের সম্বন্ধে এই জাতীয় কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

মহারাষ্ট্রে করোনা পজিটিভ সর্বাধিক
পরীক্ষিত নাগরিক ও করোনা পজিটিভের অনুপাতে বর্তমানে দিল্লি শীর্ষে রয়েছে। এই অনুপাতে দিল্লির হার প্রায় ৫.১%, তেলেঙ্গানায় ৪.২%, মহারাষ্ট্রে ৩.৮% ও অন্ধ্রপ্রদেশে ৩.১%। আইসিএমআরের মতে, নাগরিকদের অসংলগ্ন ভাবে চিহ্নিত করে পরীক্ষার মাধ্যমেই গোষ্ঠী সংক্রমণের আভাস পাওয়া সম্ভব।

অসংলগ্ন ভাবে চিহ্নিত নাগরিকদের পরীক্ষা
পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত রিপোর্ট করা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও অসংলগ্ন ভাবে চিহ্নিত নাগরিকদের মধ্যে ৩.৫% পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। যা ক্রমেই কপালের ভাঁজ আরও চওড়া করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিকদের। এদিকে উত্তরপ্রদেশে এই হার ১.৪%, মধ্যপ্রদেশে ২%। আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও কেরালা, তামিলনাড়ু ও রাজস্থানে এই অনুপাত যথেষ্টই কম। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষিত নাগরিকদের করোনা আক্রান্তদের গড় বয়স ৫৪ বছর এবং ৮৩% পুরুষ এবং ৯১%-এর বয়স চল্লিশের বেশি।

কিভাবে চালানো হল গবেষণা?
প্রাথমিকভাবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করেছেন বা করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছেন এমন নাগরিকদের পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হলেও পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংলগ্ন ভাবে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। প্রথম পদ্ধতিতে ১০৬জনের মধ্যে মাত্র ২জনের পজিটিভ ধরা পড়লেও পরবর্তী ধাপের পরীক্ষায় ২০৬৯ জনের মধ্যে ৫৪ জন পজিটিভ বলে জানা যায়। গবেষকদের মতে, উক্ত পরীক্ষায় যারা নেগেটিভ বলে চিহ্নিত হয়েছে তাঁদের মধ্যে পজিটিভ থাকতেও পারেন। এই তথ্য সামনে আসার পড়েই আরও উদ্বেগ বাড়ছে দেশবাসীর।












Click it and Unblock the Notifications