সংরক্ষণ নিয়ে পটনা হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত! ধাক্কা খেল বিজেপি সমর্থিত নীতীশ সরকার
বিহারে সংরক্ষণ নিয়ে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার বড় ধাক্কা খেল। বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট ইবিসি, এসসি, এসটিদের জন্য ৬৫ শতাংশ সংরক্ষণ বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। প্রসঙ্গত বিহার সরকার অনগ্রসর শ্রেণি, অত্যন্ত অনগ্রসর শ্রেণি, তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করেছিল। সেই সিদ্ধান্তই এদিন বাতিল বলে ঘোষণা করেছে পটনা হাইকোর্ট।
পটনা হাইকোর্টে গৌরব কুমার ও অন্যদের আবেদনের শুনানি হয়। দীর্ঘ বিতর্ক চলে প্রধান বিচারপতি কেভি চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্য সরকারের তরফে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন, অ্যাডভোকেট জেনারেল পিকে শাহী। শুনানির পর হাইকোর্ট ২০২৪-এর ১১ মার্চ পটনা হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ করে। এদিন সেই সিদ্ধান্তই ঘোষণা করা হয়।

- রাজ্যের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ
পটনাা হাইকোর্টে বিহার সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। মূলত ২০২৩-এর ৯ নভেম্বর রাজ্য সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়। রাজ্য সরকার তথা নীতীশ কুমারের সরকার এসসি, এসটি, ইবিসি এবং অন্য অনগ্রসর শ্রেণিকে ৬৫ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। বাকি ৩৫ শতাংশ ছিল সাধারণ ক্যাটেগরির প্রার্থীদের জন্য।
- কী বলেছিল রাজ্য সরকার
রাজ্য সরকারের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছিল, ওই শ্রেণিগুলির পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের অভাবের কারণে এই সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার আনুপাতিক ভিত্তিতে এই সংরক্ষণ দেয়নি।
- শুনানিতে যা উঠে এসেছে
শুনানিতে অ্যাডভোকেট দিনু কুমার শুনানির সময় বলেন, সাধারণ বিভাগে ইডব্লুএসদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ বাতিল করা ভারতের সংবিধানের ১৪ ও ১৫(৬)(বি) ধারার পরিপন্থী। তিনি বলেছিলেন, জাত সমীক্ষার পরে সরকারি চাকরিতে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নয়, বর্ণানুপাতিক ভিত্তিতে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেছিলেন, ইন্দিরা সাহানি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশ করেছিল। জাত সমীক্ষার বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এই ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
তবে পটনা হাইকোর্টের এদিনের রায়ে সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে।
যদিও এব্যাপারে নীতীশ কুমার, তার দল জেডিইউ কিংবা বিহার সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications