শরণার্থীদের খুশি মাটি করে রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার পাশ করল সিএএ বিরোধী রেজোলিউশন
কেরল, পাঞ্জাবের পর এবার রাজস্থান। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবনা পাশ করল রাজস্থানের অশোক গেহলোতের কংগ্রেস সরকার। এর আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর খুশি দেখা গিয়েছিল রাজস্থানে থাকা পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের মধ্যে। তবে সেই দিকে নজর না দিয়ে বিজেপি বিরোধিতার স্টান্সে অনড় থেকে এই প্রস্তাবনা পাশের পথেই হাটল রাজস্থান সরকার।

শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ায় রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার
এদিকে সিএএ বিরোধিতা করলেও পাকিস্তানি শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ায় রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার। বাজার দরের থেকে অর্ধেক দামে গেহলত সরকার রাজ্যের রাজধানী জয়পুরে জমি বরাদ্দ করলেন শরণার্থীদের জন্য। জয়পুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় শতাধিক পাকিস্তানি শরণার্থীর জন্য জমির কাগজ তুলে দেওয়া হয়েছে। জমি দেওয়া হয়েছে খুশহার এক্সটেনশন এলাকায়। তবে বিজেপির বিরোধিতা করতে সেই সিএএ বিরোধী পথেই হাটল রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার।

সিএএ নিয়ে উল্লাস দেখা যায় রাজস্থানের বিভিন্ন জায়গায়
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পর উল্লাস দেখা যায় যোধপুর ও রাজস্থানের বিভিন্ন জায়গায় থাকা পাকিস্তানী হিন্দু শরণার্থীদের মধ্যে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে রাজস্থানে থাকা এই শরণার্থীরা খুব কষ্টে থাকতেন। নাগরিকত্ব না থাকার কারণে তাঁরা সাধারণ কোনও সুযোগ সুবিধা পেতেন না। তবে এখন নতুন এই নাগরিকত্ব আইন পাশ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের জীবনে নতুন আার আলো জ্বলেছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন আনার জন্যে বিজেপি নেতা তথা প্রধাধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপির-র সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি জেপি নাড্ডাকে ধন্যবাদ জানাতে দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরের বাইরে ভিড়ও করেন শরণার্থীরা।

সিএএ তাঁরা মানবেন না
১২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে সই করেন রাষ্ট্রপতি। আর এর সাথেই আইনে পরিণত হয় সেটি। তবে এরই মাঝে এই সিএএ তাঁরা মানবেন না বলে জানিয়েছিলেন অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। কেরলের পিনরাই বিজয়ন ও পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো দাবি করেছেন যে তারা তাদের রাজ্যে সিএএ লাগু হতে দেবে না।

বল গড়িয়েছে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত
সিএএ বিরোধী রেজোলইউশন পাশ করেই রাজ্যগুলি থেমে থাকছে না। সিএএকে বিভেদ সৃষ্টিকারী আইন আখ্যা দিয়ে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কেরল ও ছত্তিসগড় সরকার। নাগরিকত্ব আইনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টে মামলা দায়ের করে কেরল সরকার। কেরল প্রথম রাজ্য যারা এই পদক্ষেপ নেয়। সংসদে সিএএ পাশ হওয়ার পরেই এই আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টে জমা পড়েছিল ৬০টি পৃথক আবেদন। সেই আবেদনগুলির ভিত্তিতেই আজ এক যৌথ শুনানি হয় সুপ্রিমকোর্টে। তবে ১৮ ডিসেম্বরের সেই শুনানিতে এই আইনের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া থেকে বিরত থাকে শীর্ষ আদালত।

কেরলে সিএএ বিরোধী প্রস্তাবনা পাশ হয় আগেই
আগের বছরের শেষ দিকে কেরল বিধানসভায় পাশ করা হয় সংশোধন আইন বিরোধী রেজলিউশন। সেখানে সিএএ বাতিলের দাবি করা হয়েছিল। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ ভুলে প্রস্তাব পাশ করিয়েছে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ এবং বিরোধী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। বিধানসভায় একমাত্র বিজেপি সদস্য প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সিএএ নিয়ে প্রতিবাদী রাজ্যগুলিকে বাদ দিয়েই পদ্ধতিতে তারা এগিয়ে নিয়ে যাবে।












Click it and Unblock the Notifications