লকডাউনের জেরে দেশজুড়ে বন্ধ কলকারখানা, ফাঁকা রাস্তা! তেলের চাহিদা কমল কতটা?
করোনা ভাইরাসের জেরে দেশে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এই সংক্রমণ কমার কোনও নামই নিচ্ছে না। সেই সংক্রমণ রুখতে ২১ দিনের লকডাউনের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে তাও করোনা সংক্রমণের হার লাগাম ছাড়াচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। এই অবস্থায় রাস্তা পুরো ফাঁকা। বাস চলছে না। উড়ান আপাতত বন্ধ। প্রাইভেট গাড়ির গতিবিধিও খুব সীমিত। এহেন অবস্থায় দেশে অভাবনীয় হারে কমে গিয়েছে তেলের চাহিদা।

দেশে ৭০ শতাংশ চাহিদা কমেছে তেলের!
এমনিতে তেলের চাহিদার নিরিখে ভারত বিশ্বে তৃতীয় স্থানে। তবে লকডাউনের জেরে যে ভাবে কলকারখানার চাকা, সব স্তব্ধ, তাতে তেলের চাহিদা কমেছে ব্যাপক হারে। সাধারণ অবস্থায় দেশে যে পরিমাণ তেল লাগত, এখন লাগছে তার ৭০ শতাংশ কম।

বিপদে পড়েছে জ্বালানি তেল শিল্প
এদিকে এর জেরে বাকি বহু শিল্পের মতো বিপদে পড়েছে তেল শিল্প। তারা উৎপাদন যথেষ্ট কমিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। তেল শিল্পের তরফে ধরে নেওয়া হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল লকডাউন শেষ হবে। যদি তার বেশি সময় ধরে লকডাউন চলে তাহলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।

কতটা তেল খরচ হচ্ছে এখন?
জানা যাচ্ছে, গত বছর এই সময় এক মাসে দেশে যে পরিমাণ তেল খরচ হত, গত এক মাসে হয়েছে তার চেয়ে ৫০ শতাংশ কম। এখন ভারতে গাড়ি চলছে খুবই কম। কেবল পণ্যবাহী গাড়িগুলি যাতায়াত করছে। এর ফলে তেল লাগছে আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ। তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা জানিয়েছে, দেশে জ্বালানির চাহিদা কমেছে ৯০ শতাংশ।

ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য
এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সঞ্জীব সিং বলেন, 'সাধারণত আমাদের যে চাহিদা থাকে, এখন তার থেকে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম আছে। লকডাউন উঠলে চাহিদা নিশ্চই বাড়বে। কিন্তু মহামারীর আগে যে চাহিদা ছিল, সেই স্তরে হয়ত ফিরবে না।'

২০১৯ সালের তুলনায় কোথায় দাঁড়িয়ে তেলের চাহিদা?
২০১৯ সালে ভারতে প্রতিদিন ৪৪ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল লাগত। তার মধ্যে ছিল ৬ লক্ষ ৯০ হাজার ব্যারেল গ্যাসোলিন ও ১৮ লক্ষ ব্যারেল ডিজেল। তবে ভারতে এখন প্রতিদিন সেই পরিমাণ থেকে ৩১ লক্ষ ব্যারেল তেল কম ব্যবহার হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications