• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

মানব পাচার রুখতে আসছে বিল, এতে কী কাজের চেয়ে অকাজই বেশি হবে

বাদল অধিবেশনে আসতে চলেছে অ্যান্টি-ট্রাফিকিং বিল। নারী ও শিশুকল্যান মন্ত্রকের তৈরি এই খসড়া বিলটিকে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভাও। মানব পাচার-এর ক্ষেত্রে প্রতিরোধ, উদ্ধার এবং পুনর্বাসনের লক্ষ্যেই ওই বিল আনা হয়েছে। কিন্তু বেশ কিছু আইনজীবী, যৌনকর্মী, শিশু অধিকার রক্ষা কর্মী, রুপান্তরকামী অভিকার রক্ষা কর্মী ও শিক্ষাবিদ এই বিলটির বিরোধীতা করছেন। তাঁদের অনেকেরই অভিযোগ বিলটি আখেরে যৌন পেশাকে আরও অপরাধমূলক করে তুলবে। বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে তারা আপত্তি তুলেছেন।

পাচার রুখতে আসছে বিল, আছে বিরোধিতা

তাঁরা বলছেন এই আইন এইচআইভি আক্রান্তদের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে। বিলটি জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের মৌলিক বিধির বিরোধী বলে দাবি তাঁদের। কারণ নয়া বিলের এক ধারা অনুযায়ী এইচআইভির সংক্রমণকে অপরাধ হিসেবেই বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিধি বলে, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের অন্যতম বাধা এই রোগ নিয়ে সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্য। তাই বিশ্বজুড়েই এই মারণরোগে আক্রান্তদের পরিচয় গোপন রাখা হয়। ভারতেও এই বিধি অনুসরণ করেই এইডস প্রতিরোধে সামান্য হলেও সাফল্য এসেছে। তাই এইচআইভি রোগকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করলে সেই সাফল্যটুকুও ধরে রাখা যাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবার সব যৌনকর্মীই পাচারের শিকার ও অনিচ্ছায় এই পেশায় যুক্ত তাও নয়। ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর সেক্সওয়ার্কার্স-এর প্রধান নিশা গুলুর জানিয়েছেন, খসড়া বিল পেশর আগে এই বিলের অন্যতম স্টেকহোল্ডার যৌনকর্মাদের কোনও মতাম নেওয়া হয়নি। নিশার দাবি, এই বিল তাঁদের পেশার জগতে বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বিলে বলা হয়েছে যৌনপল্লিতে হানা দিয়ে যৌনকর্মীদের উদ্ধার ও পুনর্বাসন দেওয়ার কথা। এতে মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা হরণকারীদেরই সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন বহু যৌনকর্মীই। তাঁদের মতে অনেক প্রাপ্ত বয়স্ক যৌনকর্মীই আছেন যাঁরা পাচারের শিকার নন। নয়া আইন তাদের স্বাধীনতা হরণ করবে।

কাছাকাছিই বক্তব্য রূপান্তরকামীদের। খসড়া বিল অনুযায়ী রাসায়নিক বা হরমোন প্রয়োগে কারোর যৌন প্রাপ্তবয়স্কতা ঘটানোও অপরাধ বলে গন্য হবে। রূপান্তরকামীরা প্রশ্ন তুলছেন, যাঁরা হরমোন থেরাপি করাতে চান তাদের কি হবে? কারণ বিলে কোথাও বলা নেই রূপান্তরকামী, যারা হরমোন থেরাপি করে তাঁদের দৈহিক সত্ত্বার পরিবর্তন ঘটাতে চান তাদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।

বিলের অন্যতম মুখ্য বিষয় হিসেবে মন্ত্রক তুলে ধরেছিল বাঁধা শ্রমিক ও দোর করে শ্রমদানে বাধ্য করার মতো বিষয়গুলিকে প্রতিরোধ করা। কিন্তু সমাজ কর্মীরা বলছেন শ্রমিক অধিকারের প্রধান তিনটি বিষয় নিয়োগ, মজুরি ও কাজের পরিবেশ - এগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কিছুই হবে না। বিলে কিন্তু এই বিষয়গুলি নিয়ে কোনও উল্লেখ নেই। তাই এটা একপ্রকার চোখে ধূলো দেওয়া ছাড়া কিছুই নয়।

এমনকী শিশু ও নারীদের অধিকার রক্ষাতেও বিলটি কার্যকর হবে না। সমাজকর্মীদের দাবি, আইনপ্রণেতারা বোঝেনই না শিশু অধিকার ও প্রাপ্তবয়স্কদের অধিকারের বিষয়টা আলাদা। পাচারের শিকার হওয়া সবার সুরক্ষার বিষয়টা একপ্রকার হতে পারে না। বিশেষ করে শিশুদের রিহ্যাব হোমে পাঠানোটা খুবই জটিল বিষয়। যাদের বয়স ১৮ ছুঁইছুঁই, তাদের কি হোমে পাঠানো হবে, তাদের প্রাপ্ত বয়স্ক ধরা হবে না শিশু হিসেবেই দেখা হবে - এসব বিষয গুলি রয়েছে। এছাড়া হোমগুলির দেখাশোনার দায়িত্বেই বা কারা থাকবে সেসব বিষয়েও কোনও স্পষ্টতা নেই বিলে।

পাশাপাশি পাচার হওয়া নারীদের অধিকারও এই বিলে কতটা সুরক্ষিত হবে প্রশ্ন আছে তা নিয়েও। কারণ উদ্ধার হওয়ার পর নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে মত প্রকাশের কোনও জায়গা দেওয়া হবে না তাদের। সরকারি নির্দেশ মেনেই চলতে হবে। তাছাড়া শিশু হোক বা নারী তাদের মত না নিয়েই তাদেরকে হোমে পাটানো মানবাধিকারের লঙ্ঘনও বটে।

ভারতে বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার পাচারের বিরুদ্ধে অন্তত ১০ টি আইন চালু আছে। নতুন বিলটি তার সঙ্গে বিশেষ বাড়তি কিছু যোগ করছে না। তাই নতুন করে এই বিলের প্রয়োজনীয়তাই বা কী, এই প্রশ্নটাও তুলছেন বিলের বিরোধীরা।

English summary
New anti trafficking bill will be pitched in the monsoon session, but lawyers activists and sex workers are opposing it.
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X