Shivraj Washes Dashmat's Feet: শিবরাজ পা ধুইয়ে দিলেন দশমতের, মধ্যপ্রদেশে আদিবাসী ক্ষোভে প্রলেপ বিজেপির?
Shivraj Washes Dashmat's Feet: মধ্যপ্রদেশের এক ঘটনা গোটা দেশে শিহরণ তৈরি করেছে। এক আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের মুখে প্রস্রাব করতে দেখা যায় বিজেপি নেতাকে! এই দৃশ্য দেখে সব মহল গর্জে ওঠে। অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপি।
অভিযুক্ত বিজেপি নেতা প্রবেশ শুক্লাকে গ্রেফতরা করা হয়েছে। আজ ভোপালে নিজের বাসভবনে ওই আদিবাসী শ্রমিক দশমত রাওয়াত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। দশমতের পা ধুইয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এদিন দশমতকে পাশে নিয়ে বলেন, দরিদ্র মানুষজনের মধ্যেই ভগবান থাকেন। এই মানুষজনই আমার কাছে ভগবান। মানুষকে সেবা করা ঈশ্বরকে সেবা করার মতো। আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেকের মধ্যেই ঈশ্বর বিরাজমান। দশমতের সঙ্গে যে অমানবিক ঘটনা ঘটেছে তাতে আমি বেদনাহত।
দরিদ্রদের সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। দশমতের পা ধুইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে মালা ও শাল পরিয়ে দেন শিবরাজ। দশমতকে নিয়ে গিয়ে ভোপালের স্মার্ট সিটি পার্কে বৃক্ষরোপণও করেছেন তিনি। দশমতের পা ধুইয়ে দেওয়ার ছবি শিবরাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।
দশমতের মুখে প্রস্রাব করা বিজেপি নেতা প্রবেশ শুক্লার বিরুদ্ধে ২৯৪ ও ৫০৪ ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু হয়েছে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট অনুয়ায়ীও অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। প্রবেশের মালিকানাধীন সম্পত্তির অনেকটাও গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কয়েক মাস পর যেহেতু ভোট, তাই আদিবাসী-ক্ষোভ প্রশমন করতে মরিয়া বিজেপি।
মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলার কুবরি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। মধ্যপ্রদেশে ভোটারদের ২১ শতাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের। ভিল ও গোণ্ডের পরেই জনসংখ্যার বিচারে রয়েছেন কোল জনগোষ্ঠীর মানুষজন। দশমত কোল জনগোষ্ঠীর। সিধির বিধায়ক কেদারনাথ শুক্লা দাবি করেছেন, প্রবেশের সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। দলীয় কর্মসূচিতে যে কেউ রাজনৈতিক ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেই পারেন।

যদিও কংগ্রেস একাধিক ছবি সামনে এনে দাবি করেছে, অভিযুক্ত প্রবেশ শুধু কেদারনাথের ঘনিষ্ঠ তা নয়, অনেক মন্ত্রীর সঙ্গেই ছবি রয়েছে। আদিবাসী অস্মিতাকে মধ্যপ্রদেশের ঘটনা চরম আঘাত দিয়েছে বলে দাবি করে বিজেপি বিরোধিতায় কোমর বেঁধে নেমেছে কংগ্রেস। বিজেপি মানুষকে মানুষ বলে মনে করে না। আদিবাসীদের উপর নৃশংসতা চালায় বলে সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ।

২৩০ আসনবিশিষ্ট মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় ৪৭টি আসন সংরক্ষিত তফসিলি উপজাতি বা এসটি সম্প্রদায়ের জন্য। ২০১৮ সালে এই আসনগুলির মধ্যে মাত্র ১৫টিতে জেতে বিজেপি, ৩১টিতে কংগ্রেস। যা কংগ্রেসকে সরকার গড়তে সহায়তা করেছিল। এ ছাড়া ৩০টি আসনে তফসিলি উপজাতির ভোট গুরুত্বপূর্ণ।
৩১৩টি ব্লকের ৮৯টি আদিবাসী অধ্যুষিত। ২৯টি লোকসভা আসনের ৬টি এসটিদের জন্য সংরক্ষিত। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এর সবগুলি-সহ ২৮টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এই আবহে মধ্যপ্রদেশের ঘটনায় যাতে আদিবাসী সম্প্রদায় মুখ ফিরিয়ে না নেয়, শিবরাজ সিং চৌহান নিজেই সেই ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা শুরু করে দিলেন।












Click it and Unblock the Notifications