• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

করোনা সঙ্কটে কেরলে নতুন ট্রেন্ড এনআরইজিএস, ইঞ্জিনিয়ার থেকে স্নাতক কাজ করতে ইচ্ছুক এই প্রকল্পে

গত সপ্তাহে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণকুমার কে পি জাতীয় গ্রামীন কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্পের (‌এনআরইজিএস)‌ আওতায় পথনামিথিত্তার তোত্তাপুঝারি গ্রামে কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয় এক ডিলারের কাজ হারানোর পর ২৩ বছরের যুবক বলেন, '‌এই কাজটাই উপলব্ধ ছিল এবং আমি চারাগাছও রোপণ করছি।’ করোনা ভাইরাস সঙ্কটের কারণে বহু গ্রামের যুবক শহরে চাকরি খুইয়েছেন। তবে তাঁরাই এখন এনআরইজিএসে নতুন দিশা দেখতে পাচ্ছেন। ‌

শিক্ষিতরাও এই প্রকল্পে কাজ করতে চাইছে

শিক্ষিতরাও এই প্রকল্পে কাজ করতে চাইছে

সরকারিভাবে জানা গিয়েছে, ‘‌কোঝিকোড়ের আজহিয়ুর গ্রামে এই প্রকল্পের আওতায় কাজ করার জন্য পাঁচজন স্নাতক নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন। এই প্রথমবার পুরুষরা এই কাজ করতে চাইছেন। এর আগে এই পঞ্চায়েতে ১,৫৩৭ জন মহিলা কর্মী ছিল।'‌ কাসারগড়ের বেদাদকা পঞ্চায়েতের সভাপতি সি রামচন্দ্র জানিয়েছেন যে যে সমস্ত যুবক কাজ হারিয়েছেন তাঁদের এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করানোর জন্য প্রচার চালানো হয়।

কেরলে নতুন ট্রেন্ড এনআরইজিএস

কেরলে নতুন ট্রেন্ড এনআরইজিএস

কেরলের গ্রামগুলিতে এনআরইজিএস-এর আওতায় বহু বয়স্ক মহিলাদেরকেও কাজ করতে দেখা যায়, উপার্জনের অন্য কোনও রাস্তা নেই দেখে মহিলারা এখানেই কাজ করতে শুরু করেন। কিন্তু গত চার মাস যাবৎ কোভিড সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকে পরিবারে অর্থ ও শহরে চাকরির অভাব দেখা দেয়। সেই সময় গ্রামীন কর্মসংস্থান প্রকল্প একমাত্র নির্ভরযোগ্য জায়গা হয়ে দাঁড়ায় শিক্ষিত যুবদের কাছে। বয়স ও লিঙ্গ নির্বিশেষে তাঁরা এই কাজ করতে চায়। এমজিএনআরইজিএস রাজ্য মিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘‌এখন নতুন ট্রেন্ড দেখা দিয়েছে। সাধারণত, শ্রমশক্তির প্রায় ৯১ শতাংশ মহিলা, যাঁদের বেশিরভাগের বয়সই ৪০ বছর। তবে এখন দেখা যাচ্ছে অনেক তরুণ তরুণীরাও এই প্রকল্পের অন্তর্গত কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে আবার অনেকেই নিজের মায়ের বা পরিবারের অন্য সদস্যের জব কার্ড ব্যবহার করে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন।'‌ সরকারি ভাবে জানা গিয়েছে, ‘‌রাজ্যের ৩০ হাজার পরিবার গত দু'‌মাসে নতুনভাবে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখনও সব জেলা থেকে জব কার্ডের চাহিদা রয়েছে।

এনআরইজিএসে যোগ দেওয়ার কারণ হল

এনআরইজিএসে যোগ দেওয়ার কারণ হল

এই প্রবণতা বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। সেগুলি হল-

১)‌ অনেক গ্রামই কনটেইনমেন্ট জোনের অন্তর্গত। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজ্যে রোজ এনআরইজিএসের উপস্থিতির হার ৬ লক্ষ ছিল গত সপ্তাহে এবং কিছু সপ্তাহ আগে ছিল ৬.‌৪০ লক্ষ। গত বছরের বর্ষার সময় যেটি ছিল ৫-৫.‌৫০ লক্ষে।

২)‌ গত আর্থিক বছর জুড়ে প্রতি পরিবারে চাকরির গড় দিন ছিল ৫৫.৭৩। এ বছর যদিও কোভিড সঙ্কটের কারণে প্রকল্পটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না,তাও ইতিমধ্যে এই সংখ্যাটি ১৮.২৬ এ এসে দাঁড়িয়েছে।

৩)‌ এই আর্থিক বছরে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই পুরো অর্থবর্ষে ৮২টি পরিবার ইতিমধ্যেই একশো দিনের কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছে। অনেক পরিবারই ৬০-৯০ দিনে কাজ সম্পূর্ণ করেছে। এই সীমা সীমা আর্থিক বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পৌঁছেছে।

৪)‌ ৬৫ বছর বা তার ঊর্ধ্বে যাঁদের বয়স কোভিড নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের কাজে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। সেই কারণে দৈনিক কর্মী কম পড়ছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বহু যুবক এগিয়ে আসছেন কাজ করতে।

গ্রামের যুবকদের চাকরি যাওয়ার কারণ

গ্রামের যুবকদের চাকরি যাওয়ার কারণ

এনআরইজিএস ফিল্ড কর্মীরা জানিয়েছেন যে কাজের জন্য বেশিরভাগ জিজ্ঞাসা আসে যাঁরা চাকরিজীবী ছিলেন তাঁদের কাছ থেকে এবং নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের থেকে। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‌অনেক প্রতিষ্ঠান কেবলমাত্র একাংশ শ্রমিক মোতায়েন করছে। গ্রামীণ এলাকায় গণ পরিবহনের অভাব, এমনকী লকডাউনের নিয়ম শিথিল হওয়ার পরও সমস্যা একই ছিল, এছাড়াও শহুরে বাসিন্দারা সহজেই কাজে বা ছোট ব্যবসায় যেতে পারছেন, যে কারণে অনেক গ্রামের যুবক চাকরি হারিয়েছে।'‌ নিজের গ্রামে কাজ পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি, দৈনিক মজুরিও দু'‌সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকদের হাতে চলে আসে। কেন্দ্র দ্রুত টাকা দিয়ে দেওয়ার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। অতীতে এই টাকা দিতে বেশ কয়েকমাস লেগে যেত।

যুব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

যুব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

পথনামিথিত্তার কে বিবিন (‌২৩)‌, যিনি কোচিতে এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চাকরি হারিয়ে বলেন, ‘‌১২ দিনের কাজ করেই আমি হাতে টাকা পেয়ে গিয়েছি। আমি চার দিনের জন্য প্রতিদিন ২৯১ টাকা করে পেয়েছি। এখন, আমার বন্ধুরা যোগ দিতে আগ্রহী।'‌ কৃষ্ণকুমার যিনি স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশোনা করেছেন তিনি বলেন, ‘‌আমার গ্রামের অনেক যুবক এই প্রকল্পে যুক্ত হতে অনিচ্ছুক কারণ এই প্রকল্পটি বয়স্কদের জন্য শেষ আশ্রয়। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতদিন না আমি অন্য কোনও কাজ পাচ্ছি ততদিন আমি এনআরইজিএসের সঙ্গে থাকব।'‌

কৃষি-শিল্পের জোড়া উন্নতিতে বেকারত্বকে হারিয়ে দিয়েছে রাজ্য, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

ভয়াবহ করোনা সংক্রমণ দক্ষিণ কোরিয়ায়! দেগু শহরে অপরীক্ষিতদের মধ্যে সংক্রমণের হার ২৭ গুন বেশি

English summary
‌Unemployed youth of Kerala willing to work under NREGS
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X