৩০ হাজার ভ্যাকসিন ডোজ কিনেও বিতর্ক এড়াতে তা সরকারকে ফেরত দিল পাঞ্জাবের ম্যাক্স হাসপাতাল
৩০ হাজার ভ্যাকসিন ডোজ কিনল পাঞ্জাবের ম্যাক্স হাসপাতাল
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভের সময় টিকাকরণে ব্যাঘাত ঘটার অন্যতম কারণ হল ভ্যাকসিনের ঘাটতি। যার জন্য কেন্দ্র–রাজ্য তরজা তুঙ্গে চলছে। ইতিমধ্যেই সরকারের কাছ থেকে পাঞ্জাবের ৪০টি হাসপাতালের জন্য ৪২ হাজার কোভ্যাকসিনের ডোজ কেনা হয়েছে, যার অধিকাংশ কিনেছে মোহালির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, এই হাসপাতাল ৩০ হাজার ভ্যাকসিন কিনেছে। তবে এ নিয়ে বিতর্ক দানা বাধায় সেই ভ্যাকসিন ডোজ ফেরত দিয়ে দিয়েছে ম্যাক্স হাসপাতাল। প্রসঙ্গত, বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ভ্যাকসিন ফেরত দেওয়ার আদেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

অন্যান্য হাসপাতালগুলি ক্রয় করেছে
সূত্রের খবর, ৩৯টি অন্য হাসপাতাল ১০০ থেকে ১০০০ ডোজের মধ্যে ভ্যাকসিন কিনেছে। এর মধ্যে সরাসরি ১০০০টি ভ্যাকসিন কিনেছে লুধিযানার দয়ানন্দ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। মোহালির ফর্টিস হাসপাতাল যদিও কোনও ভ্যাকসিনের অর্ডার দেয়নি।

৫০ শতাংশ কিনেছে ম্যাক্স ও ফর্টিস
ন'টি কর্পোরেট হাসপাতালগুলির মধ্যে ম্যাক্স হেল্থকেয়ার ও ফর্টিস এমন দু'টি গ্রুপ যারা বেসরকারি হাসপাতালের জন্য ভ্যাকসিন কোটার ৫০ শতাংশই কিনেছে। তালিকার দ্বিতীয় নম্বরে রয়েছে ম্যাক্স, যারা তাদের ছ'টি শহরের হাসপাতালের জন্য ১২.৯৭ লক্ষ ডোজ কিনেছে। শুক্রবার পর্যন্ত কোভা অ্যাপে ভ্যাকসিন ক্রয়ের এই তথ্য আপলোড করার পর ভ্যাকসিন বিক্রি সম্পর্কিত পূর্ববর্তী আদেশ সরকার প্রত্যাহার করার পরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ম্যাক্স হাসপাতালের মুখপাত্র মুনীশ ওঝা জানিয়েছেন যে প্রত্যাহারের নির্দেশ আসার পর তারা সরকারকে ভ্যাকসিন ফেরত দিয়ে দেয়। তিনি বলেন, 'আমরা ভ্যাকসিন ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। এটাই আমি বলতে চাই।'

ভ্যাকসিন কেনার আমন্ত্রণ
শোনা গিয়েছে যে ভ্যাকসিন বিক্রির ফাইলটিতে সই করেছিলেন শীর্ষ ও শহরের বড় বড় সার্জনরা, যাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং তাঁদের থেকে নির্দেশ নেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের ভ্যাকসিন সংক্রান্ত নোডাল অফিসার বিকাশ গর্গ জানিয়েছেন যে সরকারের থেকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য হাসপাতালগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা ভ্যাকসিন সরবরাহ করছি। কিছু হাসপাতাল বেশি করে ভ্যাকসিন চাইছে আবার কিছুজনের চাহিদা কম।'

একসপ্তাহে ৬০০ জনকে টিকা
এই ৪০টি বেসরকারি হাসপাতাল এক সপ্তাহে মাত্র ৬০০ জনকে ভ্যাকসিন দিতে পেরেছে। সরকারি সূত্রের খবর, সরকারী সূত্রগুলি জানিয়েছে যে বিদেশে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাজ্যে কোভিশিল্ডের পক্ষে অগ্রাধিকারের আগ্রহের অভাব ছিল। শীর্ষ এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, 'রাজ্যের অনেক মানুষ অনুরোধ করেছেন যে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের টিকাকরণের পর বিদেশে পাঠাতে চান সেই কারণে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে ভ্যাকসিন বেসরকারি হাসপাতালকেও দেওয়া হবে।' সরকারি কর্মকর্তার কথায়, 'ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারকরা বেসরকারি হাসপাতালে কোভ্যাকসিন ১,০৪০ টাকায় বিক্রি করছে। রাজ্য সরকার সেগুলি ৪২০ টাকায় পাচ্ছে।'












Click it and Unblock the Notifications