• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা কোনও ছবিই গলাকাটা দামে বিক্রি হয়নি, ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে জানালেন মুকুল রায়

মুখ্যমন্ত্রী কোনও আঁকা ছবিই গলাকাটা দামে বিক্রি হয়নি, ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে জানালেন মুকুল রায়
কলকাতা, ২৮ এপ্রিল : রবিবার শ্রীরামপুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আঁকা ছবি ১.৮৩ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ করে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন মোদীকে 'গুজরাতের কসাই' মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হয়নি তৃণমূল। মোদীর এক প্রশ্নে ঘুম ছুটেছে দলের। আর তাই তো সোমবার সকালেই নিজেদের সাফাই গাইতে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।

ক্ষুব্ধ মুকুল রায় নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করে বলেন, মোদী রাজনৈতিক শালীনতা ভুলে ব্যক্তিগত আক্রমণে নেমেছেন। মোদী বলছেন, দিদি নিজের আঁকা ছবি ১.৮ কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন এবং সে টাকা পকেটস্থ করেছেন। ওনাকে একথা প্রমাণ করে দেখাতে হবে, নয়তো ওঁর বিরুদ্ধে আমরা মানহানির মামলা করব। আর নয়তো উনি নিজের মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চান।

মমতার ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে মুকুল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সততা, ঐক্যের প্রতীক। উনি নিজের বই বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছেন তার সবটাই অভাবগ্রস্ত মানুষদের দিয়ে সাহায্য করেছেন। তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলা দিদির আঁকা কিছু ছবি নিয়ে প্রদর্শনী করেছিল। সেখান থেকে যা টাকা উঠেছিল তা রাজ্য সরকারের ত্রাণ তহবিলে এবং কিছু টাকা নির্বাচনী কাজে লাগানো হয়েছে। কিন্তু কোনও ছবিই গলাকাটা দামে বিক্রি করা হয়নি। যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সর্বৈব মিথ্যা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। গতকালের নরেন্দ্র মোদীর বক্তৃতা নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মুকুল রায়।

'নিজের মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চান, নয়তো মোদীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব'

একইসঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর দিকেও আঙুল তোলেন তৃণমূল নেতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এনডিএ জমানায় যখন ইউটিআই কেলেঙ্কারি হয়েছিল তখন মোদী কোথায় ছিলেন? সে টাকাই বা কোথায়? বালকো কেলেঙ্কারি নিয়েও একই প্রশ্ন মুকুলবাবুর। মোদীকে দাম্ভিক বলে মন্তব্য করেন মুকুল। তিনি বলেন, ওঁর হাতে রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। উনি এখন থেকেই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী বলে ভাবতে শুরু করেছেন। আমরা ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। মুকুলবাবু বলেন, প্রত্যেক পয়সার হিসাব তাঁদের কাছে রয়েছে। সমস্ত তহবিলের টাকা খরচ ও জাগো বাংলার বিজ্ঞাপনের সমস্ত খরচের হিসাব তাঁরা দিতে পারেন।

এদিকে তৃণমূলের ওয়েবসাইটেও নরেন্দ্র মোদীর বিদ্রূপের জবাবে অভিযোগ খণ্ডানোর পথে না গিয়ে মোদীর দিকেই এক রাউন্ড কাদা ছোঁড়া হয়েছে। গুজরাতের দাঙ্গাবাজ মুখ্যমন্ত্রীর কুৎসার জবাব শীর্ষক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে :

মোদী : পুলিশকে অপব্যবহার করে বিরোধীদের নামে মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে

তৃণমূল: গুজরাত সরকার এনকাউন্টার কিলিংএর জন্যে বিখ্যাত। সোহরাবউদ্দিন, কৌসরবেন দের কি মোদী ভুলে গেছেন?

মোদী: মমতার ছবি এত টাকা দিয়ে কেন কেনা হলো?

তৃণমূল: যে গুজরাত সরকার এক একর জমি এক টাকায় বিক্রি করে, তারা কি বুঝবে জিনিসের মূল্য?

মোদী: বাংলা সরস্বতীর ভূমি। সেখানে কেন মা সারদার নামে চিট ফান্ড বানালেন?

তৃণমূল: গুজরাত গান্ধীর জন্মস্থান ও কর্মভূমি। মোদী সেটাকে হিংসার আর দাঙ্গার জমিতে পরিনত করেছে।

মোদী: মমতা শুধু দিল্লির কুর্সির কথা ভাবছেন।

তৃণমূল: মোদীজি, আপনাকে দেখে তো এমন লাগছে যেন আপনি কুর্সিতে বসেই পড়েছেন।

মুকুল রায়ের পর এদিন বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রও। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বেতন নেন না, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন না। মোদীর ঔদ্ধত্য সর্বজনবিদিত। যাঁর হাতে গুজরাতের দাঙ্গার রক্ত লেগে তিনি দিদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। মোদী নিজের গুজরাত মডেল নিয়ে মানুষকে কেমন ভুল বোঝাচ্ছে তার ঝলক মুখ্যমন্ত্রী নিজের বক্তৃতায় দিয়েছেন। আর কিছুদিনের মধ্যে আমরা এ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ নিয়ে আসব। নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক আক্রমণ অত্যন্ত নিম্নমানের। ওর জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের মতে, দেশে যাই করুক না বাংলায় তৃণমূলই শেষ কথা ভেবে এতদিন খুশী ছিল শাসক দল। কিন্তু বাংলায় নরেন্দ্র মোদীর ৩টি জনসভা দেখিয়ে দিয়েছে মোদী হাওয়া দেশের সঙ্গেও বাংলাতেও ঢুকে পড়েছে। আর তাতেই কিছুটা খেই হারিয়েছে মমতার দল। তাই নিজের অধিকাংশে জনসভায় কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা বানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে অবশ্য নরেন্দ্র মোদীর খুব একটা কিছু ক্ষতি হয়নি। কিন্তু মোদীর এক প্রশ্নেই তল হারানোর ভয় পেয়েছে তৃণমূল। এতদিন যে সারদা নিয়ে রাজ্যের কংগ্রেস আর সিপিএমই তৃণমূলকে আক্রমণ করছিলেন, মোদী হাওয়ায় পাল দিয়ে মোদী সেই ইস্যুর বিস্তৃতি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই রাত পোহাতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে তৃণমূল।

English summary
No painting was sold for exorbitant prices : Mukul Roy
For Daily Alerts
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more