নরেন্দ্র মোদী, প্রিয়াঙ্কা চোপড়াদের নাম টিকাকরণ তালিকায়! চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিহারে
নরেন্দ্র মোদী, প্রিয়াঙ্কা চোপড়াদের নাম টিকাকরণ তালিকায়! চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিহারে
এভাবেও যে করোনার টিকাকরণের তথ্যের সঙ্গে জালিয়াতি করা যায় তা না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এঁদের নাম দেখলে আপনি মনে করতেই পারেন যে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানের এঁরা বিশিষ্ট অতিথি, কিন্তু আদপে তা নয়। বিহারের আরওয়াল জেলায় কোভিডের টিকাকরণ তালিকায় এঁদের নাম রয়েছে। তথ্য প্রতারণার একটি মামলায় চমকপ্রদ বিষয়টি সামনে এসেছে।

সম্প্রতি টিকাকরণ পোর্টালে আপলোড করা কার্পি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে টিকা দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা পরিদর্শন করার পরেই দু’জন কম্পিউটার অপারেটরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই তালিকায় একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ঢোকানো হয়েছে, যার মধ্যে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও অক্ষয় কুমারের মত ব্যক্তিদের নাম দেখা গিয়েছে। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তা খুবই লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জে প্রিয়দর্শিনী জানিয়েছেন যে তদন্তে কীভাবে কিভাবে এবং কার নির্দেশে তথ্য জালিয়াতি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'এটা খুবই গুরুতর বিষয়। আমরা করোনা ভাইরাসের টেস্ট ও টিকাকরণ দ্রুত করানোর কঠিন প্রচেষ্টাআ চালাচ্ছি এবং সেই সময় এ ধরনের অনিয়ম ঘটছে। শুধু কার্পিতেই নয়, আমরা সব স্বাস্থ্যপরিষেবা কেন্দ্রই পরিদর্শন করব। এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, আমরা পদক্ষেপ করব এবং একটি নজির গড়ব।’ তিনি জানিয়েছেন যে সাম্প্রতিক পরিদর্শনের সময়ই এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। দু’জন অপারেটরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে তদন্তের মাধ্যমে আরও অনেকে সামনে আসবেন।
বিহারের স্বাস্থ্য মন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডে জানিয়েছেন যে তাঁর বিভাগে ঘটনাটি আসার আগেই দু’জন কম্পিউটার অপারেটরকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমি জেলা শাসক ও মুখ্য মেডিক্যাল অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং নির্দেশ দিয়েছি হাসপাতালের তথ্য খতিয়ে দেখা হোক যাতে সেখানে কোনও ত্রুটি না থাকে। যদি কেউ ভুল করে তবে আইনানুযায়ী তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। আমরা বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। যদি আরও কোনও এ ধরনের কেস সামনে আসে তবে এরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সাংবাদিকরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পাটনায় তথ্য জালিয়াতির আরেকটি ঘটনা সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছিল যেখানে যে লোকেরা তাদের দ্বিতীয় ডোজ পেতে টিকা কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন তাঁদের বলা হয়েছিল যে তাঁরা ইতিমধ্যে উভয় ডোজ পেয়ে গিয়েছে। এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'এগুলি প্রযুক্তিগত বিষয়। এই সিস্টেমে কোনও ত্রুটি হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। যদি কোনও ত্রুটি থাকে তবে দোষীরা রেহাই পাবে না।’












Click it and Unblock the Notifications