দেশে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাস, ফিরছে গত বছরের স্মৃতি, কেস বৃদ্ধির কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা
দেশে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাস, ফিরছে গত বছরের স্মৃতি, কেস বৃদ্ধির কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা
এ বছর মার্চ মাস থেকে ফের দেশে দৈনিক করোনা ভাইরাস থাবা বসাতে শুরু করে দিয়েছে। রবিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে যে মহারাষ্ট্র, কেরল, পাঞ্জাব, কর্নাটক, গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশে নতুন আক্রান্ত ৮৩.১৪ শতাংশ। মহারাষ্ট্রে দৈনিক সর্বোচ্চ নতুন কেস ২৭,১৭৬। এরপরই নাম রয়েছে পাঞ্জাব ২,৫৭৮ ও কেরল ২,০৭৮টি নতুন করোনা কেসের ক্ষেত্রে।

বিভিন্ন রাজ্যে করোনা আতঙ্ক গ্রাস করছে
কর্নাটক, গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশে দৈনিক করোনা সংখ্যা রিপোর্ট হয়েছে যথাক্রমে ১,৭৯৮, ১,৫৬৫ এবং ১,৩০৮। ভারতে একদিনে নতুন করোনা ভাইরাস কেস দেখা দিয়েছে ৪৩,৮৪৬, যা এই বছরে একদিনে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে মন্ত্রক। দেশে মোট করোনা ভাইরাসের সংখ্যা দাঁড়িয়ে রয়েছে ১,১৫,৯৯,১৩০। এর পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টা করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯৭ জনের। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ছ'টি রাজ্যে নতুন মৃত্যু হয়েছে ৮৬.৮ শতাংশ। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে (৯২)। পাঞ্জাবে একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। কেরলে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এ বছর দিল্লিতে শনিবার ৮০০টি করোনা ভাইরাস কেস সনাক্ত হয়েছে এবং ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সক্রিয় কেসের সংখ্যা ৩ লক্ষের বেশি
দেশে করোনা ভাইরাস সক্রিয় কেসের সংখ্যা একদিনে ৩,৪০৯ থেকে বেড়ে ৩,১৬৫টিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী, দু'মাস পর পজিটিভিটি হার ১ শতাংশের পর্যায়কে অতিক্রম করেছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, দৈনিক করোনা কেসে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, কর্নাটক, গুজরাত ও হরিয়ানা কেন্দ্রের চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলছে। দেশের মোট সক্রিয় করোনা কেসের সংখ্যা ৩.০৯ লক্ষের বেশি, যা মোট সংত্রমণের ২.৬৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সক্রিয় কেসের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০,৬৯৩টি।

দেশবাসীর কোভিড বিধি মানতে অনিহা
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে দেশে করোনা কেস বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ হল দেশবাসী ধরে নিয়েছেন যে মহামারি শেষ হয়ে গিয়েছে এবং তাঁরা কোভিড-১৯-এর যথাযথ আচরণ মেনে চলছেন না। এইমসের জিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, 'এই বৃদ্ধির একাধিক কারণ রয়েছে, তবে প্রধান কারণ হল মানুষের আচরণে পরিবর্তন এসেছে এবং তাঁরা মনে করছেন যে ।করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শেষ হয়ে গিযেছে। অপ্রয়োজনীয় সফর আরও কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হবে সকলকে।'

সরকারের সব নিয়ম মানতে হবে
নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) ডাঃ ভিকে পাল জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস এখনও রয়েছে, তাই কোভিডের যথাযথ আচরণ মেনে চলা প্রয়োজন। কনটেইনমেন্ট জোনের নিয়ম, আইসোলেশন, করোনার টেস্ট সহ টিকাকরণের সব নীতি মেনে চলতে হবে মহামারিকে শেষ করতে গেলে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে জেলাগুলিতে করোনা ভাইরাস কেসের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বেশি, যোগ্য ব্যক্তিদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে জোর ও অগ্রাধিকার দিতে হবে। দৈনিক নতুন কেস দেখা দেওয়ায় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে জেলায় জেলায় করোনা টেস্ট বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে, যার সংখ্যা কমে গিয়েছিল। এছাড়াও আরটি-পিসিআর টেস্ট বৃদ্ধির ওপরও জোর দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেক পজিটিভ কেসের সংস্পর্শে আসা ২০ জনকে সনাক্ত করে টেস্ট করতে হবে।

কেন্দ্রের চিঠি রাজ্যগুলিকে
অন্যদিকে করোনা সম্পর্কিত যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্র। এই চিঠিতে বলা হয়েছে কনটেইনমেন্ট জোনগুলিতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত চালাতে হবে কড়া নজরদারি। তবে আশার বিষয়, দেশজুড়ে চলছে টিকাকরণ। এখনও পর্যন্ত টিকা পেয়েছেন ৪ কোটি ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯২ জন দেশবাসী। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, করোনা সম্পর্কিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব। কিন্তু সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে পর্যাপ্ত সতর্ক থাকতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications