বেঙ্গালুরুর বিতর্কিত ইদগাহ ময়দানে ৭৬ বছরে প্রথবার উত্তোলন করা হল জাতীয় পতাকা
বেঙ্গালুরুর বিতর্কিত ইদগাহ ময়দানে ৭৬ বছরে প্রথবার উত্তোলন করা হল জাতীয় পতাকা
স্বাধীনতার ৭৬ তম বর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লালকেল্লা থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। সোমবার বেঙ্গালুরুতে বির্তকিত ইদগাহ ময়দানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রথমবারের জন্য জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন করেন উত্তর বেঙ্গারুর মহকুমা আধিকারিক শিবান্না।

সোমবার সকালে বেঙ্গালুরুর এই বিতর্কত ইদগাহ ময়দানকে পুলিশ দুর্গে পরিণত করে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য সেখানে এক হাজার পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। তার মধ্যেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জমির আহমেদ খান, সাংসদ পিসি মোহন সহ কর্ণাটক প্রশাসনের একাধিক আধিকারিকরা। পতাকা উত্তোলনের পর সেখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সাধারণের জন্য প্রশাসনের তরফে ৩০০টি আসন বরাদ্দ করা হয়েছিল। ব্রুহাত বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকের তরফে সাধারণ মানুষকে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
বেঙ্গালুরুর এই বিতর্কিত ইদগাহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখতে পাওয়া যায়। এই ইদগহের ময়দান চত্বরে কেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে না, সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চামরাজপেট সিটিজন ফোরামের সদস্যরা। এই ফোরামের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই বেঙ্গালুরু ইদগাহ ময়দান চত্বরে জাতীয় পতাকা তোলার দাবি জানিয়ে আসছেন। অবশেষে তাঁদের লড়াই স্বার্থক। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই বেঙ্গালুরুর এই বিতর্কিত ইদগাহ ময়দান চত্বরে তোলা হয় পতাকা। বেঙ্গালুরু প্রশাসন এই লড়াইয়ের জন্য চামরাজপেট সিটিজন ফোরামের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।
ওয়াকফ বোর্ড প্রথম থেকে এই বিতর্কিত জায়গাটির অধিকার দাবি করছে। তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বাধা দিয়ে এসেছে। তারা এই চত্বরে যে কোনও ধরনের হিন্দু উৎসবের বিরোধিতা করে এসেছে। চামরাজপেট সিটিজন ফোরাম ও অন্যান্য সংগঠনের হিন্দু কর্মীরা দাবি করেছে, এটি একটি খেলার মাঠ। সেখানে তাঁরা স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবসে পতাকা উত্তোলন ও অন্যান্য জাতীয় উৎসবে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা বিতর্কিত অঞ্চল থেকে ইদগাহ টাওয়ার ভেঙে ফেলারও দাবি জানিয়েছেন। বিতর্ক থামিয়ে বিবিএমপি ঘোষণা করে বিতর্কিত জায়গাটা রাজস্ব বিভাগের সম্পত্তি।
বিবিএমপির তরফে জানানো হয়, ইদগাহ টাওয়ার সহ সব কিছু আগের মতোই থাকবে। তবে বাকি জায়গাটি খেলার মাঠ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিবিএমপির এই ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করে ওয়াকফ বোর্ড। তারা জানায় বিবিএমপির ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে যায়। বিতর্কিত এই অঞ্চলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা প্রয়োজন। বিবিএমপির তরফে পাল্টা জানানো হয়, জমির অধিকারের প্রমাণ দেখানোর জন্য ওয়াকফ বোর্ডকে যথেষ্ঠ সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোনও দলিল পেশ করতে পারেনি। কোনও দলিল না থাকার জন্য বির্তকিত এলাকার সম্পত্তি রাজস্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওয়াকফ বোর্ড বিবিএমপির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আইনি লড়াই শুরু করার হুমকি দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications