২০০ বছরের পুরনো অস্ত্র কারখানাতেও খুলল বেসরকারিকরণের দরজা, ছাড়পত্র মোদী মন্ত্রিসভার
২০০ বছরের পুরনো অস্ত্র কারখানাতেও খুলল বেসরকারিকরণের দরজা, ছাড়পত্র মোদী মন্ত্রিসভার
মোদী জমানার শুরু থেকেই বিমান হোক বা রেল, একাধিক ক্ষেত্রে খুলেছে বেসরকারিকরণের দরজা। এবার বেসরকারিকরণের ছোঁয়া লাগল প্রায় ২০০ বছরের পুরনো অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডেও। এই অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড বা ওএফবি দেশের ৪১টি অস্ত্র কারখানাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই সংস্থার মাধ্যমেই তৈরি হয় দেশের সিংহভাগ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম। এবার নতুন মোড়কে এই সংস্থারই পুর্নগঠন করা হবে।

বুধবারই প্রস্তাবে সায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার
এদিকে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের পুনর্গঠনের দাবি উঠছিল দীর্ঘদিন থেকেই। অবশেষে এই বুধবারই এই প্রস্তাবে অনুমতি দিল সরকার। বর্তমানে নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী কাজের সুবিধার্থে এখন থেকে এই বোর্ডকে সাতটি আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন করা হবে। প্রতিটিরই দায়িত্ব নেবে সাতটি আলাদা সংস্থা। কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব আনতে এবং এর উত্পাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে সরকারের তরফে এই সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

কী ধরণের সরঞ্জাম তৈরি হয় এই কারখানায় ?
বর্তমানে এই কারখানায় ট্যাঙ্ক, মাইনরোধক গাড়ি, বোম্ব, রকেট, অ্য়ান্টি এয়ারক্রাফট গান, প্যারাসুট, ছোট বন্দুক তৈরি হয়। এখন থেকে গোলাবারুদ, সামরিক সরঞ্জাম, প্যারাশুট সহ অন্যান্য অত্যাধুনিক বিষয় তৈরির উপরেও বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। একইসঙ্গে সামগ্রীর মানোন্নন, ব্যয় সঙ্কোচের দিকটিও দেখা হবে নয়া নীতির হাত ধরেই। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা গোটা পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব হলে অস্ত্রশস্ত্রের ক্ষেত্রে বিদেশি শক্তির উপর নির্ভশীলতা কমিয়ে অনেকটাই আত্মনির্ভর হতে পারবে ভারত।

ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, মত রাজনাথের
ইতিমধ্যেই সরকারের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তবে বেসরকারিকরণ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে আশা-আশঙ্কার দোলাচল তৈরি হলে সেই বিষয়েও আশ্বস্ত করেন তিনি। পাশাপাশি এও জানান নয়া সিদ্ধান্তের ফলে সংস্থার প্রায় ৭০ হাজার কর্মীর উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। কারও কাজ হারানোরও কোনও আশঙ্কা নেই। প্রতিরক্ষা উত্পাদন খাতকে জোরদার করতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।

মোদীর প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরশীলতার উপরেই জোর
এই বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটিই প্রতিরক্ষা খাতের পাবলিক সেক্টর আন্ডারটাকিং (ডিপিএসইউ) এর মতো হবে। প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং ব্যয় দক্ষতার উন্নয়নের বৃহত লক্ষ্য নিয়েই চলবে সামগ্রিক কাজ। এই সাতটি ইউনিটের মধ্যে রয়েছে গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক ইউনিট, যানবাহন গ্রুপ, অস্ত্র ও সরঞ্জাম গ্রুপ, মিলিটারি সাপোর্ট মেটেরিয়াল গ্রুপ, সাপোর্ট গ্রুপ, অপটোলেক্ট্রনিক্স গ্রুপ এবং প্যারাসুট গ্রুপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরশীলতা' দৃষ্টিভঙ্গির উপর জোর দিয়েই চলবে গোটা কর্মযজ্ঞ।












Click it and Unblock the Notifications