কেরলে নিপা ভাইরাসের ত্রাস জারি! মৃতের সংসর্গে আসা ১১ জনের উপসর্গ প্রকট
নিপা ভাইরাস নিয়ে ত্রাস জারি। সোমাবার কেরলের স্বাস্থ্য মন্ত্রেকরে রিপোর্ট অনুযায়ী, কেরলে আরও একজনের দেহে মিলেছে নিপা ভাইরাসের চিহ্ন। এদিকে, যে ১২ বছরের বালক নিপা দংশনে কেরলে প্রাণ হারিয়েছে, তার সংসর্গে আসা ১১ জনের দেহে ধীরে ধীরে আসতে শুরু করেছে নিপার উপসর্গ। ফলে করোনা আতঙ্কের মধ্যেই কার্যত ত্রস্ত গোটা কেরল।

একদিকে কেরলে প্রবল হারে বেড়েছে করোনা সংক্রমণের প্রভাব, অন্যদিকে, এক ১২ বছর বয়সী বালকের দেহে নিপা ভাইরাসের আক্রমণে তাঁর মৃ্ত্যু ও তারপর সেই বালকের সংস্পর্শে আসা ১১ জনের মধ্যে নিপা ভাইরাসের উপসর্গ শুরু হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এদিকে, উপসর্গ ঘিরে সন্দেহভাজনদের কোঝিকোডের মেডিক্যাল কলেজে নমুনা পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনা থেকে ২৫১ জনের কন্টাক্ট লিস্ট তৈরি করা হয়েছে। যার মধ্যে ১২৫ জন স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছেন। এঁদের মধ্যে ৫৪ জন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির তালিকায় রয়েছেন। আপাতত ৩৮ জনকে হাসপাতালে আলাদা করে বেডে রাখা হচ্ছে। কেরলে যেখানে শুরু থেকেই করোনার প্রবল দংশন জারি হয়েছে, প্রতিদিনই প্রায় ৩০ হাজার জন আক্রান্ত হচ্ছেন করোনার জেরে, সেখানে নিপার নতুন দংশন কার্যত ভয়ের সঞ্চার করেছে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে।
যে বাড়িতে নিপা ভাইরাসের জেরে বালকটি মারা গিয়েছে, সেখানে একটি লেক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই জলাশয় বারবর বহু বাদুর ঘোরাফের করে। বালকের মায়েরও প্রবল জ্বর শুরু হয়েছে। এমনকি বাড়িতে থাকা ছাগলের মধ্যেও দেখা গিয়েছে নিপার দংশন। সন্দেহভাজন পশুপাখি থেকেও নেওয়া হয়েছে নমুনা।এদিকে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইতিমধ্যেই ভোপাল থেকে এনআইভির একটি দল সেখানে গিয়েছে। তারা জানিয়েছে গোটা পরিস্থিতির ওপর তারা কড়া প্রহরা রাখছে। তবে তাঁরা মনে করছেন যে এই সমস্যা হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়নি। সরকারের দাবি, কার্যত নিপার দাপট তারা ধীরে ধীরে কমতির দিকে নিয়ে আসার পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন। কেরলে যাঁরাই এনসেফালাইটিসের সমস্যায় আক্রান্ত, তাঁদের দিকেই বেশি করে নজর দেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন নিপা ভাইরাসের বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রেও করোনার মতে করেই সন্দেহভাজনদের আলাদা করে রাখার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।
মূলত, করোনাকালে নিপার দংশন থেকে কেরলকে রক্ষা করতে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং এর উপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বারবার ফিল্ড ওয়ার্কারদের এক্ষেত্রে কন্টাক্ট ট্রেসিং ঘিরে পদক্ষেপ নিতে। প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালে নিপা ভাইরাসের দংশনে প্রবলভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে কেরল। সেই বছর নিপার দংশনে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর আসে। উল্লেখ্য এই রোগটি বাদুর বাহিত রোগ। কোনও ফল যা বাদুর খায়, তা থেকে ছড়িয়ে যায় এই রোগ।












Click it and Unblock the Notifications