নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী মুখ, কিন্তু মোদীর নামেই বিহারের নির্বাচন লড়বে বিজেপি
নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী মুখ, কিন্তু মোদীর নামেই বিহারের নির্বাচন লড়বে বিজেপি
বিশ্বজুড়ে মহামারির পাশাপাশি বিহার লড়ছে বন্যা পরিস্থিতির সঙ্গেও। প্রত্যেক পাঁচ বছর অন্তর অন্তর রাজনৈতিক দলগুলির মুখ থেকে 'বিকাশ’ নামক প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের আগে আগে ঠিক শোনা যায়। তবে বিহারের মতো পূর্ব রাজ্যে বন্যা ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার ও ত্রাণের প্রচেষ্টা বছরের শেষে ভোটদানের মূল কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আরজেডির সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীকে
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা ময়দানে নেমে কাজ করছে, এই দ্বৈত সমস্যার দ্বারা প্রভাবিতদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনার মধ্য দিয়ে কেন্দ্র যে বিনামূল্যে রেশন বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ব্যাপকভাবে পরিস্থিতি বদল করবে।' বন্যায় বিধ্বস্ত মানুষদের দেখতে না যাওয়ার জন্য রাজ্যের বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর পক্ষ থেকে ক্রমাগত আক্রমণ করা হচ্ছে নীতীশ কুমারকে। বিশেষ করে তেজস্বী কুমার জানিয়েছেন যে মুখ্যমন্ত্রী সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিজেপি সভাপতি বলেন, ‘আরজেডি নেতারা জনগণের কাছে গিয়ে জানিয়েছেন যে তারা ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৫ সালের শাসনকালের বিকাশের পুনরাবৃত্তি দেখতে চান। এটা খুবই দুঃখের বিষয় যে তারা অতীতের ছায়া থেকে বেড়িয়ে আসতে অক্ষম হয়েছেন।'

লালু যাদব কোনও ফ্যাক্টর নয়
অনেকের মতে, দলের সুপ্রিমো লালু প্রসীদ যাদব জেলে থাকার জন্য দলের দুর্দশা আরও করুণ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা বলেন, ‘যদি তিনি জেল থেকে বের হয়ে দলের প্রচারের নেতৃত্ব দিতেন তবে সম্ভবত এটি অন্যরকম গল্প হত।' তিনি আরও বলেন, ‘লালু ২০১০ সালে হেরে যান, তারপরও আরজেডি ২০টি আসন পেয়েছিল। ২০১৫ সালে তারা জয়ের জন্য জনতা দল (একতা)-এর ঘাড়ে চেপেছিল। তাই লালু যে খুব গুরুতর কারণ তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।'

বিহারে বিজেপির প্রস্তুতি তুঙ্গে
বিহারের বিজেপি ইউনিট নির্বাচনে লড়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে। কারণ এ বিষয়ে তারা কোনও বিলম্ব চায় না। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়েই বিহারে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। রাজ্যে ১৫ বছরের সরকার ও কেন্দ্রে ৬ বছরের শাসনকাল, বিজেপি গ্রামে, কৃষকদের, দরিদ্র, মহিলা, যুব সমাজ প্রভৃতিদের জন্য কাজ করে আত্মবিশ্বাসী জেতার ব্যাপারে। বিজেপি আরও একবার প্রমাণ করতে সফল হয়েছেন যে ‘সবার সঙ্গ, সবার বিকাশ' এখন ‘সবার বিশ্বাস'-এ পরিণত হয়েছে।

নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীর মুখ
বিহারের পশ্চিম চম্পারনের সাংসদ জয়সওয়াল জানিয়েছেন তাঁর দল খুব স্পষ্ট করে বলেছে যে তারা জেডি (ইউ)-এর সঙ্গে একজোট হয়ে লড়বে বিহার নির্বাচন এবং জোটের মুখ হবে নীতীশ কুমার। তিনি বলেন, ‘নীতীশ জি আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ। যদিও আমরা বিহারের বিধানসভা নির্বাচন লড়ব প্রধানমন্ত্রী মোদীর নামে। তাঁর অনুকরণীয় নেতৃত্ব এবং জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা দেশবাসীর পক্ষে কথা বলে।'

ভার্চুয়াল প্রচার
এ বছরের বিহার নির্বাচনের প্রচার অন্যান্যবারের মতো সহজ হবে না কারণ নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপ রয়েছে। প্রতিষেধকও আগামী বছরের আগে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বিহারের মতো রাজ্যে ভার্চুয়াল প্রচার একটু দূরের ভাবনা হতে পারে। কারণ কিছু গ্রামে এখনও ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু হয়নি। তাঁর দল অবশ্য কিছু বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চেষ্টা করে চলেছে। জয়সওয়াল নিজেই মার্চের মাঝামাঝি থেকে ভার্চুয়াল সংযোগের উপর জোর দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দলের সভাপতি জে পি নাড্ডা সম্প্রতি ডিজিটাল সমাবেশগুলির মূল সাফল্য প্রয়োজনীয় প্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বড় কোনও রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করা এই পরীক্ষার সময়ে অসম্ভব বিষয়। আমরা একগুচ্ছ ভার্চুয়াল সমাবেশের আয়োজন করব এবং বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রচার করার দিকটিও আমাদের তালিকায় রয়েছ।'












Click it and Unblock the Notifications